প্রকাশ :: ... | ... | ...

দেশে হাম-ডেঙ্গুর থাবায় প্রাণ গেল ১২ জনের


সংযুক্ত ছবি

* হামে মৃত্যু বেড়ে ১০৬৩, একদিনে আক্রান্ত ১৩০৫ * ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ১৯০, একদিনে আক্রান্ত ১৬৫৫ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম ও হামের উপসর্গে এবং এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে কেউ না কেউ নতুন করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। প্রনিনিয়তই হাম ও হামের উপসর্গের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই প্রাণঘাতী এ দুটি রোগে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গুর থাবায় ৪ শিশুসহ প্রাণ গেল আরও ১০ জনের। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৬ শিশু ও ডেঙ্গুজ্বরে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের সবাই শিশু। গত ২৪ ঘন্টায় প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১৩০৫ জন। অপরদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গেুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬৫৫ জন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৬৩ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৩০৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে ২ জন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে আরও ২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সবমিলিয়ে দেশজুড়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জনের সন্দেহজনক হাম (হামের উপসর্গ) শনাক্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ২০ হাজার ৬৪৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোয় মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর এ পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে মোট প্রাণহানি ১৯০ জনে দাঁড়াল। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের ২১ দিনেই ডেঙ্গুতে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৬৫৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৬ জনই রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৩১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়াও উল্লেখিত সময়ে ঢাকা বিভাগে ২৮১ জন ছাড়াও খুলনা বিভাগে ২৭১, বরিশাল বিভাগে ২১৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৬৭, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬৬, রাজশাহী বিভাগে ১৪৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৩, রংপুর বিভাগে ৪১ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশে ডেঙ্গুতে ৩৬ জন মারা গেছেন। এর পরের মাস আগস্টে ৪৩ জন এবং চলতি সেপ্টেম্বরের ২১ দিনেই ডেঙ্গুতে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৮৭ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৪ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮, বরিশাল বিভাগে ১৪, রাজশাহী বিভাগে ১৪, রংপুর বিভাগে ৪ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।