প্রকাশ :: ... | ... | ...

বাংলাদেশের জার্সিতে ভুল খেলা নিয়েই শঙ্কা


সংযুক্ত ছবি

সাফল্যের সম্ভাবনা ক্ষীণ, ভ্রমণই যেন শেষ কথা। সেই ভ্রমণের মিছিলে নাম লেখাতে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছিলেন বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের কর্মকর্তারা। যুদ্ধ জয়ের পর নিজেদের কাজটা সঠিকভাবে করার দিকে মনোযোগ নেই অনেকের। নেতিবাচক খবরের ঝুঁকি নিয়েই শুরু হলো লাল-সবুজদের এশিয়ান গেমস অভিযান। সেই খবরের সূচনা হলো ব্যাডমিন্টন দিয়ে। অফিসিয়াল ট্রেনিং সেশনে যোগ দিতে গতকাল ভেন্যুতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি শাটলাররা। প্রস্তুতি নিয়ে কোর্টে নামার পর জার্সি নিয়ে বাধলো বিপত্তি- দেশের জায়গায় খেলোয়াড়ের নাম। নামের বানানেও ছিল ভুল। যা পাসপোর্টের সঙ্গেও মিল নেই। পোষাকটা সঠিকভাবে তৈরি করতে না পারার ঘটনা হাস্যরসের জন্ম দিল। পরে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) শীর্ষ কর্মকর্তাদের কল্যাণে সমাধানের একটা পথ খুঁজে পাওয়া গেছে—জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউনেক্সকে অনুরোধ করা হয়েছে। ইভেন্ট শুরুর আগে নির্ধারিত সময়ে জার্সি আয়োজকদের কাছে জমা দিতে হবে। অন্যথায় কোর্টে নামা হবে না বাংলাদেশ দলের! বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, শাটলাররা দেশে থাকতেই জার্সির ভুল ধরিয়ে দিয়েছিলেন ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের। তারা জানিয়েছেন, বিওএর অনুমোদন নিয়েই জার্সি প্রস্তুত করা হয়েছে। দায়টা যারই হোক, বিষয়টা হাস্যেকর। ব্যাডমিন্টন দলের প্রধান কাজী মহিউদ্দিন বুলবুলের কাছে অবশ্য এটা খুব বড় কিছু নয়। তিনি বলেন, এটা সাধারণ একটা বিষয়। সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। আমাদের খেলোয়াড়রা অনুশীলন করতে নেমেছেন। অতীতে এমন বহুজাতিক ক্রীড়া আসরে সঠিক সময়ে মাঠে উপস্থিত হতে না পারাসহ নানা নেতিবাচক খবরের জন্ম দিয়েছিলেন বাংলাদেশ। ওই ঘটনায় বলির পাঠা বানানো হয়েছিল খেলোয়াড়দের। এ নিয়ে সামান্য আলোচনা, সমালোচনা হয়েছে বটে। ভবিষ্যতে যাতে এমন হাস্যকর ঘটনা এড়ানো যায়- সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যার খেসারত আজ রোববারের ব্যাডমিন্টন কাণ্ড! গেমসে ২৬০ জনের বহরে পুরুষ ক্রীড়াবিদ সংখ্যা ৯০, নারী ৯৭ জন। বাকি ৭৩ জন কর্মকর্তা ও অফিসিয়াল। ২২ ডিসিপ্লিনের এই বহরের কর্মকর্তাদের মিছিল নিয়ে গেমসের আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। বিওএ কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা ছিল, একটি ইভেন্টের আগে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন মিটিংয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্যই কর্মকর্তাদের পাঠানো হচ্ছে। এই যদি হয় কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনার ধরন, তাহলে আর কী বলার আছে! ব্যাডমিন্টনের দলনেতা কাজী মহিউদ্দিন বুলবুলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- এগুলো কী আগে থেকে চেক করে আনা হয়নি? উত্তরে দায়টা নিজের কাঁধ থেকে নামিয়ে তিনি বলেছেন, আমরা বিওএর অনুমোদন নিয়েই জার্সি তৈরি করেছি।’ বিওএ কর্মকর্তাদের দাবি অবশ্য ভিন্ন, ‘সব ক্রীড়া ফেডারেশনকে সঠিকভাবে জার্সি তৈরি করে বিওএর অনুমোদন নিতে বলেছিলাম। ব্যাডমিন্টন এই কাজে দেরি করেছে বলেই আজকের বিপত্তি। ব্যাডমিন্টন কাণ্ড দিয়ে শুরু, এটাই শেষ- বলাটা কঠিন। কারণ কর্মকর্তারা গেমসের আগে বহরে নিজের নাম যুক্ত করতে আদা-জল খেয়ে নামেন। গেমসে গিয়ে চলে যান মধুচন্দ্রিমার মুডে!