২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও গণঅভুত্থানের অন্যতম সংগঠক ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। এ কারণে মামলাটির পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। পরে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গোয়েন্দা পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার আগের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করাও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনি প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় তার বহনকারী অটোরিকশা পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিতে গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। গত ৬ জানুয়ারি মামলাটিতে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এতে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ অন্যদের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে বাদীর নারাজি আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে মামলাটির অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এবার আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হলো।