প্রকাশ :: ... | ... | ...

সাবেক মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন চৌধুরীর ৩ দিনের রিমান্ড


সংযুক্ত ছবি

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রোপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার করা রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে এদিন মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর জেহাদ হোসেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতে রিমান্ড আবেদনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই মামলায় কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মো. মিজানুর রহমানসহ আরও তিনজনকে একই আদালত তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ। তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজাহারনামীয় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অজ্ঞাতনামা আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, হামলায় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামিকে নিবিড় ও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এসব কারণে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে প্রায় ৫০ জনের একটি দল বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে প্রকল্প এলাকায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি সেখানে থাকা বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা এবং প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করা হয়। হামলাকারীরা কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। হামলার সময় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতেও অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধারের কথাও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিউগিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্প কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।