পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে নওগাঁ পুলিশ লাইন্সে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার এই জনকল্যাণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নওগাঁ জেলা পুলিশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আশিক সাঈদ, ডিআইজি রাজশাহী রেঞ্জ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিসেস শামীম আরা হক, উপদেষ্টা, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), রাজশাহী রেঞ্জ। এ সময় প্রধান অতিথি জনাব মোঃ আশিক সাঈদ এবং মিসেস শামীম আরা হক নওগাঁ পুলিশ লাইন্সের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এবং পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) নওগাঁ-এর সভানেত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যরা, পুনাকের সদস্যরা এবং স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি জনাব মোঃ আশিক সাঈদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, একটি গাছ মানে একটি ভবিষ্যৎ। আর একটি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত মানে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন সম্ভাবনার সূচনা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করে না, জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখবে। বিশেষ অতিথি মিসেস শামীম আরা হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, নারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে আমরা সবসময় পরিবেশ ও সমাজসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসি। বৃক্ষরোপণ ও মাছ চাষের মতো উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও সমৃদ্ধ পরিবেশ তৈরি করবে। তিনি পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদেরও এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। নওগাঁর পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। পুলিশ লাইন্সের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করে আমরা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছি। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মসূচি আগামীতে আরও ব্যাপক আকারে অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়। এছাড়া ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা গাছের চারা রোপণ করে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। কর্মসূচির মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ। জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ স্থানীয় জীববৈচিত্র্য বাড়ায় এবং বৃক্ষরোপণ কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। নওগাঁ জেলা পুলিশের এ উদ্যোগ অন্যান্য জেলার জন্য উদাহরণ হতে পারে।