প্রকাশ :: ... | ... | ...

শয্যা সংকটে গাছতলায় -ভ্যানে ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসা


সংযুক্ত ছবি

‎নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর চাপ। মাত্র ২০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৮৬ জন রোগী। ধারণক্ষমতার প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ রোগী থাকায় ওয়ার্ডের ভেতরে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে মেঝে, বারান্দা ও হাসপাতাল চত্বরের গাছতলায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ ভ্যানের ওপর বসেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। ‎ ‎হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন নতুন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আগের রোগীদের অনেকেই পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় তাঁদের ছাড়পত্র দেওয়া যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডের খালি শয্যাতেও ডায়রিয়া রোগীদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। ‎ ‎বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডের ভেতর ও বারান্দায় রোগী ও স্বজনদের ভীড়। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী থাকায় কেউ মেঝেতে, কেউ বারান্দায় অবস্থান করছেন। জায়গা না পেয়ে কয়েকজন রোগীকে হাসপাতাল ভবনের বাইরে গাছের নিচে বসে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। গাছের ডালে স্যালাইন ঝুলিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন কেউ কেউ। আবার অসুস্থ শিশুদের কোলে নিয়ে টুলে বসে অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা। ‎ ‎এতে রোগীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তৈরি হয়েছে চাপ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে স্বজনদের উদ্বেগ বেশি। অতিরিক্ত রোগীর কারণে ওয়ার্ডের ভেতরে গরম ও ভিড়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন। ‎ ‎নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের ইপিজেড এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া ইসলাম ১২ মাস বয়সী নাতিকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ভেতরে জায়গা নেই। ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেখছি ওয়ার্ডে প্রচণ্ড ভিড়। তাই বাইরে গাছের নিচে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’ ‎ ‎শিশুটির মা জান্নাতুন বেগম বলেন, ‘বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। একটি বেডে তিন-চারজন করে শুয়ে আছে। ভেতরে প্রচণ্ড গরম। সেখানে থাকা কঠিন। কিন্তু বাচ্চা অসুস্থ, চিকিৎসা তো নিতেই হবে।’ ‎ ‎সদর উপজেলার কচুকাটা এলাকা থেকে আট মাস বয়সী শিশু লামিয়াকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন মল্লিনা আক্তার। হাসপাতাল চত্বরে গাছের নিচে বসে শিশুর চিকিৎসা নিতে দেখা যায় তাঁকে। মল্লিনা বলেন, ‘বাচ্চা অসুস্থ হয়েছে। এখন যেকোনোভাবে চিকিৎসা নিতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই এখানেই চিকিৎসা নিচ্ছি।’ ‎ ‎চওড়া বড়গাছা এলাকার রোজিনা বেগম বলেন, ‘ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে স্বামীর ভ্যানের ওপর বসে চিকিৎসা নিচ্ছি। একটি বেডে তিন-চারজন রোগীকে থাকতে হচ্ছে।’ ‎ ‎হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জান্নাতুন মাওয়া বলেন, ‘আমাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ২০ জন। অথচ প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আগের রোগীরাও থেকে যাচ্ছেন। এভাবে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মোটামুটি সরবরাহ রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ ‎ ‎হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি বলেন, ‘আমাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ২০ জন। এখন প্রায় চারগুণ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে। অতিরিক্ত রোগীর কারণে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এর পরও চিকিৎসাসেবায় কোনো কমতি না রাখার চেষ্টা করছি।’ ‎ ‎তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে কিছু শয্যা খালি ছিল। সেখানেও ডায়রিয়া রোগীদের স্থানান্তর করা হয়েছে। কারণ এটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় রোগীদের বাইরে রাখলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ ‎ ‎হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সীমিত শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোগীদের পৃথকভাবে রাখার ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রোগীর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।