ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার নন্দীগ্রামে সরকারি সার-বীজ দেয়ার নামে অর্থ আদায় 

বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিনামূল্যে কৃষি সহায়তার সার-বীজ দেয়ার নামে কৃষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। কৃষি উপকরণ দেয়ার কথা বলে প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে নগদ একহাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে গত রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন সদর ইউনিয়নের হাঁটুয়া গ্রামের নিখিল চন্দ্রের পুত্র লিখন চন্দ্র সূত্রধর। এদিকে অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত ও পদক্ষেপ না নিয়ে সোমবার বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, কৃষি সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ দেয়ার কথা বলে হাঁটুয়া গ্রামের দশজন কৃষকের কাছ থেকে একহাজার টাকা করে ১০হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ডেরাহার গ্রামের সাবেক নারী ইউপি সদস্য লিলি খাতুন। ইতিপূর্বে তিনি কৃষি সহায়তা দেয়ার জন্য জনপ্রতি ২০০টাকা করে নিতো। এবছর জনপ্রতি একহাজার করে দাবি করেন। টাকা না দিলে কৃষি উপকরণ পাওয়া যাবে না বলে জানায়। নিরুপায় হয়ে দশজন কৃষক হাঁটুয়া গ্রামের নিমাই চন্দ্রের মাধ্যমে ১০হাজার টাকা নারী ইউপি সদস্যের নিকট প্রদান করে। অভিযোগকারী উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ প্রদান করে আসছেন। সরকারি সার-বীজ দেয়ার কথা বলে কিছু অসাধু ব্যক্তি হাজারো কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
কৃষি সহায়তার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সাবেক নারী ইউপি সদস্য লিলি খাতুন বলেন, দুইমাস ধরে নন্দীগ্রাম শহরেই যাইনি। আমি কি কৃষি কর্মকর্তা? সহায়তার নামে কারো কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করিনি। তারা অন্য কাউকে টাকা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। তবে এ ব্যাপারে হাঁটুয়া গ্রামের নিমাই চন্দ্রের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, উপজেলার ৫১৫০জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণের উদ্বোধন করা হয়েছে। এটা সরকারি কার্যক্রম, অভিযোগ হলেই কার্যক্রম বন্ধ হয় না। কৃষি সহায়তার নামে অনিয়মের বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। ইউএনওর কাছে অভিযোগ হয়েছে, তিনিই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত করা হচ্ছে। সরকারি কৃষি প্রণোদনা দেয়ার কথা বলে অর্থ নেয়ার প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ট্যাগস :

বগুড়ার নন্দীগ্রামে সরকারি সার-বীজ দেয়ার নামে অর্থ আদায় 

আপডেট সময় : ০৬:২৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩
বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিনামূল্যে কৃষি সহায়তার সার-বীজ দেয়ার নামে কৃষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। কৃষি উপকরণ দেয়ার কথা বলে প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে নগদ একহাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে গত রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন সদর ইউনিয়নের হাঁটুয়া গ্রামের নিখিল চন্দ্রের পুত্র লিখন চন্দ্র সূত্রধর। এদিকে অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত ও পদক্ষেপ না নিয়ে সোমবার বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, কৃষি সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ দেয়ার কথা বলে হাঁটুয়া গ্রামের দশজন কৃষকের কাছ থেকে একহাজার টাকা করে ১০হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ডেরাহার গ্রামের সাবেক নারী ইউপি সদস্য লিলি খাতুন। ইতিপূর্বে তিনি কৃষি সহায়তা দেয়ার জন্য জনপ্রতি ২০০টাকা করে নিতো। এবছর জনপ্রতি একহাজার করে দাবি করেন। টাকা না দিলে কৃষি উপকরণ পাওয়া যাবে না বলে জানায়। নিরুপায় হয়ে দশজন কৃষক হাঁটুয়া গ্রামের নিমাই চন্দ্রের মাধ্যমে ১০হাজার টাকা নারী ইউপি সদস্যের নিকট প্রদান করে। অভিযোগকারী উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ প্রদান করে আসছেন। সরকারি সার-বীজ দেয়ার কথা বলে কিছু অসাধু ব্যক্তি হাজারো কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
কৃষি সহায়তার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সাবেক নারী ইউপি সদস্য লিলি খাতুন বলেন, দুইমাস ধরে নন্দীগ্রাম শহরেই যাইনি। আমি কি কৃষি কর্মকর্তা? সহায়তার নামে কারো কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করিনি। তারা অন্য কাউকে টাকা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। তবে এ ব্যাপারে হাঁটুয়া গ্রামের নিমাই চন্দ্রের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, উপজেলার ৫১৫০জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণের উদ্বোধন করা হয়েছে। এটা সরকারি কার্যক্রম, অভিযোগ হলেই কার্যক্রম বন্ধ হয় না। কৃষি সহায়তার নামে অনিয়মের বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। ইউএনওর কাছে অভিযোগ হয়েছে, তিনিই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত করা হচ্ছে। সরকারি কৃষি প্রণোদনা দেয়ার কথা বলে অর্থ নেয়ার প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।