নাটোরে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জালিয়াতি, ভুয়া ঋণপত্র তৈরি এবং অতিরিক্ত আমানত দেখানোর অভিযোগে চার শাখা ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক লিটন কুমার ও সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার বিপ্লব কুমার পালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে দেশের সব ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন থেকে নাটোর ও নওগাঁর প্রধান শাখায় পাঠানো চিঠিতে এসব নির্দেশ দেয়া হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ব্যাংকের প্রধান শাখায় সংযুক্ত করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে নাটোর শহরের বাসস্ট্যান্ড শাখা, স্টেশন বাজার শাখা, গুরুদাসপুর ও চাঁচকৈড় শাখায় অভ্যন্তরীণ ও বিশেষ অডিট পরিচালনা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অডিটে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য উঠে আসে। অডিট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নাটোর শহরের বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক, বর্তমানে নওগাঁর প্রিন্সিপাল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার লিটন কুমারের বিরুদ্ধে ব্যাংকের ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার ও বর্তমানে নওগাঁর টিটিডিসি শাখার ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার পালের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া ঋণপত্র তৈরি ও অতিরিক্ত আমানত দেখানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নাটোর স্টেশন বাজার শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এএইচএম রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভুয়া ঋণ এবং অতিরিক্ত আমানত দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুদাসপুর শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৭৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকার ভুয়া ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চাঁচকৈড় শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে বড়াইগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ভুয়া ঋণ এবং অতিরিক্ত আমানত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। অডিটে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি, অতিরিক্ত আমানত প্রদর্শন এবং ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতিসাধনের মতো অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পাঁচ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রধান শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।