০৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে বেরোবি শিক্ষার্থীদের দাবি

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • 94

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রসারের লক্ষ্যে  ২০০৮ সালে

১২ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে উত্তর জনপদের

‘অক্সফোর্ড খ্যাত” বৃক্ষ জাদুঘর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) যাত্রা শুরু করে।

রংপুর শহরের প্রবেশদ্বার মর্ডান মোড়ের নিকটবর্তী পার্কের মোড়ে ৭৫ একর জায়গার ওপর সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসটি অবস্থিত।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ষোল বছরে পদার্পণ করছে বৃক্ষের জাদুঘর খ্যাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।বর্তমানে সেশনজট শূন্যের কোঠায় । শিক্ষা ও গবেষণায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সিমাগো র‍্যাঙ্কিং-২০২৩ গবেষণায় দেশ সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩য় স্থান অর্জন করেছে। বিভাগীয় শহরে হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে নানা সংকট। আর সেই সকল সংকট ও শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান,

‘আবাসিক  সংকট দুরীকরন ও ক্যারিয়ার ভিত্তিক  কর্মশালা চাই’

প্রায় ১০ হাজার ‍শিক্ষার্থী জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হল সংখ্যা মাত্র ৩ টি। ছেলেদের ২ টি হল, মেয়েদের মাত্র ১ টি। বিভাগীয় শহরের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায়, মেসে থাকা এবং খচর চালানো অনেক নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। হল প্রয়োজনীয়তার ব্যাপকতা অনিবার্য। বেগম রো।কেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ বছর পদার্পনে শিক্ষার্থী সংখ্যা বহু বেড়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় স্থানীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশী, সেই সাথে শহরের দিকে টিউশনি প্রবণতা বেশী। তাই আমাদের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বাস নেই। বাস সংখ্যা বৃদ্ধি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে। এতকিছুর পরেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দরকার নিয়মিত গবেষনা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য কর্মশালা। নিয়মিত দরকার “Job Fair”. প্রশাসনের কাছে আশা রাখি, নিয়মিত ক্যারিয়ার ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মশালা এবং সেমিনার রাখবে।’

জান্নাতুন্নাহার তুলি

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর 

 

’অডিটোরিয়াম চাই’

হাঁটি হাঁটি পা পা করে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ষোল বছরে পদার্পণ করছে বৃক্ষের জাদুঘর খ্যাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।বর্তমানে সেশনজট শূন্যের কোঠায় । শিক্ষা ও গবেষণায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সিমাগো র‍্যাঙ্কিং-২০২৩: গবেষণায় দেশ সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩য় স্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অনেক কিছু থাকার ফলেও যেন বিশ্ববিদ্যালয়টি অপূর্ণতা রয়েছে। এখানে নেই কোনো অডিটোরিয়াম। ফলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা সেমিনারগুলো করা হচ্ছে ক্যাফেটেরিয়া বা ক্লাস রুমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার আয়োজন গুলো ব্যাহত হচ্ছে। লিডারশীপে পিছিয়ে যাচ্ছে এখানকার শিক্ষার্থীরা। তাই, অডিটোরিয়াম নির্মাণে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মোঃ মমিনুর রহমান

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।

’সপ্তাহে ৭ দিন সেন্ট্রাল লাইব্রেরী খোলা ও পর্যাপ্ত বই চাই ’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের সাথে সাথে নিজের নানান সমস্যা কাটিয়ে সগৌরবে এগিয়ে চলছে ।একটি বিশ্ববিদ্যালয় হল শিক্ষা চর্চা , গবেষণা করার উন্মুক্ত স্থান । আর এই চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে আমাদের সেন্ট্রাল লাইব্রেরী । যেখানে দেখা যায় ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো সপ্তাহে ৬/৭ খোলা থাকে। সেখানে আমাদের ৪ দিন সেটাও আবার  সকাল ১০ থেকে সন্ধা ৭ টা পর্যন্ত। যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে। আমাদের লাইব্রেরীর  অধিকাংশ  সেলফগুলোতে রয়েছে বইয়ের অপ্রতুলতা । শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ থাকলেও লাইব্রেরীতে মজুদ নেই যথেষ্ট সংখ্যক বই । জব প্রিপারেশন পর্যাপ্ত বই নেই। লাইব্রেরীটিকে আরও  সমৃদ্ধের  মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ করার  অনুরোধ করছি। একই সাথে সপ্তাহে ৭ দিন লাইব্রেরী খোলা ও সময় বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

গালিবা ইবনাত

গণিত বিভাগ ,

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ,রংপুর।

’নাট্যকলা ও থিয়েটার, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অন্তর্ভুক্ত চাই’

প্রথমত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। হাটি হাটি পা পা করে সাফল্যরূপে প্রাণের বিদ্যাপীঠ  ষোল বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছেতবুও প্রতিষ্ঠার ১৬বছরেও কেন জানি মনের কোণে অপূর্ণতার ঢেউ নাড়া দেয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২টি বিষয়ে পাঠদান থাকলেও আরও কিছুসংখ্যক যুগোপযোগী বিষয় । কর্তৃপক্ষ চালু করতে পারেনি যেমনঃ আইন বিভাগ,নাট্যকলা ও থিয়েটার, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অন্তর্ভুক্ত  আরও যুগোপযোগী কিছু বিষয় যা প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। প্রতিষ্ঠার এত বছরেও নেই কোনো  অডিটোরিয়াম।সম্প্রতি কলা অনুষদ কর্তৃক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও বেগম রোকেয়া ইউনিভার্সিটি ডিবেট এসোসিয়েশন (ব্রুডা) ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে জাতীয় বিতর্ক আয়োজন করেছে উন্মুক্ত  ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে। যার ফলে এধরনের বড় কোনো সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম কিংবা কনফারেন্স আয়োজন করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত হল নেই যা আছে সেটি শিক্ষার্থী সংখ্যার অনুপাতে অপ্রতুল ফলে আবাসন সংকটে ভুগছে শিক্ষার্থীরা।একাডেমিক ভবন কম হওয়ায় শিক্ষা পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।এমতাবস্থায় নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ জরুরি বটে।নামমাত্র রিসার্চ ইনস্টিটিউট যেখানে। বাসা বাঁধছে বৃষ্টি আর শেওলা! যার নির্মাণাধীন কাজ এখন স্থবির হয়ে আছে।শিক্ষক ও পরিবহন সংকটের কথা না বললেই নয়।শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত  গাদাগাদি করে বাসে চলাচল করতে হয়!বাস সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা দরকার। এ যেন সংকটেই নাকাল স্বপ্নের ৭৫ একর। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জিং সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বপ্নের সারথি, উত্তর জনপদের আশা আকাঙ্ক্ষার মূর্তপ্রতীক প্রাণের ৭৫ একর কে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এখন সময়ের দাবি।আমরা আশা করি,প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি সুনজর রাখবেন। শতো সংকটকে কাটিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়।এগিয়ে যাক সাফল্যের চূড়ায় এ প্রত্যাশা।যাহোক, বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের সোনার বাংলা,স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট নাগরিক বিনির্মাণে  আগামী দিনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মোঃ জাকের হোসেন পাশা

মাস্টার্স শিক্ষার্থী (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।

’নির্মানাধীন ‍সকল কাজের দ্রুত সমাপ্তি চাই’

আমাদের এই সবুজ ক্যাম্পাস ১৬ বছরে প্রাপ্তির তালিকায় ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা সেশনজট মুক্ত হয়েছে,আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাক্তন অনেক শিক্ষার্থী এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োজিত আছে। প্রত্যাশার তুলনার আমাদের প্রাপ্তি অতি নগণ্য১৬ বছরে পদার্পণ আমরা পালন করতে চলেছি অথচ এখনও পর্যন্ত আমাদের গবেষণার জন্য ড.ওয়াজেদ মিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাজ এখন শেষ হয়নি, ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষক সংকট দূর হয়নি, ছাত্রীদের জন্য নির্মাণাধীন হল,স্বাধীনতা স্বারকের কাজ এখনও শেষ হয়নি, শহীদ মিনার,টিএসসি, অডিটোরিয়াম এখনো নির্মাণ হয়নি।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা,সাহিত্য,গবেষণা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে এসব সংকট নিরসন অতি জরুরি। দুঃখজনক হলেও সত্য শিক্ষার্থীরা এসব সংকটগুলো নিয়ে কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনা।প্রত্যাশা থাকবে এসব সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নজর দেবে।

 

রিনা মুরমু

অর্থনীতি বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।

 

’শ্রেণীকক্ষ সংকট দূর হোক ’

বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকটের অন্যতম অংশ হচ্ছে অপর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে আসলে দারায় থাকতে হয় অনেক সময় ক্লাসরুম ফাঁকা না পেলে ক্লাস ক্যানসেল করতে হয়। এই ভোগান্তিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে একাডেমিক ভবন-৩ এবং কবি হেয়াত মামুদ ভবনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয়টি অনুষদ, একটি ইনস্টটিউিট, ২২টি বিভাগ থাকলেও সেই তুলনায় শ্রেণিকক্ষ নেই। প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা অপ্রতুল। একাডেমিক ভবন-৩ এ চার ফ্লোরে মোট আটটি বিভাগ রয়েছে। সেখানে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দুটি কক্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দুটি, লোকপ্রশাসন বিভাগের দুটি, ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিস বিভাগের তিনটি, অ্যাকাউন্টটিং বিভাগের তিনটি, ফাইন্যান্স বিভাগের তিনটি, মার্কেটিং বিভাগের তিনটি এবং প্রত্যেক বিভাগের একটি করে সেমিনার কক্ষ আছে। কবি হেয়াত মামুদ ভবনে রয়েছে পাঁচটি বিভাগ। এই পাঁচ বিভাগেও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়। তাই আমি মনে করি শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসন ‍এখন সময়ের অন্যতম সেরা দাবি।

মো: মমিতুর ইসলাম

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।

ইবির বঙ্গবন্ধু হলের পকেট গেট বন্ধ করে দিল প্রশাসন 

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে বেরোবি শিক্ষার্থীদের দাবি

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রসারের লক্ষ্যে  ২০০৮ সালে

১২ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে উত্তর জনপদের

‘অক্সফোর্ড খ্যাত” বৃক্ষ জাদুঘর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) যাত্রা শুরু করে।

রংপুর শহরের প্রবেশদ্বার মর্ডান মোড়ের নিকটবর্তী পার্কের মোড়ে ৭৫ একর জায়গার ওপর সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসটি অবস্থিত।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ষোল বছরে পদার্পণ করছে বৃক্ষের জাদুঘর খ্যাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।বর্তমানে সেশনজট শূন্যের কোঠায় । শিক্ষা ও গবেষণায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সিমাগো র‍্যাঙ্কিং-২০২৩ গবেষণায় দেশ সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩য় স্থান অর্জন করেছে। বিভাগীয় শহরে হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে নানা সংকট। আর সেই সকল সংকট ও শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান,

‘আবাসিক  সংকট দুরীকরন ও ক্যারিয়ার ভিত্তিক  কর্মশালা চাই’

প্রায় ১০ হাজার ‍শিক্ষার্থী জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হল সংখ্যা মাত্র ৩ টি। ছেলেদের ২ টি হল, মেয়েদের মাত্র ১ টি। বিভাগীয় শহরের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায়, মেসে থাকা এবং খচর চালানো অনেক নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। হল প্রয়োজনীয়তার ব্যাপকতা অনিবার্য। বেগম রো।কেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ বছর পদার্পনে শিক্ষার্থী সংখ্যা বহু বেড়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় স্থানীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশী, সেই সাথে শহরের দিকে টিউশনি প্রবণতা বেশী। তাই আমাদের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বাস নেই। বাস সংখ্যা বৃদ্ধি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে। এতকিছুর পরেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দরকার নিয়মিত গবেষনা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য কর্মশালা। নিয়মিত দরকার “Job Fair”. প্রশাসনের কাছে আশা রাখি, নিয়মিত ক্যারিয়ার ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মশালা এবং সেমিনার রাখবে।’

জান্নাতুন্নাহার তুলি

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর 

 

’অডিটোরিয়াম চাই’

হাঁটি হাঁটি পা পা করে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ষোল বছরে পদার্পণ করছে বৃক্ষের জাদুঘর খ্যাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।বর্তমানে সেশনজট শূন্যের কোঠায় । শিক্ষা ও গবেষণায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সিমাগো র‍্যাঙ্কিং-২০২৩: গবেষণায় দেশ সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩য় স্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অনেক কিছু থাকার ফলেও যেন বিশ্ববিদ্যালয়টি অপূর্ণতা রয়েছে। এখানে নেই কোনো অডিটোরিয়াম। ফলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা সেমিনারগুলো করা হচ্ছে ক্যাফেটেরিয়া বা ক্লাস রুমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার আয়োজন গুলো ব্যাহত হচ্ছে। লিডারশীপে পিছিয়ে যাচ্ছে এখানকার শিক্ষার্থীরা। তাই, অডিটোরিয়াম নির্মাণে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মোঃ মমিনুর রহমান

