প্রকাশ :: ... | ... | ...

তাড়াশে আদালতে মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের পান্ডুরা গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে বিএনপির এক নেতাকে আদালতে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে ইলিয়াস আলী জিন্না ও তার ভাই ফিরোজ আহম্মেদ বিরুদ্ধে। মামলায় তালম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিদ্যুৎ সরকারকে আসামি করা হলেও ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬, রোববার পান্ডুরা গ্রামে মফিজ উদ্দিনের পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইলিয়াস আলী জিন্না ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন পুকুরে মাছ ধরার চেষ্টা করলে তার ছোট ভাই, দুই বোন ও মা এতে বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ইলিয়াস আলী জিন্না ও তার ভাই ফিরোজ আহম্মেদ মাছ ধরতে না পেরে নিজ বাড়িতে গিয়ে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশি সহযোগিতা চান। খবর পেয়ে তাড়াশ থানা থেকে এসআই আবুল কালাম আজাদসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ইলিয়াস আলী জিন্না ও তার ভাই ফিরোজ আহম্মেদ উদ্ধার করে পুলিশ গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যান। তবে পরবর্তীতে ফিরোজ আহম্মেদ বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার বর্ণনায় তাদের ভ্যানে করে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মামলায় বিদ্যুৎ সরকারের নাম থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তাড়াশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেদিন তালম ইউনিয়নের পান্ডুরা গ্রাম থেকে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে একটি কল আসে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে ইলিয়াস আলী জিন্নাসহ তার ভাইদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। সেখানে কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আমরা যখন পান্ডুরা গ্রামে পৌঁছাই, তখন বিদ্যুৎ সরকার বা অন্য কাউকে সেখানে পাইনি। এ বিষয়ে মফিজ উদ্দিন বলেন, সেদিন ইলিয়াস, ফিরোজসহ বেশ কিছু লোকজন এসে আমার পুকুরে মাছ ধরার চেষ্টা করে। এতে আমার ছোট ছেলে, দুই মেয়ে ও আমার স্ত্রী বাধা দেয়। সেখানে নিজেদের মধ্যে মারামারি হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ সরকার ওই সময় উপস্থিত ছিলেন না। তাহলে বিদ্যুৎ সরকারের নাম কেন দেওয়া হয়েছে, তা বুঝতে পারলাম না। তালম লস্করপাড়া গ্রামের মো. সোহেল রানা বলেন, ওই দিন আমি গুল্টা যাওয়ার পথে দেখি মফিজ উদ্দিনের বড় পক্ষের ছেলেদের ও ছোট পক্ষের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। আমি গাড়ি থামিয়ে তাদের দুই পক্ষের মারামারি থামিয়ে সরিয়ে দিই। কিন্তু সেখানে বিদ্যুৎ সরকার উপস্থিত ছিলেন না। আজ আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম, ফিরোজ বাদী হয়ে বিদ্যুৎ সরকারের নাম দিয়েছে। অথচ সেদিন বিদ্যুৎ সেখানে ছিলেন না। একই গ্রামের মৃত শাহজাহানের ছেলে মো. শাহজামাল বলেন, আমি ঘটনার সময় নিজের জমি থেকে ফেরার পথে দেখি মফিজ উদ্দিনের দুই পক্ষের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। সেখানে বিদ্যুৎ সরকার ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর থানা থেকে পুলিশ এসে মফিজ উদ্দিনের বাড়ির ভেতরে ঢুকে কী কী যেন খোঁজ করে ইলিয়াস আলী জিন্না ও তার ভাই ফিরোজ উদ্দিনকে পুলিশ গাড়িতে করে নিয়ে যায়। মারামারির সময় কাউকে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় দেখিনি। তবে ইলিয়াস আলী জিন্নার পিঠে দুটি আঘাত করতে দেখেছি, সেটিও মফিজ উদ্দিনের ছোট পক্ষের ছেলে মেরেছে। ফিরোজ ও ইলিয়াস আলী জিন্নার মাথায় কোনো আঘাত বা রক্তপাতের ঘটনা দেখিনি। ঘটনার বিষয় সত্যতা জানতে চাইলে ইলিয়াস আলী জিন্নার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে বলেন, আপনার সাথে আমার এ বিষয়ে কোন হবে না। আপনাকে আমি কেন বলবো। বিদ্যুৎ সরকার আপনার কি হয়। বিদ্যুৎতের হয়ে আমাকে কেন ফোন দিয়েছেন আপনার মত বহুত সাংবাদিক আমার চেনা আছে। বিদ্যুৎ আবার কবে কার নেতা। যদি কিছু জানার থাকে আমার সাথে দেখা করেন। এ বিষয়ে তাড়াশ থানার এসআই আনিছ বলেন, আদালত থেকে ঘটনার তদন্তের ভার ওসি স্যার আমার ওপর দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাব। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে মামলা, ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎ সরকার উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি এলাকাবাসীর। মামলায় উত্থাপিত অভিযোগ ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।#