প্রকাশ :: ... | ... | ...

ব্রহ্মপুত্রের ঘাটে ভক্তদের ঢল, কঠোর নিরাপত্তায় বিজয়া দশমী


সংযুক্ত ছবি

ঢাকের বাদ্য, ভক্তদের উলুধ্বনি, ধুনুচি নাচ ও সিঁদুর খেলার আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন। উৎসবের শেষ পর্বকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিজয়া দশমী উপলক্ষে বুধবার দুপুরের পর থেকে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। পরে বিকেল থেকে ঐতিহ্যবাহী ব্রহ্মপুত্র নদসহ জেলার বিভিন্ন নির্ধারিত জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। বিকেল থেকেই নগরীর কাচারীঘাটসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের বিসর্জন ঘাটে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। ঢাকের তালে তালে শোভাযাত্রা, উলুধ্বনি ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় উৎসবস্থলজুড়ে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। বিসর্জন কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে জেলা পুলিশ, কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করছেন পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বিসর্জন কার্যক্রমে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান বিসর্জন ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। নদীতে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা চলাকালে নগরীর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক বিভাগ ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ রুট ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা গুজব ছড়িয়ে উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে না পারে। জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন পর্ব শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উৎসবের শেষ পর্ব সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।