প্রকাশ :: ... | ... | ...

রাজনৈতিক বাস্তবতা না বুঝায় রংপুর অঞ্চলের মানুষ কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত, মির্জা ফখরুল


সংযুক্ত ছবি

রংপুরের মানুষ রাজনৈতিক বাস্তবতা না বুঝে বারবার ভিন্ন দলকে সমর্থন করায় পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার দাবি, রাজনৈতিক বাস্তবতা না বুঝে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতকে সমর্থন করায় এ অঞ্চলের মানুষ কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আজ ৯ আগস্ট রবিবার দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় রংপুর অঞ্চলের ২৫টি দুস্থ পরিবারের চা-ঘর (চায়ের দোকান) হস্তান্তর উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, রংপুরের মানুষ হিসেবে আমরা সবচেয়ে পিছিয়ে আছি। কেন পিছিয়ে? আমরা তো সঠিক বাস্তবতাই বুঝতে চাই না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আপনারা করেন জাতীয় পার্টি, আবার বিএনপি সরকারে থাকলে আপনারা করেন জামায়াত! তাহলে কীভাবে হবে? উন্নয়ন পাবেন কীভাবে? আমি বাস্তব সত্যটা এ কারণেই বলছি যে আপনাদের রাজনীতি ও উন্নয়নের গতিধারা বুঝতে হবে। বাস্তবতা না বুঝলে এগোনো সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চান। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্ব কমবে। মধ্যপাড়া ও বড়পুকুরিয়ায় কয়লা ও পাথরের খনি রয়েছে। এগুলো একসময় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন সেগুলো আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সেখানে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ যেন কৃষিতে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারেন, সেজন্য কৃষির বিভিন্ন খাতে কাজ শুরু হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে মানুষ খুব গরীব, খুব দরিদ্র। কিন্তু দরিদ্র থাকারও একটা কারণ আছে। আমাদের এই এলাকার মানুষের উদ্যোগ নেই, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস নেই। নতুন কিছু করার জন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার, সেটাও নেই। আমাদের অঞ্চলের মানুষেরা নিজে থেকে কিছু করতে চায় না। আমি সেই সূত্রেই আপনাদের বলেছিলাম, আমাদের দেশের, বিশেষ করে এই অঞ্চলের মানুষকে দেখবেন তারা বিদেশে যেতে চায় না। আপনি লন্ডনে গেলে দেখবেন বাঙালিতে গিজগিজ করছে। কারা? এই সিলেটিরা। শুনলে অবাক হবেন, লন্ডনে সিলেটিদের একটি শিল্প গড়ে উঠেছে। এটাকে সেখানে বলা হয় কারি ইন্ডাস্ট্রি বা রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। এই রেস্টুরেন্টগুলোর সঙ্গে সিলেটি মানুষের ব্যাপক স¤পৃক্ততা রয়েছে। সেখানে ১২ হাজারের বেশি রেস্টুরেন্ট নিয়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি শিল্প গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এখন আমাদের দেশে একটি বিশাল পরিবর্তন হয়েছে। প্রায় ১৫-১৬ বছরের ভয়াবহ একদলীয় শাসনব্যবস্থা, ফ্যাসিজম বা স্বৈরাচারের পর মানুষের সামনে একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখন একটু দম নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এখন আর সামু, সাইফুলদের অন্যের বাড়িতে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে হয় না, পালিয়ে থাকতে হয় না। সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে দাবি করে তিনি বলেন, পত্রিকাগুলো আওয়ামী লীগের আমলে লিখতেই পারত না, কথা বলতেও সাহস করত না। সত্য-মিথ্যা যাই হোক এখন যা খুশি লিখতেছে। তারপরে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবে যা খুশি তাই চালাচ্ছে তারা। যার সত্যতা বলতে কিছু থাকে না। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদেরকে কিন্তু এগোতে হচ্ছে। জনগণের কাছে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ যে তাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা পালন করার চেষ্টা করব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ক্ষমতাকে টাকা বানানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামস প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে রংপুর অঞ্চলের ২৫টি সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫টি চা দোকান ঘর হস্তান্তর করা হয়। এসময় রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।