প্রকাশ :: ... | ... | ...

সোনালী আঁশে হাসির ঝিলিক


সংযুক্ত ছবি

ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত চাষীরা। ছবি : সবুজ বাংলা

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল সোনালী আঁশখ্যাত পাটকে ঘিরে শ্রমিক সংকটের মধ্যেও ফরিদপুরের কৃষক পরিবারগুলোতে ব্যস্ততার ধুম পড়েছে। মাঠ থেকে জলাশয় সবখানেই পাটের আঁশ ছাড়ানোর কর্মযজ্ঞে মুখর হয়ে উঠেছে জেলার গ্রামীণ জনপদ। বর্ষার মৌসুমে পাট কাটা ও জাগ দেয়ার পর জেলার বিভিন্ন উপজেলার নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত নারী-পুরুষকে একযোগে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। এমন বাস্তবতায় সোনালী আঁশে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠছে হাসির ঝিলক। কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠে এবার পাটের ভালো ফলন হবে। এতে ন্যাযদাম পেলে খরচ তুলে লাভবান হলে আগামীতে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে। ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা পাট গাছ কেটে পানিতে জাগ দেয়ার পর সেগুলো তুলে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। কেউ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কেউ পাটের আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানোর জন্য বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা আড় ও খোলা স্থানে বিছিয়ে দিচ্ছেন। কৃষকদের সঙ্গে নারীরাও সমানতালে এ কাজে অংশ নিচ্ছেন। ভাঙ্গা উপজেলার কৃষাণী বিলকিস বেগম বলেন, পাটের কাজ শুধু পুরুষরা করেন না, নারীরাও মাঠে ও বাড়িতে অনেক কাজ করেন। পাটের আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে আমরা অংশ নিই। এতে পরিবারের বাড়তি শ্রমিকের প্রয়োজন কমে। এবার খরচ তুলে লাভের মুখ দেখলে আগামীতেও পাট চাষ করবো। সুদিন ফিরবে সোনালী আঁশে, এমনটিই বলেন কৃষাণী বিলকিস বেগম। বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক কালাম শেখ বলেন, পাটের আঁশ ছাড়ানোর সময় এখন ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি। শ্রমিক সংকট থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। পাটের দাম ভালো থাকলে আগামী মৌসুমেও বেশি জমিতে পাট চাষের আগ্রহ থাকবে। সালথা উপজেলার কৃষক আরফিন মাতুব্বর বলেন, এ বছর পাটের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাট গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এখন আঁশ ছাড়ানোর কাজে পরিবারের সবাই ব্যস্ত। ভালো দাম পেলে পাট চাষে খরচ উঠে লাভও থাকবে। নগরকান্দা উপজেলার কৃষক মতি খাঁ বলেন, পাট চাষ করতে শ্রম ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। তবে ভালো ফলন হলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উন্নতমানের আঁশ তৈরি করা। এজন্য পাট ভালোভাবে জাগ দেয়া ও পরিষ্কার পানিতে আঁশ ছাড়ানো দরকার। ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে ৮৭ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৭৪ হেক্টর জমিতে সোনালী আঁশের বেশি আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অনুকূলে ছিল। ফলে পাটের ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন, যাতে উন্নতমানের পাট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়। পাটের আঁশ ছাড়ানোর ক্ষেত্রে পরিষ্কার পানি ব্যবহার, সঠিক সময়ে পাট কাটা এবং যথাযথভাবে শুকানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে পাটের মান ভালো থাকবে এবং বাজারে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে জানান জেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. শাহাদুজ্জামান।