প্রকাশ :: ... | ... | ...

আল্টিমেটামেও বন্ধ হয়নি এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা


সংযুক্ত ছবি

* শেকৃবির মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর * বাণিজ্য মেলা বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও বন্ধ করা হয়নি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন বাংলাদেশ সচিবালয়ের জন্য প্রস্তাবিত পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠ। সেই মাঠেই চালু করা হয় এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেলা বন্ধ না হওয়ায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরাতন গবেষণা মাঠে গিয়ে মেলার প্রবেশগেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া এই মেলা পরিচালনার জন্য যে প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বরাদ্দ দিয়েছে, তাতে আপত্তি জানিয়ে গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাতিল চেয়ে অভিযোগ দিয়েছেন এসআরটিসি’র মালিক সৈয়দুর রহমান। কিন্তু তার এ অভিযোগ আমলে না নিয়ে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করেই নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান জে বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও মুন ট্রেডিং করপোরেশন নামে দুটি কোম্পানিকে মেলা বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শেকৃবি শিক্ষার্থীসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকাস্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন। পরে মিছিল নিয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় মাঠ পুনরুদ্ধার ও মেলা বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মেলার প্রবেশগেটসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান। এ সময় এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলার জন্য নির্মিত একটি গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সাদমান কবির বলেন, জে বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও মুন ট্রেডিং করপোরেশন নামে দুটি কোম্পানিকে বরাদ্দ দেওয়া এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা সরিয়ে নেয়ার জন্য গত মঙ্গলবারই আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। এ জন্য সময়ও বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে কোনো অগ্রগতি আমরা দেখিনি। আমরা আমাদের মাঠ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের খালি জায়গায় পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে মাসব্যাপী এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘদিন ধরেই। এ ঘটনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা বিধিভঙ্গ করে এসআরটিসি-কে বরাদ্দ না দিয়ে নাম সর্বস্ব জে বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে মেলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরকারি নিয়মনীতি মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়ে বরাদ্দ না পেয়ে বর্তমান প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাতিল করে পূর্নবিবেচনার দাবি জানিয়ে গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী এসআরটিসি-এর মালিক সৈয়দুর রহমান। অভিযোগপত্রে বলা হয়, যথাযথ সম্মানপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নিয়মাবলী ও বিধিমালা অনুসরণপূর্বক ঢাকা শের-ই-বাংলা নগরস্থ’ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের প্রস্তাবিত সচিবালয়ের মাঠটিতে মেলা আয়োজনের জন্য আইনানুগভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন পেশ করি (কপি সংযুক্ত)। সচিব মহোদয় বরাবরও আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে (কপি সংযুক্ত)। কিন্ত অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় এই যে, আমাদের আবেদনটি বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় এবং আমাদের কোনো প্রকার অবহিতকরণ ব্যতিরেকে আপনার মন্ত্রণালয় হতে অন্য একটি তৃতীয় পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানকে (জে বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও মুন ট্রেডিং করপোরেশন) উক্ত মাঠটি মেলা আয়োজনের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া ও মো. রফিকুল আলম। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও পূর্ববর্তী আবেদনকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পূর্ণ বেআইনি, বৈষম্যমূলক ও নিয়মের পরিপন্থী। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সমগ্র বাংলাদেশের সংসদ সদস্য এবং সকল সরকারি দপ্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের অস্বচ্ছ ও অনিয়মপূর্ণ সিদ্ধান্ত কীভাবে গৃহীত হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয় এবং এটি সরকারি নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছি। এমতাবস্থায়, বৃহৎ জনস্বার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখাতে উক্ত মাঠে মেলা আয়োজনের জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া অবৈধ ও অনিয়মপূর্ণ বরাদ্দপত্রটি দ্রুত বাতিল পূর্বক আমাদের জমাকৃত আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনানুগ ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত প্রদানে আপনার মর্জি কামনা করছি। জানা যায়, গতকাল বুধবার ২৮ অক্টোবর থেকে শেরে-বাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন ফাঁকা মাঠে মাসব্যাপী শুরু হয় এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মন্ত্রী, সচিব বরাবর আবেদনের কপিও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সংযুক্ত করে বর্তমান বরাদ্দ বাতিলসহ নতুন করে ওপেন টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে পূর্নবিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সৈয়দুর রহমান ট্রেডিং কোম্পানির মালিক সৈয়দুর রহমান। এসআইটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জে বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও মুন ট্রেডিং করপোরেশন নামে যাদের ওই মেলা পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, তারা পাড়া-মহল্লাভিত্তিক মেলা পরিচালনা করতেই হিমশিম খায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মেলা পরিচালনার পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নানা কৌশলে ম্যানেজ ও তদবির করে এসআরটিসি’র আবেদন আড়ালে রেখে কোনো শুনানি না করেই একতরফাভাবে নতুন এ প্রতিষ্ঠানকে মেলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যা দেশ ও জনস্বার্থে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কাও রয়েছে সরকার হারাতে পারে মোটা অংকের রাজস্ব। দ্রুত সময়ের মধ্যেই ওই বরাদ্দ বাতিল করে বিষয়গুলো পূর্নবিবেচনার দাবি জানান সৈয়দুর রহমান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলার মহাজন মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনই গেট সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলে দিচ্ছি। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ নই। আমরা এটি সরিয়ে ফেলব। এ বিষয়ে জে বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, আমরা এখনই গেট সরিয়ে নেয়ার জন্য বলে দিয়েছি। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ নই। আমরা এটি দ্রুতই সরিয়ে ফেলছি। জানা যায়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে এর আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন করেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের স্বার্থে মাঠটি পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং সেখানে মেলার আয়োজন বন্ধ করতে হবে। এদিকে, শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। ভাঙচুর কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। এ বিষয়ে কোর কমিটির সঙ্গে বসে আলোচনা করব এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় কী করা যায়, সে বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।