ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

৪৬টি কোম্পানিতে ১০০ কোটি বিনিয়োগের পরিকল্পনা

দেশের ৪৬ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানÑ স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড।
এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সম্প্রতি টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সামি আহমেদ।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৮ কোম্পানিতে মোট ৭৩.৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৪ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। কৌশলগত এসব বিনিয়োগ হেলথটেক, এগ্রিটেক, এডটেক, লজিস্টিকস, ফিনটেক, ই-কমার্স ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে করা হয়েছে।
এসব খাতে আরো প্রবৃদ্ধির অনুমান করে, নতুন করেও একই ধরনের স্টার্টআপ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে সামি আহমেদ বলেছেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের বিনিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রাখতে এবং কোম্পানির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে আরও ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন।
অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, বিনিয়োগ চাহিদা পূরণে স্টার্টআপ বাংলাদেশকে অর্থায়ন করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‘দ্রুত অর্থ ছাড় করা হবে।’ এর মাধ্যমে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২০ সালে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করলেও তা বর্তমানে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

সামি বলেন, ‘যেসব কোম্পানি তাদের যাত্রা শুরুর মূলধন বা আয়ে প্রবৃদ্ধি থাকাকালীন পর্যায়ে আমাদের বিনিয়োগ পেয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে এটা তাদের বড় হতে সাহায্য করেছে। এসব স্টার্টআপ বিকশিত হয়ে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করেছে এবং সৃজনশীল পণ্য ও সেবা বাজারে এনেছে।’
‘ফলে এই বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে, এবং একটা টেকনিক্যাল ইনোভেশন সেন্টার হিসেবে আমাদের অবস্থানকে দৃঢ় করেছে। আমাদের বিনিয়োগের ফলে হওয়া উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে আড়াই কোটির বেশি শিক্ষার্থীকে একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান, ৫ কোটির বেশি গ্রাহককে পণ্য ও সেবার সুবিধা প্রদান, ১৫ হাজারের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান এবং ৩ লাখের বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার মতো দিক রয়েছে।

সাজগোজ, জাহাজী, ডানা-ফিনটেক, হিসাব, বাড়ি কই, অন্য, লুজলি ক্যাপলড, এলিস ল্যাবস, উইগ্রো, সেবা প্লাটফর্ম লিমিটেড, ফেব্রিক লাগবে নামের ১১ স্টার্টআপ কোম্পানিতে বিনিয়োগের প্রস্তাব স্টার্টআপ বাংলাদেশের পরিচালক বোর্ড অনুমোদন করেছে। এসব কোম্পানিতে ১৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের চুক্তি প্রক্রিয়াধীন।
এর বাইরে আরও ৩৫টি স্টার্টআপে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর বাইরে আগে অনুমোদন হয়েছে, কিন্তু অর্থ হস্তান্তর হয়নি এমন ১১টি প্রতিষ্ঠানে ৯.৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এসব বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটির ১০০ কোটি টাকা লাগবে।
সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে চালডাল লিমিটেড-এ। মুদিপণ্যের এই প্রতিষ্ঠানে ৯.৯৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এরপর ইন্টেলিজেন্ট মেশিনস লিমিটেড’ নামের স্টার্টআপে ৫.৪৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

৪৬টি কোম্পানিতে ১০০ কোটি বিনিয়োগের পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৩

দেশের ৪৬ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানÑ স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড।
এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সম্প্রতি টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সামি আহমেদ।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৮ কোম্পানিতে মোট ৭৩.৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৪ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। কৌশলগত এসব বিনিয়োগ হেলথটেক, এগ্রিটেক, এডটেক, লজিস্টিকস, ফিনটেক, ই-কমার্স ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে করা হয়েছে।
এসব খাতে আরো প্রবৃদ্ধির অনুমান করে, নতুন করেও একই ধরনের স্টার্টআপ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে সামি আহমেদ বলেছেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের বিনিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রাখতে এবং কোম্পানির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে আরও ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন।
অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, বিনিয়োগ চাহিদা পূরণে স্টার্টআপ বাংলাদেশকে অর্থায়ন করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‘দ্রুত অর্থ ছাড় করা হবে।’ এর মাধ্যমে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২০ সালে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করলেও তা বর্তমানে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

সামি বলেন, ‘যেসব কোম্পানি তাদের যাত্রা শুরুর মূলধন বা আয়ে প্রবৃদ্ধি থাকাকালীন পর্যায়ে আমাদের বিনিয়োগ পেয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে এটা তাদের বড় হতে সাহায্য করেছে। এসব স্টার্টআপ বিকশিত হয়ে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করেছে এবং সৃজনশীল পণ্য ও সেবা বাজারে এনেছে।’
‘ফলে এই বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে, এবং একটা টেকনিক্যাল ইনোভেশন সেন্টার হিসেবে আমাদের অবস্থানকে দৃঢ় করেছে। আমাদের বিনিয়োগের ফলে হওয়া উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে আড়াই কোটির বেশি শিক্ষার্থীকে একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান, ৫ কোটির বেশি গ্রাহককে পণ্য ও সেবার সুবিধা প্রদান, ১৫ হাজারের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান এবং ৩ লাখের বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার মতো দিক রয়েছে।

সাজগোজ, জাহাজী, ডানা-ফিনটেক, হিসাব, বাড়ি কই, অন্য, লুজলি ক্যাপলড, এলিস ল্যাবস, উইগ্রো, সেবা প্লাটফর্ম লিমিটেড, ফেব্রিক লাগবে নামের ১১ স্টার্টআপ কোম্পানিতে বিনিয়োগের প্রস্তাব স্টার্টআপ বাংলাদেশের পরিচালক বোর্ড অনুমোদন করেছে। এসব কোম্পানিতে ১৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের চুক্তি প্রক্রিয়াধীন।
এর বাইরে আরও ৩৫টি স্টার্টআপে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর বাইরে আগে অনুমোদন হয়েছে, কিন্তু অর্থ হস্তান্তর হয়নি এমন ১১টি প্রতিষ্ঠানে ৯.৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এসব বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটির ১০০ কোটি টাকা লাগবে।
সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে চালডাল লিমিটেড-এ। মুদিপণ্যের এই প্রতিষ্ঠানে ৯.৯৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এরপর ইন্টেলিজেন্ট মেশিনস লিমিটেড’ নামের স্টার্টআপে ৫.৪৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।