ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

খুলনা জেলা জাপার জোড়াতালির সংসার!

রাজপথে নেই খুলনা জেলা জাপা। আলোচনায়ও নেই। মিছিল মিটিং-এ সরব নয়। সরকারি জোটের সাথেও নেই, বিরোধী জোটের সাথেও নেই। কোথায় থাকবে তা এখনও চুড়ান্ত নয়। ভারত সফর শেষে দলীয় প্রধানের বক্তব্যের পর স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা কমিটি হয়েছে ছ’মাস আগে। তারপরে কেসিসি নির্বাচন। এরপর থেকে হাফ টাইম। দলীয় কার্যালয়ে বাতি জ¦লছে। সরগম নেই। জেলা জাপার রাজনীতি চলছে জোড়াতালির মধ্যদিয়ে।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জাপা প্রধান জেঃ এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর স্থানীয় রাজনীতিতে আর জৌলুস নেই। দলত্যাগ করেছেন শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ স ম বাবর আলী, চেম্বার সভাপতি কাজী আমিনুল হক ও ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন প্রমুখ। সাবেক সংসদ সদস্য একেএম মোক্তার হোসেন দলে থাকলেও আসেন কালে-ভদ্রে। সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফ্ফার বিশ^াস, মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল খুলনার জাপার রাজনীতিতে এখন রওশনপন্থী গ্রুপ বলে পরিচিত। সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর জাপার সভাপতি শেখ আবুল হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। সব মিলিয়ে খুলনা জাপার বেহাল অবস্থা। অঙ্গসংগঠনগুলো খুবই দুর্বল। কেন্দ্রের অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপা মাঝে মধ্যে এসে দলকে চাঙ্গা করেন। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দেও কারণে প্রেসিডিয়ামের সদস্য সুনিল শুভ রায় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে আসেন না। খুলনা-১ আসনের প্রার্থী হওয়া নিয়ে নগর জাপার সভাপতি এ্যাডঃ মহানন্দের সাথে তার দ্বন্দ। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৪ মার্চ জেলা জাপার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এত টান পড়েনের মধ্য দিয়ে গত ৩ মার্চ জেলা জাপার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি কাউন্সিলরদের মতামত না নিয়েই শফিকুল ইসলাম মধুকে সভাপতি ও মল্লিক হাদিউজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে। গত ১০ জুলাই দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব, অতিরিক্ত মহাসচিবের সুপারিশক্রমে জেলায় ১১১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেন। স্থানীয় সূত্র অভিযোগ করেছে, এটি মুলত জেলা সভাপতির পকেট কমিটি। কাউন্সিলরদের মতামত প্রাধান্য পাইনি। অধিকাংশই তার নিজের নাম সম্পর্কে অজ্ঞাত। সম্মেলনের পর থেকে জেলা শাখার নির্বাহী কমিটির কোন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ১২ জুন কেসিসি নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীও পক্ষে কিছু কর্মী সক্রিয় ছিল। জাপার মেয়র প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ১৮ হাজার ৭৪ ভোট। অধিকাংশ কেন্দ্রে জাপা পোলিং এজেন্ট দিতে পারে নি। গেল ১৯ জুলাই দলীয় প্রধান জেঃ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে দায়সারা গোছের। জাপা কর্মীদের অভিযোগের তীর মূলত জেলা সভাপতির দিকে। তিনি শুধুমাত্র কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তাকিয়ে আছেন খুলনা-৬ আসনের মনোনয়নের জন্য। জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় একটি ব্যবসায়ী সমিতিতে চাকরী করেন। মূলত সেখানেই তিনি সার্বক্ষণিক। সংগঠনিক কার্যক্রমে মনযোগী নয়। এ কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম হাওলাদার, সদস্য তেরখাদার মুন্সি মিয়া, ফুলতলার মোমেনা পারভীন মায়া, মিনু আক্তার ও ডুমুরিয়ার মোঃ রজব আলী দায়িত্ব পেয়েছেন সে সম্পর্কে অজ্ঞাত।
ফুলতলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজের অভিযোগ, এখানকার কমিটির দু’বছর আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ। সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেই বললেই চলে। জেলার নেতৃবৃন্দ স্বশরীরে নয় মোবাইলেই যোগাযোগ রাখেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা শাখার আহবায়ক সরদার আব্দুস সবুর মাস্টার নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন বলে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। উপজেলা পর্যায়ে কোন তৎপরতা নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটিও নেই। পাইকগাছা পৌরসভা কমিটির সভাপতি গাজী আব্দুস সামাদ হতাশ হয়ে আছেন।
জেলা শাখার নবনির্বাচিত শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম হাওলাদার এ দায়িত্ব পেয়েছেন জানেন না। তিনি তথ্য দিয়েছেন, উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ও জেলা শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, পাইকগাছা উপজেলা শাখা গত ৭ আগস্ট বিলুপ্ত করা হয়েছে। নয়া কমিটিতে গাজী শহিদুল ইসলাম আহবায়ক এবং এ্যাডঃ এফ এম আব্দুর রাজ্জাক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন পর গত ৬ মে জাতীয় যুব সংহতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ছাত্র সমাজ নিষ্ক্রিয়। এ্যাডঃ মঞ্জুরুল আলমের মৃত্যুর পর আইনজীবী ফেডারেশন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ্যাডঃ এস এম মাসুদুর রহমার রওশনপন্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। জেলা জাপা মূলতঃ সভাপতি কেন্দ্রিক। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত প্রাধাণ্য পায় না।

ট্যাগস :

খুলনা জেলা জাপার জোড়াতালির সংসার!

