রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে মাঠে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপনের ধুম পড়েছে। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত চাষীরা মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত মৌসুমে দাম না পেলেও এবার লাভের আশায় বুক বেধে তারা আবারও পেঁয়াজ চাষাবাদে নেমেছেন। তবে চড়া দামে রাসায়নিক সার,বীজ,কিনাশক এবং শ্রমিক দিয়ে চাষাবাদ করায় তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। একারনে লাভ নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। জানা যায়,চলতি বছর রাজবাড়ী জেলায় ৬ হাজার ১৩ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজবাড়ীর বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়,কৃষকেরা কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ আবার সারি সারি করে পেঁয়াজ রোপণ করছেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শ্রমিকদের নিয়েও চলছে চাষাবাদের কর্মকাণ্ড। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণ শুরু হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বর নাগাদ ফসল ঘরে তোলার আশা করছেন তারা। স্বল্প সময়ে উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এ পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। কালুখালী উপজেলার হরিণবাড়িয়া চরের কৃষক নজর মোল্লা জানান, “খরচ করে পেঁয়াজ লাগাই, কিন্তু দাম তো পাই না। প্রতি বছরই লোকসান হচ্ছে। বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে বিঘায় ৭০ থেকে ৮০ মণ পেঁয়াজ পাব। এখন বাজারে কী দাম পাব, তার ওপরই লাভ-লোকসানের হিসাব নির্ভর করছে। একই এলাকার কৃষক ফজলুর রহমান জানান, এক বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে তার খরচ হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার ৪০০ টাকা। এর মধ্যে জমি চাষে তিন হাজার, সারে ১০ হাজার, ১০ মণ বীজে ৩০ হাজার, রোপণের শ্রমিক খরচ ছয় হাজার ৪০০, সেচে তিন হাজার, কীটনাশকে পাঁচ হাজার এবং নিড়ানিতে তিন হাজার টাকা ব্যয় হয়। এই হিসাব যাদের নিজস্ব জমি আছে, তাদের। যাদের জমি লিজ নিতে হয়, তাদের এই ৬০ হাজার টাকার খরচের সঙ্গে আরও ৩০ হাজার টাকা যোগ করতে হবে। কৃষকদের মতে, শুধু ভালো ফলন হলেই হবে না, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজারদরও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বাড়তি খরচের চাপে পেঁয়াজ চাষ করেও লোকসানের মুখে পড়তে পারেন তারা। রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান জানান, সারা দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে রাজবাড়ী। এ জেলায় হালি ও মুড়িকাটা, দুই ধরনের পেঁয়াজেরই আবাদ হয়ে থাকে।