ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের একটি বিতর্কিত ছবি টাঙানো নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সরব হয়ে উঠেছে। পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে জনমনে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। সংগ্রহশালায় জিন্নাহ’র ছবি টাঙানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল। এরপর বিকেলেই সেই সংগ্রহশালা থেকে জিন্নার প্রদর্শিত তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। ঢাবি সূত্রে জানা যায়, গত রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংসদ (ডাকসু) এর সংস্কার শেষে সেটি নতুনভাবে চালু করা হয়। সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ৩টি ছবি প্রদর্শনের জন্য টাঙানো হয়। সেই দৃশ্য দেখে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু করে। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় জিন্নাহ’র ছবি টাঙানোয় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণের মধ্যেও শুরু হয় চরম ক্ষোভ-অসন্তোষ। এ ঘটনা চাউর হলে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ছবি ছিঁড়ে ফেলার সময় আবু তৈয়ব বলেন, এ দেশের ভাষা আন্দোলনের আসল নায়কদের বাদ দিয়ে পাকিস্তানের জাঁদরেল জিন্নাহ’র ছবি কেন ডাকসু রেখেছে, তার জন্য প্রশাসন ও ডাকসুর নেতাদের জবাব দিতে হবে। যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সে জিন্নাহকে কীভাবে এখানে রাখা হয়?। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সব জায়গায় রক্ত দিয়েছে। এখানে ভাষা আন্দোলনের নায়ক আবুল কাসেমের ছবি থাকতে হবে। এখানে শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবিও থাকতে হবে। আবু তৈয়ব আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফলে সংগ্রহশালায় কোন ব্যক্তির ছবি কীভাবে এবং কোন প্রেক্ষাপটে প্রদর্শন করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তিনি ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো উপাদান সংগ্রহশালায় রাখা হলে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। তার ভাষ্য, জিন্নাহ’র ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত রোববার সংস্কার শেষে ডাকসু সংগ্রহশালাটি নতুনভাবে চালু করা হয়। সংস্কারের পর সেখানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি সংযোজন করা হয়। এর মধ্যে একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া জিন্নাহর ভাষণের ছবি। ওই ভাষণে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবি এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত জিন্নাহর ছবি-সম্বলিত পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনও সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে। এদিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ’র ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ডাকসুর বর্তমান পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে উপেক্ষা করে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি ‘প্রচ্ছন্ন অনুরাগ’ প্রদর্শন করছে। সংগঠনটি আরও দাবি করে, সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি সংযোজনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি অবস্থান তৈরি হয়েছে। জিন্নাহর ছবি সংযোজন নিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির উপস্থাপন কীভাবে করা হয়েছে, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলএক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তার ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পরবর্তীতে যা ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ভিত্তি তৈরি করে বলে দাবি করেছে ছাত্রদল। ছাত্রদলের দাবি, বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে পরিষদটিকে দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি স্থাপনকে একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে ছাত্রদল। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ডাকসুর বর্তমান পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনা ও ঐতিহ্যকে বিসর্জন দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। একইসঙ্গে ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তারা আরও বলেন, ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণাও দেন তারা। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৩টি ছবি ছিঁড়ে ফেলার পর এবার সাঁটানো হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের একটি বিতর্কিত ছবি। গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই ছবিটি টাঙানো হয়েছে। ডাকসুর সংগ্রহশালায় ছবিটির ক্যাপশনে লেখা আছে, ‘১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি বায়তুল মোকাররমে ফিলিস্তিনের যুদ্ধে শহীদ দুই বাংলাদেশির জানাজার নামাজ পড়তে এলে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে জুতাপেটা করেন’। সেই ছবিটি সাঁটিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী অর্ক বড়ুয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক। গোলাম আযমের বিতর্কিত ছবি সাঁটানোর বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বেসিক্যালি এখানে ডাকসু সংগ্রহশালা.. ইটস মিন্ট টু বি বাংলাদেশের জনগণের লড়াইয়ের বা বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক ইতিহাসের আর্কাইভ।’ তিনি বলেন, ‘সেই ঐতিহাসিক ইতিহাসের আর্কাইভের জায়গায় এই ছবিটি কেন রেখেছি? কারণ আমরা পরিষ্কার দেখছি যে আমাদের ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, তিনি যখন এখানে জিন্নাহর ছবি লাগান, তখন তিনি বলেছেন যে তার ইচ্ছা হয়েছে বলে তিনি লাগাইছেন। তো আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই আমি গোলাম আযমের ছবি লাগাইছি।’ ডাকসুর এতিহ্যবাহী এ সংগ্রহশালায় বিতর্কিত পাকিস্তানের জিন্নাহ ও বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ছবি টাঙানো নিয়ে গতকাল দিনভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। এ বিষয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ ও লালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এটি উদ্বোধন করেন। এতে বলা হয়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডার, ১৯৭৩ (Dhaka University Order, 1973) এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডিন্যান্স অ্যান্ড রেগুলেশনস (Dhaka University Ordinances and Regulations) এর চ্যাপ্টার ১৪ (Chapter XIV) এর ধারা ৪ এর নোট অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ যে কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে নেবেন। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনোরূপ অনুমতি বা আলোচনা করে স্থাপন করেনি। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এখতিয়ারবর্হিভূত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষক মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ নিজেদের উদ্যোগে পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না। একই সঙ্গে এই ওয়েবসাইট চালু করে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যও বাইরে আনা হয়েছে। যা আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে Teaching Evaluation-এর (শিক্ষক মূল্যায়ন) জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে। যা বাস্তবায়নের পথে। ফলে অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার সামিল। এমতাবস্থায় ডাকসুর এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত এবং অগ্রহণযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিচালিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আপস করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ, পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।