আপডেট সময় : ০৫:১৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৩

রাজপথে নেই খুলনা জেলা জাপা। আলোচনায়ও নেই। মিছিল মিটিং-এ সরব নয়। সরকারি জোটের সাথেও নেই, বিরোধী জোটের সাথেও নেই। কোথায় থাকবে তা এখনও চুড়ান্ত নয়। ভারত সফর শেষে দলীয় প্রধানের বক্তব্যের পর স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা কমিটি হয়েছে ছ’মাস আগে। তারপরে কেসিসি নির্বাচন। এরপর থেকে হাফ টাইম। দলীয় কার্যালয়ে বাতি জ¦লছে। সরগম নেই। জেলা জাপার রাজনীতি চলছে জোড়াতালির মধ্যদিয়ে।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জাপা প্রধান জেঃ এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর স্থানীয় রাজনীতিতে আর জৌলুস নেই। দলত্যাগ করেছেন শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ স ম বাবর আলী, চেম্বার সভাপতি কাজী আমিনুল হক ও ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন প্রমুখ। সাবেক সংসদ সদস্য একেএম মোক্তার হোসেন দলে থাকলেও আসেন কালে-ভদ্রে। সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফ্ফার বিশ^াস, মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল খুলনার জাপার রাজনীতিতে এখন রওশনপন্থী গ্রুপ বলে পরিচিত। সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর জাপার সভাপতি শেখ আবুল হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। সব মিলিয়ে খুলনা জাপার বেহাল অবস্থা। অঙ্গসংগঠনগুলো খুবই দুর্বল। কেন্দ্রের অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপা মাঝে মধ্যে এসে দলকে চাঙ্গা করেন। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দেও কারণে প্রেসিডিয়ামের সদস্য সুনিল শুভ রায় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে আসেন না। খুলনা-১ আসনের প্রার্থী হওয়া নিয়ে নগর জাপার সভাপতি এ্যাডঃ মহানন্দের সাথে তার দ্বন্দ। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৪ মার্চ জেলা জাপার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এত টান পড়েনের মধ্য দিয়ে গত ৩ মার্চ জেলা জাপার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি কাউন্সিলরদের মতামত না নিয়েই শফিকুল ইসলাম মধুকে সভাপতি ও মল্লিক হাদিউজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে। গত ১০ জুলাই দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব, অতিরিক্ত মহাসচিবের সুপারিশক্রমে জেলায় ১১১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেন। স্থানীয় সূত্র অভিযোগ করেছে, এটি মুলত জেলা সভাপতির পকেট কমিটি। কাউন্সিলরদের মতামত প্রাধান্য পাইনি। অধিকাংশই তার নিজের নাম সম্পর্কে অজ্ঞাত। সম্মেলনের পর থেকে জেলা শাখার নির্বাহী কমিটির কোন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ১২ জুন কেসিসি নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীও পক্ষে কিছু কর্মী সক্রিয় ছিল। জাপার মেয়র প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ১৮ হাজার ৭৪ ভোট। অধিকাংশ কেন্দ্রে জাপা পোলিং এজেন্ট দিতে পারে নি। গেল ১৯ জুলাই দলীয় প্রধান জেঃ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে দায়সারা গোছের। জাপা কর্মীদের অভিযোগের তীর মূলত জেলা সভাপতির দিকে। তিনি শুধুমাত্র কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তাকিয়ে আছেন খুলনা-৬ আসনের মনোনয়নের জন্য। জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় একটি ব্যবসায়ী সমিতিতে চাকরী করেন। মূলত সেখানেই তিনি সার্বক্ষণিক। সংগঠনিক কার্যক্রমে মনযোগী নয়। এ কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম হাওলাদার, সদস্য তেরখাদার মুন্সি মিয়া, ফুলতলার মোমেনা পারভীন মায়া, মিনু আক্তার ও ডুমুরিয়ার মোঃ রজব আলী দায়িত্ব পেয়েছেন সে সম্পর্কে অজ্ঞাত।
ফুলতলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজের অভিযোগ, এখানকার কমিটির দু’বছর আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ। সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেই বললেই চলে। জেলার নেতৃবৃন্দ স্বশরীরে নয় মোবাইলেই যোগাযোগ রাখেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা শাখার আহবায়ক সরদার আব্দুস সবুর মাস্টার নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন বলে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। উপজেলা পর্যায়ে কোন তৎপরতা নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটিও নেই। পাইকগাছা পৌরসভা কমিটির সভাপতি গাজী আব্দুস সামাদ হতাশ হয়ে আছেন।
জেলা শাখার নবনির্বাচিত শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম হাওলাদার এ দায়িত্ব পেয়েছেন জানেন না। তিনি তথ্য দিয়েছেন, উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ও জেলা শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, পাইকগাছা উপজেলা শাখা গত ৭ আগস্ট বিলুপ্ত করা হয়েছে। নয়া কমিটিতে গাজী শহিদুল ইসলাম আহবায়ক এবং এ্যাডঃ এফ এম আব্দুর রাজ্জাক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন পর গত ৬ মে জাতীয় যুব সংহতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ছাত্র সমাজ নিষ্ক্রিয়। এ্যাডঃ মঞ্জুরুল আলমের মৃত্যুর পর আইনজীবী ফেডারেশন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ্যাডঃ এস এম মাসুদুর রহমার রওশনপন্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। জেলা জাপা মূলতঃ সভাপতি কেন্দ্রিক। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত প্রাধাণ্য পায় না।