০৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে অবাধে পাখি নিধন। হুমকির মুখে জীববৈচিত্র

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • 26

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা যখন ভেসে বেড়ায় আর খাল বিল জলাভূমিতে পানি কমতে শুরু করে তখনি খাদ্যের সন্ধানে দলে দলে আসতে থাকে দেশী প্রজাতির পাখি। মাছ, শামুক, পোকা-মাকড়, জলজ উদ্ভিদ ও গুল্ম এসবই পাখির প্রধান খাবার।

শেরপুরের নকলা উপজেলা নদী, খাল, বিল সহ সবচাইতে বেশী জলাভূমি সমৃদ্ধ অঞ্চল বিধায় শরতের শুরুতেই এখানে দেশী ও কিছু সংখ্যক পরিযায়ী প্রজাতির পাখির আগমন ঘটে বেশী। এরই সুযোগে পাখি শিকারিরা তৎপর হয়ে উঠে। নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের সিংগা বিল, সুতিবিল, মাজাকান্দা বিল ও চিকনা বিল, গৌরদ্বার ইউনিয়নের তেঘড়িয়া বিল, পৌর এলাকার কুরশা বিল এবং পাঠাকাটা ইউনিয়নের বড়োডুবি বিল এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে এসব বিলে দেশী প্রজাতির নানা ধরনের বক, পানকৌড়ি, কালিম ও ঘুঘু সহ অসংখ্য পাখি ঝাক বেধেঁ খাদ্যের সন্ধানে চড়ে বেড়াচ্ছে।
কিন্ত এরই মধ্যে এক শ্রেণীর পাখি শিকারির দল পাখি ধরার কাজে নেমে পড়েছে। এরা বনে বাদারে জলাভূমিতে  ফাঁদ পেতে তাদের পোষা পাখিদের দিয়ে ডেকে বুনো পাখিদের ফাঁদে ফেলে ধরে। পরে এসব পাখি গ্রাম গঞ্জের হাট- বাজারে বিক্রি করে। তবে আশার কথা জেলার জীব বৈচিত্র রক্ষাকারী সংগঠণ শেরপুর বার্ড কনজাভেশন সোসাইটি, প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, জন উদ্যোগ, সবুজ বাংলা প্রভৃতি স্বেচ্ছাসেবী সমিতি বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ জলাভূমি ও চরাঞ্চলে ঘুরে পশুপাখি ধরা ও নিধন বন্ধ সেই সঙ্গে বন ভূমি বক্ষায় জনমত সৃষ্টির জন্য নিরন্তর কাজ করে যচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে নকলা উপজেলার বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম জাকারিয়া পবন জানান, সংগঠণের সদস্য হিসাবে তিনি ইতোমধ্যে জনমত সৃষ্টি করে ও আইনের ভয় দেখিয়ে পাখি শিকারীদের হাত থেকে ৬০/৭০টি বক, ৮ /৯ টি পান কৌড়ি, ১৮ টি ঘুঘু, ২াট কালিম, ১টি ডাহুক উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দিতে পেরেছেন। তবে তার দুঃখ বানেশ্বরদী ইউনিয়নের আলিনা পাড়া গ্রামবাসীরা এ ব্যাপারে চরম বিরোধিতা করে আসছে। তারাই সেখানকার মরাকান্দা বিলে অবাধে বক সহ নানাপ্রজাতির পাখি শিকার করে থাকে।
এ প্রসঙ্গে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া উম্মুল বানিন-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অচিরেই মোবাইল কোর্ট মাধ্যমে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
অপর দিকে এ বিষয়ে বন্য প্রানী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মন্জুরুল ইসলাম জানায়, এ বিষয়ে আমরা তৎপর আছি। ইতিপূর্বে পাখি শিকারীদের ধরে তাদের কাছ থেকে পাখি অবমুক্ত আমরা করেছি। তবে এ পাখি শিকার রোধ করতে মোবাইল কোর্টের চিন্তা ভাবনা আমাদেরও রয়েছে।

 

 

শেরপুরে উদ্ধারকৃত তক্ষক গারো পাহাড়ে অবমুক্ত

শেরপুরে গত ৬ অক্টোবর শ্রীবর্দী থানা পুলিশ কর্তৃক ৪ পাচারকারীর হাত থেকে উদ্ধারকৃত বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী তক্ষকটি গারো পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
১০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জের গজনি বিট এলাকার বনের ভিতর তক্ষকটি অবমুক্ত করা হয়।
এসময় রাংটিয়া রেঞ্জের রেঞ্জার মকরুল ইসলাম আকন্দ, শ্রীবর্দী থানার এসআই কামরুল ইসলাম, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জার মো. মন্জুরুল আলমসহ অন্যান্য বন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর জেলার শ্রীবর্দী উপজেলার রাণীশিমূল ইউনিয়নের ভয়াডাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে শ্রীবর্দী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই তক্ষকটি উদ্ধার করে। এসময় তক্ষকটির ক্রেতা-বিক্রেতাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে বন্য প্রাণী আটক ও পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো রফিকুল ইসলাম, হারুন মিয়া, শাহীন মিয়া ও সুজন মিয়া। তারা জানায়, ১৬ ইঞ্চি লম্বা ও ১৩৫ গ্রাম ওজনের বিরল এ বন্য প্রাণী তক্ষকটি ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছিলো।

