নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ৬৪ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ সরকারি স্বাস্থ্য বীমা কর্মসূচি) জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষ কেলেঙ্কারি দায়ে জাকিয়া খান নামে এক বাংলাদেশি নারীকে ৭৬ মাস (৬ বছর ৪ মাস) কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টের বিচারক নাতাশা সি. মারলে এ রায় ঘোষণা করেন। জাকিয়া খান বাংলাদেশিদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা করতেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টার এবং একটি হোম হেলথ কেয়ার কোম্পানির আড়ালে এই বিশাল অঙ্কের দুর্নীতি চালিয়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জাকিয়া খান। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের কথা স্বীকার করে দোষী সাব্যস্ত হন। দণ্ডাদেশ অনুযায়ী, কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা (রেস্টিটিউশন) এবং ৫ মিলিয়ন ডলারের অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, সোনার গহনা এবং তার দুটি রিয়েল এস্টেট সম্পত্তি। নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র, বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ডসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা এ রায় ও তদন্তের বিষয়টি যৌথভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, জাকিয়া খান ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার’ এবং ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। এ ছাড়া তিনি ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ ও ‘তানউই সার্ভিসেস’ নামের আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই জালিয়াতির অর্থ লেনদেন ও গোপন করতেন। তদন্তে জানা যায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন প্রলোভন ও ঘুষের মাধ্যমে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের জাকিয়ার ডে কেয়ার সেন্টারে নিয়ে আসা হতো। পরবর্তীতে কোনো বাস্তব সেবা না দিয়েই মেডিকেইড থেকে প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল তোলেন তিনি এবং তার সহযোগীরা। এই জালিয়াতির মাধ্যমে মেডিকেইড কর্তৃপক্ষ থেকে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল।