প্রকাশ :: ... | ... | ...

জৌলুস হারিয়েছে গোবিন্দাসী গরুর হাট


সংযুক্ত ছবি

একসময় গোবিন্দাসী ফেরিঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও জমজমাট ছিল টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গরুর হাট। প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার হাটের দিন গোবিন্দাসী সড়কে লেগে থাকত যানজট। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু কিনতে ও বিক্রি করতে ছুটে আসতেন পাইকার ও ব্যবসায়ীরা। কোরবানির ঈদে হাটের সেই ব্যস্ততা ও জাঁকজমক পৌঁছাত ভিন্ন মাত্রায়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। একসময় রোববার ও বৃহস্পতিবার যে পরিমাণ গরু বেচাকেনা হতো, বর্তমানে কোরবানির ঈদেও নাকি সেই পরিমাণ বেচাকেনা হয় না। ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনা কমে যাওয়ায় হারিয়ে গেছে হাটের আগের সেই জৌলুস। স্থানীয়দের মুখে মুখে হাটের এই দুরবস্থার পেছনে নানা কারণের কথা শোনা যায়। কথিত আছে, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কেউ কেউ অসাধু চক্রের ফাঁদে পড়তেন। নেশাজাতীয় দ্রব্য ও নারীর প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা পাইকারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে থাকতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া না গেলে সেগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। একসময় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর হাট হিসেবে পরিচিত গোবিন্দাসী হাট ছিল এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। হাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল বহু মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। অথচ সেই হাটের অতীত গৌরব এখন অনেকটাই স্মৃতিনির্ভর। সময়ের সঙ্গে গোবিন্দাসী গরুর হাটের এমন পরিবর্তন স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হাটের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনতে এর বর্তমান সমস্যা চিহ্নিত করা, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একসময়ের জমজমাট গোবিন্দাসী গরুর হাট এখন যেন শুধুই অতীতের গল্প।