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল

শেরপুরে অবাধে পাখি নিধন। হুমকির মুখে জীববৈচিত্র

আপডেট সময় : ০৪:৪১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা যখন ভেসে বেড়ায় আর খাল বিল জলাভূমিতে পানি কমতে শুরু করে তখনি খাদ্যের সন্ধানে দলে দলে আসতে থাকে দেশী প্রজাতির পাখি। মাছ, শামুক, পোকা-মাকড়, জলজ উদ্ভিদ ও গুল্ম এসবই পাখির প্রধান খাবার।

শেরপুরের নকলা উপজেলা নদী, খাল, বিল সহ সবচাইতে বেশী জলাভূমি সমৃদ্ধ অঞ্চল বিধায় শরতের শুরুতেই এখানে দেশী ও কিছু সংখ্যক পরিযায়ী প্রজাতির পাখির আগমন ঘটে বেশী। এরই সুযোগে পাখি শিকারিরা তৎপর হয়ে উঠে। নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের সিংগা বিল, সুতিবিল, মাজাকান্দা বিল ও চিকনা বিল, গৌরদ্বার ইউনিয়নের তেঘড়িয়া বিল, পৌর এলাকার কুরশা বিল এবং পাঠাকাটা ইউনিয়নের বড়োডুবি বিল এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে এসব বিলে দেশী প্রজাতির নানা ধরনের বক, পানকৌড়ি, কালিম ও ঘুঘু সহ অসংখ্য পাখি ঝাক বেধেঁ খাদ্যের সন্ধানে চড়ে বেড়াচ্ছে।
কিন্ত এরই মধ্যে এক শ্রেণীর পাখি শিকারির দল পাখি ধরার কাজে নেমে পড়েছে। এরা বনে বাদারে জলাভূমিতে  ফাঁদ পেতে তাদের পোষা পাখিদের দিয়ে ডেকে বুনো পাখিদের ফাঁদে ফেলে ধরে। পরে এসব পাখি গ্রাম গঞ্জের হাট- বাজারে বিক্রি করে। তবে আশার কথা জেলার জীব বৈচিত্র রক্ষাকারী সংগঠণ শেরপুর বার্ড কনজাভেশন সোসাইটি, প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, জন উদ্যোগ, সবুজ বাংলা প্রভৃতি স্বেচ্ছাসেবী সমিতি বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ জলাভূমি ও চরাঞ্চলে ঘুরে পশুপাখি ধরা ও নিধন বন্ধ সেই সঙ্গে বন ভূমি বক্ষায় জনমত সৃষ্টির জন্য নিরন্তর কাজ করে যচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে নকলা উপজেলার বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম জাকারিয়া পবন জানান, সংগঠণের সদস্য হিসাবে তিনি ইতোমধ্যে জনমত সৃষ্টি করে ও আইনের ভয় দেখিয়ে পাখি শিকারীদের হাত থেকে ৬০/৭০টি বক, ৮ /৯ টি পান কৌড়ি, ১৮ টি ঘুঘু, ২াট কালিম, ১টি ডাহুক উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দিতে পেরেছেন। তবে তার দুঃখ বানেশ্বরদী ইউনিয়নের আলিনা পাড়া গ্রামবাসীরা এ ব্যাপারে চরম বিরোধিতা করে আসছে। তারাই সেখানকার মরাকান্দা বিলে অবাধে বক সহ নানাপ্রজাতির পাখি শিকার করে থাকে।
এ প্রসঙ্গে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া উম্মুল বানিন-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অচিরেই মোবাইল কোর্ট মাধ্যমে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
অপর দিকে এ বিষয়ে বন্য প্রানী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মন্জুরুল ইসলাম জানায়, এ বিষয়ে আমরা তৎপর আছি। ইতিপূর্বে পাখি শিকারীদের ধরে তাদের কাছ থেকে পাখি অবমুক্ত আমরা করেছি। তবে এ পাখি শিকার রোধ করতে মোবাইল কোর্টের চিন্তা ভাবনা আমাদেরও রয়েছে।

 

 

শেরপুরে উদ্ধারকৃত তক্ষক গারো পাহাড়ে অবমুক্ত

শেরপুরে গত ৬ অক্টোবর শ্রীবর্দী থানা পুলিশ কর্তৃক ৪ পাচারকারীর হাত থেকে উদ্ধারকৃত বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী তক্ষকটি গারো পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
১০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জের গজনি বিট এলাকার বনের ভিতর তক্ষকটি অবমুক্ত করা হয়।
এসময় রাংটিয়া রেঞ্জের রেঞ্জার মকরুল ইসলাম আকন্দ, শ্রীবর্দী থানার এসআই কামরুল ইসলাম, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জার মো. মন্জুরুল আলমসহ অন্যান্য বন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর জেলার শ্রীবর্দী উপজেলার রাণীশিমূল ইউনিয়নের ভয়াডাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে শ্রীবর্দী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই তক্ষকটি উদ্ধার করে। এসময় তক্ষকটির ক্রেতা-বিক্রেতাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে বন্য প্রাণী আটক ও পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো রফিকুল ইসলাম, হারুন মিয়া, শাহীন মিয়া ও সুজন মিয়া। তারা জানায়, ১৬ ইঞ্চি লম্বা ও ১৩৫ গ্রাম ওজনের বিরল এ বন্য প্রাণী তক্ষকটি ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছিলো।