নওগাঁর সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নে রাতে পাচারের সময় ১২০ বস্তা ডিএপি সার স্থানীয়রা আটক করে। মালিক বিহীন আটকৃত সার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করার পর বুধবার প্রকাশ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চাহিদা মাফিক বিক্রি করা হয়েছে। আর বিক্রিত সারের অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম। জানা যায়, সদর উপজেলার দুবলহাটিতে অবস্থিত সারের অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট “মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স"। মঙ্গলবার রাতে ওই ডিলার পয়েন্টের মালিক ওয়াসেফ আলী মোল্লার গোডাউন থেকে দুটি ভুটভুটিতে ১২০ বস্তা ডিএপি সার বোঝাই করে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিষয়টি বুঝতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা দুবলহাটি-হাপানিয়া সড়কে গাড়ি দুটি থামিয়ে দেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নসিমনের চালকেরা প্রথমে ওই ইউনিয়নের ইণ্টিতলা মোড়ে যাওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে জেরার মুখে স্বীকার করে যে সারগুলো রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যেখানে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সার সংকটে ভুগছে আর সেখানে স্থানীয় ডিলার অধিক মুনাফার লক্ষ্যে সার অন্য জেলায় পাচার করছে এমন খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়ি দুটি আটক করে সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও থানা পুলিশকে খবর দেয়। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার দুবলহাটি-হাপানিয়া এলাকার কিছু মানুষ ফোনে সার পাচারের বিষয়টি জানালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে গিয়ে মালিক বিহীন অবস্থায় ১২০ বস্তা ডিএপি সার দুটি ভটভটি নামক গাড়িতে পাওয়া যায়। যেহেতু সারগুলোর মালিককে পাওয়া যায়নি সেহেতু সারগুলো জব্দ করা হয়। সেই জব্দকৃত সার বুধবার ওই ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে কৃষকদের মাঝে চাহিদা মাফিক বিক্রি করা হয়েছে। আর বিক্রিত সারের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন জানান শতাধিক বস্তা সার অন্য জেলায় পাচার হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার রাতে কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ৬০ বস্তা করে দুটি গাড়িতে মোট ১২০ বস্তা ডিএপি সার স্থানীয় জনতা আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে সারের ডিলার কিংবা তার কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধিকে না পাওয়ার কারণে “সার আইন- ২০০৬" অনুসারে সার ভর্তি ভুটভুটি দুটি জব্দ করে দুবলহাটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে নিরাপদ সংরক্ষণে রাখা হয়। তিনি আরো জানান, বুধবার কৃষি কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত ১২০বস্তা সার সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ওই ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের মাঝে চাহিদা মাফিক বিক্রি করা হয়। আর সার বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সার নিয়ে কোন অনিয়মকে মেনে নেওয়া হবে না। আর আগামীতে কোনো ডিলার কিংবা সার ব্যবসায়ীরা সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেস্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান এই কর্মকর্তা।