প্রকাশ :: ... | ... | ...

টেনিস কোর্টে বিবর্ণ বাংলাদেশ


সংযুক্ত ছবি

রমনার জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড টেনিস ট্যুর জুনিয়র জে-৩০ প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শুরু হলো গতকাল। কিন্তু উদ্বোধনী দিনটি স্বাগতিকদের জন্য হয়ে থাকল হতাশার। কোর্টে নামা বাংলাদেশের পাঁচ খেলোয়াড়ের কেউই জয়ের মুখ দেখতে পারেননি। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছে বালিকা এককে। এক নম্বর কোর্টে চীনের জিমো সোংয়ের বিপক্ষে সারা আল জাসিম হেরেছেন ৬-০, ৬-০ গেমে। তিন নম্বর কোর্টে জান্নাতুন ফেরদৌস চীনের জিজিউর কাছে হার মানেন ৬-১, ৬-০ ব্যবধানে। পঞ্চম কোর্টে হুমায়রা হায়দারের ভাগ্যও একই—চীনের জিরু ইয়াংয়ের সামনে তিনিও থেমেছেন ৬-১, ৬-০ গেমে। তিন ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা মিলিয়ে জিতেছেন মাত্র একটি গেম, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে দূরত্বের একটি স্পষ্ট ছবি। বালক এককে লড়াইটা তুলনামূলক জমলেও ফল বদলায়নি। তিন নম্বর কোর্টে কাব্য গায়েন ভারতের শংকল্প কুমার সাহানির বিপক্ষে ৬-৩, ৬-৪ গেমে হেরেছেন। দুই সেটেই কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তে চাপ সামলানো যায়নি। অন্যদিকে সপ্তম কোর্টে মো. রাকিন রহমানের বিপক্ষে ওয়াকওভার পেয়ে এগিয়ে গেছেন ভারতের শাহবাজ সিং সাংহেরা। বিদেশিদের মধ্যে দাপট দেখিয়েছেন চীন ও ভারতের খেলোয়াড়রা। শীর্ষ বাছাই থাইল্যান্ডের ত্রিশ শ্রীসেন ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন ভারতের অর্শ ওয়াকেকে। ভারতের সক্ষ্ম ভংসালী ৬-০, ৬-২ গেমে চীনের রংবিন দাইকে এবং চীনের তিয়ানয়ি ফাং ৬-১, ৬-৪ গেমে সিঙ্গাপুরের আন্দ্রে হারনাদিওয়কে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছেন। বালিকা এককে চীনের শুইয়াং জু তিন সেটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৬-৭(৫), ৬-২, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার আইলা হাসানকে। নিজেদের মাটিতে, নিজেদের দর্শকের সামনে এমন শুরু নিঃসন্দেহে আত্মসমীক্ষার দাবি রাখে। এই ফলাফল শুধু একদিনের ব্যর্থতা নয়; বরং জুনিয়র পর্যায়ে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ আর অবকাঠামোর প্রশ্নটিও সামনে এনেছে। প্রতিযোগিতা সবে শুরু। শেষ পর্যন্ত এই ট্যুর কি কেবল বিদেশিদের মঞ্চ হয়ে থাকবে, নাকি স্থানীয় প্রতিভার উত্থানেরও সিঁড়ি হবে!