শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিরতি। ফুটবলাররা ক্লাব ছেড়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বার্সেলোনার রাফিনিয়াও তাদের একজন। ব্রাজিলের তিন ম্যাচের স্কোয়াডে আছেন তিনি। কিন্তু এই বিরতি শেষে বার্সেলোনা তাদের সবচেয়ে ধারালো এই অস্ত্রকে ফিরে পাওয়ার জন্য শঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করবে। রাফিনিয়া চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে প্রথম ৮ ম্যাচে ৬২৬ মিনিট খেলে ১৪ গোল করেছেন। ফলস নাইন হিসেবে খেললেও সেন্টার ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় অপ্রতিরোধ্য লাগছে তাকে। ক্লাব ক্যারিয়ারে কখনও এতটা জ্বলে উঠতে দেখা যায়নি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে। রবার্ট লেভানডোভস্কি ও ফেরান তোরেস চলে যাওয়ার পর সেই শূন্যস্থান পূরণ করে হান্সি ফ্লিকের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই ‘গোলমেশিন’ রাফিনিয়াকে আগের অবস্থায় ফিরে পাবে তো বার্সা? এমন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ আগের দুইবার ব্রাজিলের ডাকে সাড়া দেওয়ার পর চোট নিয়ে শেষ করেছেন আন্তর্জাতিক বিরতি। প্রথমবার গত মার্চে। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে সংক্ষিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র সফরের দলে ছিলেন রাফিনিয়া। বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই চোট পান তিনি। ডান ঊরুর বাইসেপস ফেমোরিস মাসলে চিড় ধরলে পাঁচ সপ্তাহ মাঠের বাইরে তাকে থাকতে হয়েছিল। বার্সেলোনাকে এর মাশুল দিতে হয়েছিল। শারীরিক সমস্যার কারণে কয়েক মাস কষ্টে কাটানোর পর এই ব্রাজিলিয়ান অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে কোপা দেল রে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ছিলেন না। দুটি প্রতিযোগিতা থেকেই বার্সা ছিটকে যায়। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উইঙ্গারকে হারালেও ফ্লিকের দল লা লিগা শিরোপা হাতে নিয়েছিল। আনচেলত্তি রাফিনিয়াকে তার দ্বিতীয় বিশ্বকাপের জন্য ডাকেন। হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে পুরোনো ব্যথা ফিরে আসে। ৩৮তম মিনিটে খুঁড়িয়ে তিনি মাঠ ছাড়েন। পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়, ডান ঊরুতে পেশির চোটে পড়েছেন তিনি। নিবিড় চিকিৎসার মধ্যে থাকলেও নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার আগ পর্যন্ত মাঠে ফিরতে পারেননি রাফিনিয়া। ব্রাজিল তাদের পরবর্তী যে তিনটি ম্যাচ খেলবে, সেগুলোর গুরুত্ব খুব একটা নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ও ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর সকারুদের সঙ্গে খেলে ৩ অক্টোবর ১৩৩ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে থাকা ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। আর এই সময়ে বিমানে ৩৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে ব্রাজিলকে, সঙ্গে রাফিনিয়াকেও। এই ক্লান্তিকর যাত্রার প্রভাব ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের ওপর পড়লে বার্সার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। স্পোর্ত নিউজপেপার বলেছে, ‘এটি একটি ক্লান্তিকর ভ্রমণ যা প্রচণ্ড শারীরিক চাপ সৃষ্টি করে এবং এটি অপ্রয়োজনীয় ও অনাবশ্যক। বার্সেলোনার খেলোয়াড়কে আকাশপথে ৩৪,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে, যা মোটামুটিভাবে একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করার সমান।’