পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে থানায় ঢোকার নির্দেশ, সাংবাদিকের ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও উচ্চ স্বরে চিৎকার করে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার এসআই নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার বিকালে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট সোমবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা থানায় যান। তাদের সঙ্গেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে চুরির অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় ডেকে আনেন এসআই নিহার রঞ্জন। সাব্বিরের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে গালাগাল করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে কালবেলার রেজওয়ান রনিসহ কয়েকজন সাংবাদিক থানায় যান। সেখানে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এসআই নিহার রঞ্জন। কালবেলার ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনি বলেন, প্রথমে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি আমাকে বসতে বলেন। কিন্তু অভিযুক্তকে গালাগাল ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই এসআই আমার পরিচয়পত্র দেখতে চান। এ সময় তাকে ভিজিটিং কার্ড দিলেও তিনি তা দেখেননি। ওসি আমাকে চেনেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে বললে এসআই বলেন, ওসি, কমিশনারের কথা শোনার আমার টাইম নেই। রেজওয়ান রনি বলেন, থানায় আসা সাংবাদিকদের সবাইকে গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হয় এ কথা জানিয়ে তিনি চিল্লাতে চিল্লাতে আমাকে সেখান থেকে বের করে দেন। একপর্যায়ে থানায় আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি সহকর্মীদের জানিয়ে থানায় ডেকে নিই। তারা এলে ওই পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গেও উচ্চ স্বরে চিৎকার চেঁচামেচি করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। আরএনবি নিউজের হেড অব ডিজিটাল এ কে এম সুমন মিয়া বলেন, থানায় এসে এসআই নিহার রঞ্জনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে জানান পরিচয়পত্র ছাড়া সাংবাদিকরা থানার ভেতরে আসতে পারবেন না। এ সময় তিনি আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলেন, ধুর! এখান থেকে যান তো। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন,ওই পুলিশ সদস্য খুবই খারাপ আচরণ করছিলেন। সাংবাদিক তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি শুনতে চাননি। তিনি উচ্চ স্বরে কথা বলে বারবার রুম থেকে বের করে দেন। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কেএম নাজমুল কাদের বলেন, সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, থানা সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে কাউকে পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে আসতে হবে না।