ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গুড়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির সাবেক এমপিসহ ৬৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলের ডাকা পঞ্চম দফার অবরোধের সময় বগুড়ার শেরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জিএম সিরাজসহ ৬৫ জন নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫জন নেতাকর্মীকে আটক করে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বগুড়া কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এরআগে বুধবার (১৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাসপাতাল রোড এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। আহত হয়েছেন শেরপুর থানার ওসি বাবু কুমার সাহা, এসআই হাসান, কনস্টেবল শামীম, রেজাউল, আলফাজ এবং সাংবাদিক এ জেট হিরাসহ অন্তত ৩০জন। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সরকারি কাজে বাধাদান, ক্ষতিসাধন, হুমকি, গুরুতর ও সাধারণ জখম করার অপরাধে বুধবার রাতে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন আলী বাদী হয়ে বিএনপির ৬৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামীদের মধ্যে আছেন- বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ, তার ছেলে আসিফ রব্বানী সানভি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম তোতা, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক আব্দুল মোমিন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য জাহিদুল ইসলামকে (৩৮) তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। দুপুর ১২ টার দিকে শেরপুর শহরের কলেজ রোড এলাকা থেকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শাহ মোহাম্মদ কাউসার আলী কলিংস (৩৫), স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল (৪৩), রায়হান কামাল রূপক (৩০) ও নয়ন মিয়া সুমনকে (২৮) আটক করে পুলিশ।
বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলের ডাকা পঞ্চম দফার অবরোধের প্রথম দিন বুধবার বিএনপির সাবেক সাংসদ জিএম সিরাজের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর শহরের হাসপাতাল রোডে মোড়ের দিকে যাচ্ছিলো। একই সময় ওই এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশের একটি মিছিল আসে। সমাবেশস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষকে বাধা দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে পুলিশ। বাধা উপেক্ষা করে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। দুই দলের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যায়।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবু কুমার সাহা জানান, সংঘর্ষের সময় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। মামলায় ৫জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ট্যাগস :

গুড়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির সাবেক এমপিসহ ৬৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৬:৫২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৩
বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলের ডাকা পঞ্চম দফার অবরোধের সময় বগুড়ার শেরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জিএম সিরাজসহ ৬৫ জন নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫জন নেতাকর্মীকে আটক করে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বগুড়া কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এরআগে বুধবার (১৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাসপাতাল রোড এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। আহত হয়েছেন শেরপুর থানার ওসি বাবু কুমার সাহা, এসআই হাসান, কনস্টেবল শামীম, রেজাউল, আলফাজ এবং সাংবাদিক এ জেট হিরাসহ অন্তত ৩০জন। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সরকারি কাজে বাধাদান, ক্ষতিসাধন, হুমকি, গুরুতর ও সাধারণ জখম করার অপরাধে বুধবার রাতে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন আলী বাদী হয়ে বিএনপির ৬৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামীদের মধ্যে আছেন- বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ, তার ছেলে আসিফ রব্বানী সানভি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম তোতা, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক আব্দুল মোমিন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য জাহিদুল ইসলামকে (৩৮) তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। দুপুর ১২ টার দিকে শেরপুর শহরের কলেজ রোড এলাকা থেকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শাহ মোহাম্মদ কাউসার আলী কলিংস (৩৫), স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল (৪৩), রায়হান কামাল রূপক (৩০) ও নয়ন মিয়া সুমনকে (২৮) আটক করে পুলিশ।
বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলের ডাকা পঞ্চম দফার অবরোধের প্রথম দিন বুধবার বিএনপির সাবেক সাংসদ জিএম সিরাজের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর শহরের হাসপাতাল রোডে মোড়ের দিকে যাচ্ছিলো। একই সময় ওই এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশের একটি মিছিল আসে। সমাবেশস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষকে বাধা দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে পুলিশ। বাধা উপেক্ষা করে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। দুই দলের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যায়।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবু কুমার সাহা জানান, সংঘর্ষের সময় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। মামলায় ৫জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।