প্রকাশ :: ... | ... | ...

মেসির সঙ্গে মাঠ ভাগ করেছেন, ছিলেন দিবুর সতীর্থ, এখন বিক্রি করেন সবজি


সংযুক্ত ছবি

একসময় লিওনেল মেসি ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নিয়েছিলেন। আর্জেন্টিনার যুব জাতীয় দলে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সঙ্গে খেলেছিলেন এবং রিভার প্লেটের অন্যতম সম্ভাবনাময় যুব ক্যাটাগরির অংশ ছিলেন। তবে একটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয় গঞ্জালো ওলিদ আপাজার ক্যারিয়ার, অল্প বয়সেই তিনি পেশাদার ফুটবল খেলা ছেড়ে দেন এবং গ্যাস সিলিন্ডার, আলু ও শাকসবজি সরবরাহের কাজ শুরু করেন। এই মিডফিল্ডার ১২ বছর বয়সে রিভার প্লেটে যোগ দেন। অনুশীলনের জন্য প্রতিদিন সান মিগুয়েল থেকে যাতায়াত করতেন। তিনি এরিক লামেলা, এজেকিয়েল চিরিলিয়ানো, লিয়ান্দ্রো গঞ্জালেস পিরেজ এবং রদ্রিগো রের সাথে ১৯৯২ ব্যাচের অংশ ছিলেন। সেই দলটি যুব বিভাগে পাঁচটি শিরোপা জিতেছিল। যদিও আপাজা কখনোই মূল দলে নিজের স্থান পাকা করতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত নিচের দিকের লিগগুলোতে খেলার সুযোগ খুঁজতে বাধ্য হন। তার পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের দরজাও খুলে দিয়েছিল। শুরুতে উবালদো ফিলোল তাকে ডেকে পাঠান এবং পরবর্তীতে তিনি অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলেন। ২০০৯ সালের দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বকাপে তিনি মার্টিনেজের সঙ্গে খেলেছিলেন। ইনফোবে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মরণ করে বলেন, ‘আজ তার যে আত্মবিশ্বাস দেখছেন, তখনও তার মধ্যে ঠিক একই আত্মবিশ্বাস ছিল। সে যা কিছু অর্জন করেছে তাতে আমি মোটেই অবাক নই।’ নাইজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের আগে যুব খেলোয়াড়দের সিনিয়র জাতীয় দলের অনুশীলনের সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তৎকালীন কোচ ছিলেন ম্যারাডোনা এবং প্রতি বুধবারে তারা মেসি ও অন্যান্য তারকাদের সাথে অনুশীলন করতেন। তিনি বলেন, ‘ডিয়েগো ম্যাচের রেফারি ছিলেন। আমরা মেসির সাথে খেলেছি, সেখানে সবাই উপস্থিত ছিল।’ অভিজ্ঞতাটি কতটা অবাস্তব মনে হয়েছিল তা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুশীলনের মাঝখানেই আমার তাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছিল। নিজের চোখকে বিশ্বাস করার জন্য চিমটি কাটার প্রয়োজন ছিল।’ মেসি সম্পর্কে টিএন-কে তিনি বলেন, ‘সে অর্ধেক শক্তিতে খেলছিল, তবুও মনে হচ্ছিল সে শতভাগ দিয়ে খেলছে।’ রিভার প্লেটে সুযোগ না পেয়ে আপাজা দেপোর্তিভো মেরলো, ডিফেনসোরেস দে বেলগ্রানো, কামবাসেরেস এবং সান মিগুয়েলের হয়ে খেলেন। বাস্তবতার এই পরিবর্তন ছিল অত্যন্ত কঠোর, ‘আমি আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা ক্লাব থেকে সরাসরি মেরলোতে চলে আসি, যেখানে মাঝে মাঝে আমাদের পর্যাপ্ত পোশাক বা গরম পানিও থাকত না।’ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে কামবাসেরেসের একটি ম্যাচের পর তিনি তার বাবাকে ফোন করে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার কথা জানান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘আমি খেলাটা উপভোগ করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। অনুশীলন শেষ হতেই যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ফিরতে চাইতাম।’ তার প্রথম কাজের সুযোগ আসে এক বন্ধুর মাধ্যমে, যিনি পানির জার সরবরাহ করতেন এবং তাকে ভোর পাঁচটা থেকে কাজের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ফুটবল খেলে জমানো টাকা দিয়ে তিনি একটি ট্রাক কেনেন এবং তাদের পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন। বর্তমানে তিনি একটি সরবরাহ সেবা পরিচালনা করেন, যা বিভিন্ন বাজার, বার ও রেস্তোরাঁয় আলু, পেঁয়াজ ও অন্যান্য শাকসবজি পৌঁছে দেয়। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই ফুটবল খেলা বন্ধ করিনি; কেবল পেশাদারভাবে খেলা ছেড়ে দিয়েছি। আমি আমার এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত সুখী।’