প্রকাশ :: ... | ... | ...

পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে জে বি’র পক্ষে মেলা পরিচালনার বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের খালি জায়গায় পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে মাসব্যাপী এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা বিধিভঙ্গ করে এসআরটিসি-কে বরাদ্দ না দিয়ে নাম স্বর্বস্ব জে বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে মেলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরকারি নিয়মনীতি মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়ে বরাদ্দ না পেয়ে বর্তমান প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাতিল করে পূর্নবিবেচনার দাবি জানিয়ে গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী এসআরটিসি-এর মালিক সৈয়দুর রহমান। অভিযোগপত্রে বলা হয়, যথাযথ সম্মানপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নিয়মাবলী ও বিধিমালা অনুসরণপূর্বক ঢাকা শের-ই-বাংলা নগরস্থ’ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের প্রস্তাবিত সচিবালয়ের মাঠটিতে মেলা আয়োজনের জন্য আইনানুগভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন পেশ করি (কপি সংযুক্ত)। সচিব মহোদয় বরাবরও আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে (কপি সংযুক্ত)। কিন্ত অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় এই যে, আমাদের আবেদনটি বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় এবং আমাদের কোনো প্রকার অবহিতকরণ ব্যতিরেকে আপনার মন্ত্রণালয় হতে অন্য একটি তৃতীয় পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানকে ( জে বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও মুন ট্রেডিং করপোরেশন) উক্ত মাঠটি মেলা আয়োজনের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া ও মো. রফিকুল আলম। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও পূর্ববর্তী আবেদনকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পূর্ণ বেআইনি, বৈষম্যমূলক ও নিয়মের পরিপন্থী। বর্তমান সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সমগ্র বাংলাদেশের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং সকল সরকারি দপ্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের অস্বচ্ছ ও অনিয়মপূর্ণ সিদ্ধান্ত কীভাবে গৃহীত হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয় এবং এটি সরকারি নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছি। এমতাবস্থায়, বৃহৎ জনস্বার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখাতে উক্ত মাঠে মেলা আয়োজনের জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া অবৈধ ও অনিয়মপূর্ণ বরাদ্দপত্রটি দ্রুত বাতিল পূর্বক আমাদের জমাকৃত আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনানুগ ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত প্রদানে আপনার মর্জি কামনা করছি। জানা যায়, আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে শেরে-বাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন ফাঁকা মাঠে মাসব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মন্ত্রী, সচিব বরাবর আবেদনের কপিও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সংযুক্ত করে বর্তমান বরাদ্দ আজকের মধ্যে বাতিলসহ নতুন টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে পূর্নবিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সৈয়দুর রহমান ট্রেডিং কোম্পানির মালিক সৈয়দুর রহমান। এসআইটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জে বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও মুন ট্রেডিং করপোরেশন নামে যাদের ওই মেলা পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, তারা পাড়া-মহল্লাভিত্তিক মেলা পরিচালনা করতেই হিমশিম খায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মেলা পরিচালনার পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নানা কৌশলে ম্যানেজ ও তদবির করে এসআরটিসি’র আবেদন আড়ালে রেখে কোনো শুনানি না করেই একতরফাভাবে নতুন এ প্রতিষ্ঠানকে মেলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যা দেশ ও জনস্বার্থে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কাও রয়েছে সরকার হারাতে পারে মোটা অংকের রাজস্ব। আজকের মধ্যেই ওই বরাদ্দ বাতিল করে বিষয়গুলো পূর্নবিবেচনার দাবি জানান সৈয়দুর রহমান। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মেলা পরিচালনার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এতে কোন ব্যত্যয় রয়েছে কি-না, তা ফাইল না দেখে বরাদ্দ বাতিলের বিষয়টি যৌক্তিক বলে মনে হবে না।