প্রকাশ :: ... | ... | ...

ফার্নেস অয়েলের দাম একলাফে বাড়ল ১২ টাকা


সংযুক্ত ছবি

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম একলাফে প্রায় ১২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ফার্নেস অয়েলের লিটারপ্রতি নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা। গতকাল বুধবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে। এদিকে অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিইআরসির সচিব নজরুল ইসলাম সরকারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গত ২২ ফেব্রুয়ারির আদেশ অনুযায়ী ২৯ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড় এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েলের সিআইএফ মূল্যের ভিত্তিতে এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় বিইআরসি আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হলো। এ আদেশ ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এর আগে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের প্রতি লিটারের দাম ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা নির্ধারিত ছিল। এদিকে, গতকাল বুধবার রাতে দর অপরিবর্তিত রেখে অক্টোবর মাসের জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। অক্টোবর মাসে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে অক্টোবর মাসজুড়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে। জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব এনামুল হকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ২০ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনমূলে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ওই মূল্যহার অক্টোবর, ২০২৬ মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হলো। অর্থাৎ, সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যহার বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকেও বলবৎ থাকবে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধির কারণে গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়। ওইদিন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের সই করা প্রজ্ঞাপনে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়েছিল। ওই সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ, ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেলেও সরকার জনস্বার্থে দেশে মূল্য বৃদ্ধি করেনি। ফলে মার্চ, ২০২৬ থেকে আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত বিপিসি’র প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা লোকসান হয়। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিসহ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলমান রাখতে এবং জ্বালানি তেল পাচার রোধে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো বিকল্প ছিল না বলেও জানিয়েছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।