প্রকাশ :: ... | ... | ...

ধানমন্ডির ফুটপাতে মারধরের ঘটনায় সেই যুবককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড


সংযুক্ত ছবি

রাজধানীর ধানমন্ডির ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক খালিদ হাসানকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে তাকে আটকের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই দণ্ডাদেশ দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে ঘটনার সময় উপস্থিত থেকেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। ডিএমপির রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ জানান, গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীত পাশের ফুটপাতে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর কথা আদালতে স্বীকার করেছেন খালিদ হাসান। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন আচরণ করার দায়ে তাকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার দুপুরে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শহীদ আবদুল্লাহকে চড়-থাপ্পড়, লাথি ও কান ধরে ওঠবস করান খালিদ হাসান। একপর্যায়ে পুলিশ শহীদ আবদুল্লাহকে হেফাজতে নেয় এবং তরুণীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ স্বীকার করায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান। তবে ফুটপাতে মারধরের ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের সময় মাত্র কয়েক হাত দূরে ইউনিফর্ম পরা পুলিশ সদস্যরা নির্বিকার দাঁড়িয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছেন। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। পুলিশ জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত খালিদ হাসান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত। ভুক্তভোগী তরুণী তার ভাগনি হওয়ায় ক্ষোভের বশে তিনি এ কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ ছিল, ঘটনার পর অভিযুক্তকে ধরে কাছে থাকা পুলিশ সদস্যদের দিলে তারা দায়িত্ব না নিয়ে উল্টো থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন। পুলিশের এমন অনাগ্রহ দেখে তিনি মুঠোফোনে মামাকে ডেকে আনেন এবং তিনি এসে ক্ষুব্ধ হয়ে মারধর করেন। এদিকে মামার কারাদণ্ডের খবরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ওই তরুণী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, আদালতে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আকুতি জানিয়ে মামাকে ছেড়ে তাকে আটক করার অনুরোধ করেছিলেন। তরুণীর ভাষ্য, ‘আমাকে রক্ষা করতেই তো মামা এসেছিলেন, আমার কারণেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট আমার কোনো কথা শুনলেন না। আমাকে রক্ষা করতে এসে এখন আমার স্বজনকেই জেলে যেতে হলো।’ তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, শ্লীলতাহানির ঘটনার সময় যেসব পুলিশ সদস্য চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা এএসআই আবদুল হাইকে কর্তব্যে অবহেলার দায়ে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অপর দুই সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (দাঙ্গা দমন বিভাগ) হওয়ায় তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মারধরের শিকার শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। এমবিবিএস পড়ার সময়েই তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তার পারিবারিক দাম্পত্য জীবনও ভেঙে যায়।