হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পূর্বে মেজোকেরেস্টেজের কাছে মহাসড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পোলিশ পর্যটকবাহী একটি বাস। এএফপির ছবিতে দুর্ঘটনাস্থলটি দেখা যাচ্ছে। হাঙ্গেরির একটি মহাসড়কে রোববার (১৬ আগস্ট) ভোররাতে পোল্যান্ডের পর্যটকবাহী একটি বাস খাদে পড়ে উল্টে গেলে ১২ জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ডগামী কোচটি হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পূর্বে মেজোকেরেস্টেজের কাছে এম-৩ মহাসড়কে স্থানীয় সময় রাত ১টায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। হাঙ্গেরির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানিয়েছে, ৫৭ জন যাত্রী ও দুজন চালক নিয়ে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে একটি খাদে পড়ে এবং একপাশে উল্টে যায়। সংস্থাটি জানায়, ঘটনাস্থলেই ১১ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সংস্থা জানায়, আরও ৩৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন। বাসের ভেতরে আটকে পড়ায় ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীদের অনেক আহত লোককে জানালা দিয়ে টেনে বের করতে হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্যমতে, শেষ পর্যন্ত দুটি ক্রেন দিয়ে বাসটিকে খাদ থেকে তোলা হয়। ২০০৩ সালে সিওফকে একটি ট্রেন জার্মান পর্যটকবাহী বাসকে ধাক্কা দেওয়ার পর এটিই হাঙ্গেরির সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। ওই দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হয়েছিল। এর আগে ২০০২ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বাল্যাটনসেন্টগিয়র্গির কাছে পোলিশ তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি বাস দুর্ঘটনায় পড়ে ১৯ জন নিহত হয়েছিল। হাঙ্গেরি প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনার মৃতের সংখ্যা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সকল মানুষকে ধন্যবাদ জানাই।’ এদিকে, পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লো সিকোরস্কি এক্স-এ একটি পোস্টে এটিকে পোলিশ পর্যটকদের সাথে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘কনস্যুলার সার্ভিস সক্রিয় রয়েছে। আমরা হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি।’ পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও ওই দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।