* বন্ধু দীপ ফের ৩ দিনের রিমান্ডে * দীপের বক্তব্য যাচাই করছে নৌ-পুলিশ * দীপ ও তরুণী দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ বিমান বাহিনীর চাকরিচ্যুত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় চার দিনের রিমান্ডে থাকা তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আবারও ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ইতোমধ্যে দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছে টঙ্গী নৌ পুলিশ। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, বান্ধবীর সঙ্গে বিরোধের পর হেরোইন সেবনের উদ্দেশ্যে টঙ্গীর মাজার বস্তিসংলগ্ন মাঠে যান তাহসিফ। সেখানে মাদক সেবনের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে নদীতে পড়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তাহসিফকে নদীতে পড়ে যেতে দেখেননি বলে জানান দীপ। এর আগে তাহসিফ ও দীপকে নদীর তীরে যেতে নিষেধ করেছিলেন স্থানীয় কয়েকজন নারী। অন্যদিকে দীপ ও দিশার দেওয়া তথ্যে কোনো গড়মিল রয়েছে কি-না তা নিশ্চিতে রিমান্ডে থাকা দীপ ও দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর নতুন কোনো ক্লু বেরিয়ে আসতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও সার্বিক দৃশ্যগুলো নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। ঘটনার দিনে ধারণকৃত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে দীপ মাঠ থেকে একা বের হয়ে আসেন। এর ১৫ মিনিট পর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তার মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বলেন, ‘রওনা হয়েছি।’ ফলে তাহসিফ ঠিক কীভাবে নদীতে পড়ে মারা গেলেন, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশায় রয়েছে পুলিশ। নৌ পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীপের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিমান্ডে থাকা তার বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাহসিফের সঙ্গে তার পরিচয় কীভাবে, তাদের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, ঘটনার দিন নেস্ট বারে কী ঘটেছিল এবং তাহসিফের সঙ্গে তার কী কথোপকথন হয়েছিল, এসব বিষয় জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। দীপের বক্তব্যের সঙ্গে মেয়েটির বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্তসংশ্লিষ্ট টঙ্গী নৌ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দীপ জানিয়েছেন যে মেয়েটি কিছুদিন আগে অন্য এক যুবকের বাসায় ইয়াবা সেবন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে ঐ যুবকের সঙ্গে তার শারীরিক ঘনিষ্ঠতা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তাহসিফ গত ২৭ অক্টোবর তাকে ফোন করে দেখা করতে বলেন। পরে তাকে নিয়ে উত্তরা সোনারগাঁ জনপথ সড়কে নেস্ট বারে যান। বারে গিয়ে তাহসিফ কর্তৃপক্ষকে স্যাড সং বাজাতে বলেন। এরপর ওয়েটাররা তাদের মদ পরিবেশন করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা তারা মদ পান করেন। ঐ সময় দীপও তাদের সঙ্গে ছিলেন। মদ্যপানের একপর্যায়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে তার ইয়াবা সেবন ও রাত কাটানোর বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন তাহসিফ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তাহসিফ তাকে বলেন, ‘তুমি তো ইয়াবা খেয়েছ, আমি এর চেয়েও বড় মাদক (হেরোইন) খাব।’ এরপর তারা তিন জনই বার থেকে বের হয়ে যান। বার থেকে বেরিয়ে তাহসিফ নিজের মোটরসাইকেলে মেয়েটিকে (দিশা) উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে তার বাসায় পৌঁছে দেন। দীপও নিজের মোটরসাইকেলে সেখানে যান। তাদের বাসা পাশাপাশি। দীপের দাবি, শুধু ঐ দিনই নয়, তারা প্রায়ই বিভিন্ন বার ও রেস্তোরাঁয় যেতেন। মেয়েটিও তাহসিফের সঙ্গে যেতেন। তাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে তাহসিফ ও দীপ নিজ নিজ মোটরসাইকেলে টঙ্গীর মাজার বস্তিসংলগ্ন মাঠের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে বস্তির কাছের একটি দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রেখে গলি দিয়ে মাঠে যান তারা। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠে তখন আরো অনেক লোকজন ছিলেন। তাদের বেশির ভাগই স্থানীয় মাদকসেবী ও কারবারি। সেখানে গিয়ে তাহসিফ হেরোইন কিনে সেবন করেন। দীপের দাবি, বারে মদ্যপানের পর মাঠে গিয়ে মাদক সেবন করায় তাহসিফ নিজের ওপর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিছুক্ষণ পর টহল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মাদক কারবারিরা পালিয়ে যান। দীপও দৌড়ে নদীর পাড়ের দিকে চলে যান। দীপ জানান, নদীর ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। দুই থেকে তিন মিনিট পর দুই পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে ধরেন। নাম-পরিচয় ও ঠিকানা জানতে চাইলে দীপ নিজের পরিচয় দিয়ে মোহাম্মদপুরের বাসার ঠিকানা জানান। পুলিশ সদস্যরা তাকে প্রশ্ন করেন, মোহাম্মদপুরে বাসা হলে এত রাতে সেখানে কেন এসেছেন। জবাবে দীপ বলেন, তিনি ক্যাপ্টেন তাহসিফের বন্ধু এবং একটি কাজে সেখানে এসেছেন। পুলিশ সদস্যরা তাকে বাসায় চলে যেতে বলেন। পরে তিনি তাহসিফের ফোনে একাধিকবার কল করলেও প্রতিবারই ফোন বন্ধ পান। পরে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। তিন নারীর নিষেধ ঘটনার রাতের টঙ্গী মাজার বস্তির একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফ ও দীপ মোটরসাইকেল পার্ক করে একটি গলি দিয়ে তুরাগ তীরের মাঠের দিকে যাচ্ছেন। ঐ সময় তিন নারী তাদের যেতে নিষেধ করেন। তারা বলেন, ‘এই, তোমরা চলে যাও।’ তখন তাহসিফ ইংরেজিতে দীপকে বলেন, ‘বেশি কথা বলো না, হাঁটো।’ তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, তাহসিফের লাশে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি হত্যাকাণ্ড নয়, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। হয়তো পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সবাই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাহসিফও সরে যেতে গিয়ে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে পড়ে যান। তিনি আরও বলেন, দীপ ও ঐ মেয়েটি রিমান্ডে রয়েছেন। তাদের এ বিষয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দীপের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনায় প্রাথমিক তদন্তে মৃত্যুটিকে হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন জানান, তাহসিফ মাদক সেবন করেছিলেন কি না কিংবা তার শরীরে কোনো বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যাবে । এ জন্য তার শরীরের রক্ত, পাকস্থলি, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ভিসেরা ও রক্তের নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। দীপ ও দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ এবং গ্রেপ্তার তরুণী নিশাত তাসনিম দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করছে নৌপুলিশ। চার দিনের রিমান্ডে থাকা এই দুজনকে নৌপুলিশের হেফাজতে রেখে তাদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। নৌপুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার মাসুমা আক্তার জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে দীপ ও তরুণীর বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উভয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই তাদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে দীপের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বের হন তাহসিফ সাউরি। এরপর ওই তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের একটি বারে যান তাহসিফ, যেখানে দীপও তাদের সঙ্গে ছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে তাহসিফের সঙ্গে ওই তরুণীর কিছুটা মনোমালিন্য হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর বার থেকে বেরিয়ে তাহসিফ নিজেই মোটরসাইকেলে করে ওই তরুণীকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসেন। বারের ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরবর্তী গতিবিধি নিশ্চিত হতে দীপ ও ওই তরুণীর বয়ান মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে ঘটনার রাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, মাজার বস্তি এলাকায় পুলিশের পোশাক পরা দুজন সদস্যকে দেখে তারা ভয় পেয়ে দুই দিকে দৌড় দেন। দীপ তুরাগ নদের তীরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পিলারের কাছে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ওই দুই পুলিশ সদস্য সেখানে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন তিনি তাহসিফের সঙ্গে এসেছেন বলে জানালে পুলিশ সদস্যরা কথা না বাড়িয়ে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এরপর থেকে তাহসিফের সঙ্গে তার আর দেখা হয়নি বলে দাবি দীপের। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ও তদন্তের তথ্যে দেখা যায়, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তার মায়ের মুঠোফোনে শেষ ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে বলেন, ‘আসতেছি, রওনা দিছি।’ এর ঠিক চার মিনিট পর অর্থাৎ রাত ১টা ৩৯ মিনিটে দীপ মোহাম্মদপুরে তার ভাড়া বাসার দারোয়ানকে ফোন করে জানান যে তার ফিরতে দেরি হবে। পরে রাত আড়াইটার দিকে দীপ একাই বাসায় ফেরেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঘটনার সময় টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় আট সদস্যের একটি পুলিশ টহল দল দায়িত্ব পালন করছিল। তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে ওই টহল দলের কোনো ভূমিকা বা সংযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সেই পুলিশ সদস্যদেরও ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে নৌপুলিশ। এছাড়া স্থানীয়দের সরবরাহ করা ভিডিও ফুটেজ এবং নৌপুলিশের সংগৃহীত বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। বন্ধু দীপ ফের ৩ দিনের রিমান্ডে তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে, দীপকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম দফার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন। এ কারণে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এর আগে, এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত শনিবার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই মামলায় গ্রেপ্তার দীপের সঙ্গে নেস্ট বারে দেখা যাওয়া দিশা নামের তরুণীও চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। গত রোববার তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় গত শুক্রবার রাতে হত্যা মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। প্রসঙ্গত, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহালের সময় তার ট্রাউজারের পকেটে পাওয়া আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। পিবিআই সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে মোহাম্মদপুর থেকে দীপকে আটক করে এবং তার তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। পরে দীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাহসিফের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার মধ্যরাতে মিরপুর ১৪ নম্বর এলাকা থেকে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তারও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল মঙ্গলবার ছিল দিশার রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন এবং দীপের রিমান্ডের তৃতীয় দিন।