নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী নাভানেথেম নাভি পিলাইকে। অসলোতে আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ১২৫তম নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণায় কমিটি জানায়, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে অবদান রাখার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার এই প্রখ্যাত আইনবিদকে এই সম্মানজনক পুরস্কার দেওয়া হয়। কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণে নাভি পিলাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, এমন এক সময়ে বিশ্ব যখন অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি- যেখানে আন্তর্জাতিক আইন এখন আর কেবল শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি অতিরিক্ত পরিপূরক মাত্র নয়; ঠিক তখন এটি একটি চরম অবশ্যম্ভাবী প্রয়োজনীয়তা। কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াতনে ফ্রাইডনেস বলেন, ‘এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক আইন ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে রয়েছে এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রমণের শিকার হচ্ছে। বিচারকরাই হলেন সেইসব মানুষ যারা শৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলার মাঝের সূক্ষ্ম সীমান্তরেখা পাহারা দেন।’ ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত ৮৫ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান অধিকারকর্মী নাভানেথেম নাভি পিল্লাই অমর অধিকারকর্মী নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্য বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীদের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনকারী আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের এক দরিদ্র ভারতীয় এলাকার একজন বাসচালকের মেয়ে পিল্লাই বর্ণবাদের যুগে বড় হয়ে ওঠেন এবং সেসময়েই তার মানবাধিকার বিষয়ক কাজ শুরু করেন। নাভানেথেম নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজের আইন পেশায় নিযুক্ত হওয়া এবং হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে কাজ করা প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত নাভি পিল্লাই দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নাভি পিল্লাই ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনাল ফর রুয়ান্ডা’ এবং ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত’-এ বিচারক হিসেবে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার যে মামলা চলছে, সেটিতে বিচারক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। নোবেল কমিটি এ বছরের পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পেয়েছিল। অন্য আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সুদানের জরুরি সেবাদানকারী দল, ইউক্রেনের শিশুদের অধিকারবিষয়ক প্রতিনিধিগণ এবং দুটি শীর্ষ আন্তর্জাতিক আদালত। তথ্যসূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা