টানা চার কর্মদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গতকাল সোমবার দেশের পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক দর সংশোধন ঘটেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধানসহ সব সূচক কমেছে। তবে সূচক কমলেও টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা চার কর্মদিবস বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর কিছুটা দর সংশোধন হওয়াকে স্বাভাবিক ও ইতিবাচক হিসেবে দেখা যায়। ধারাবাহিক উত্থানের পর অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় কিছুটা বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দিনশেষে সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে, যা বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রমেরই অংশ। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংশোধন যেন ধারাবাহিক দরপতনে রূপ না নেয়, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন। এরই মধ্যে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম শুরু হয়েছে। কয়েকটি কোম্পানি ইতোমধ্যে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি আরও কিছু কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা সংক্রান্ত বোর্ড সভার তারিখ জানিয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতে কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন বাড়তে পারে। এর ফলে বাজারে আরও স্থিতিশীলতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা আরও বলেন, বাজারে যাতে অস্বাভাবিক দরপতন না ঘটে এবং কোনো পক্ষ গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্যানিক সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কার্যকর ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১.৭১ পয়েন্ট কমেছে। ফলে সূচকটি ৫ হাজার ৫৫০.৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১১.৭৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৭.০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৫.২৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৫.৯১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গতকাল ডিএসই-তে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে এবং ৩২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন ডিএসই-তে প্রায় ৭৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৪৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় সোমবার ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।