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।

’সপ্তাহে ৭ দিন সেন্ট্রাল লাইব্রেরী খোলা ও পর্যাপ্ত বই চাই ’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের সাথে সাথে নিজের নানান সমস্যা কাটিয়ে সগৌরবে এগিয়ে চলছে ।একটি বিশ্ববিদ্যালয় হল শিক্ষা চর্চা , গবেষণা করার উন্মুক্ত স্থান । আর এই চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে আমাদের সেন্ট্রাল লাইব্রেরী । যেখানে দেখা যায় ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো সপ্তাহে ৬/৭ খোলা থাকে। সেখানে আমাদের ৪ দিন সেটাও আবার  সকাল ১০ থেকে সন্ধা ৭ টা পর্যন্ত। যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে। আমাদের লাইব্রেরীর  অধিকাংশ  সেলফগুলোতে রয়েছে বইয়ের অপ্রতুলতা । শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ থাকলেও লাইব্রেরীতে মজুদ নেই যথেষ্ট সংখ্যক বই । জব প্রিপারেশন পর্যাপ্ত বই নেই। লাইব্রেরীটিকে আরও  সমৃদ্ধের  মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ করার  অনুরোধ করছি। একই সাথে সপ্তাহে ৭ দিন লাইব্রেরী খোলা ও সময় বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

গালিবা ইবনাত

গণিত বিভাগ ,

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ,রংপুর।

’নাট্যকলা ও থিয়েটার, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অন্তর্ভুক্ত চাই’

প্রথমত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। হাটি হাটি পা পা করে সাফল্যরূপে প্রাণের বিদ্যাপীঠ  ষোল বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছেতবুও প্রতিষ্ঠার ১৬বছরেও কেন জানি মনের কোণে অপূর্ণতার ঢেউ নাড়া দেয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২টি বিষয়ে পাঠদান থাকলেও আরও কিছুসংখ্যক যুগোপযোগী বিষয় । কর্তৃপক্ষ চালু করতে পারেনি যেমনঃ আইন বিভাগ,নাট্যকলা ও থিয়েটার, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অন্তর্ভুক্ত  আরও যুগোপযোগী কিছু বিষয় যা প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। প্রতিষ্ঠার এত বছরেও নেই কোনো  অডিটোরিয়াম।সম্প্রতি কলা অনুষদ কর্তৃক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও বেগম রোকেয়া ইউনিভার্সিটি ডিবেট এসোসিয়েশন (ব্রুডা) ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে জাতীয় বিতর্ক আয়োজন করেছে উন্মুক্ত  ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে। যার ফলে এধরনের বড় কোনো সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম কিংবা কনফারেন্স আয়োজন করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত হল নেই যা আছে সেটি শিক্ষার্থী সংখ্যার অনুপাতে অপ্রতুল ফলে আবাসন সংকটে ভুগছে শিক্ষার্থীরা।একাডেমিক ভবন কম হওয়ায় শিক্ষা পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।এমতাবস্থায় নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ জরুরি বটে।নামমাত্র রিসার্চ ইনস্টিটিউট যেখানে। বাসা বাঁধছে বৃষ্টি আর শেওলা! যার নির্মাণাধীন কাজ এখন স্থবির হয়ে আছে।শিক্ষক ও পরিবহন সংকটের কথা না বললেই নয়।শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত  গাদাগাদি করে বাসে চলাচল করতে হয়!বাস সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা দরকার। এ যেন সংকটেই নাকাল স্বপ্নের ৭৫ একর। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জিং সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বপ্নের সারথি, উত্তর জনপদের আশা আকাঙ্ক্ষার মূর্তপ্রতীক প্রাণের ৭৫ একর কে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এখন সময়ের দাবি।আমরা আশা করি,প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি সুনজর রাখবেন। শতো সংকটকে কাটিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়।এগিয়ে যাক সাফল্যের চূড়ায় এ প্রত্যাশা।যাহোক, বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের সোনার বাংলা,স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট নাগরিক বিনির্মাণে  আগামী দিনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মোঃ জাকের হোসেন পাশা

মাস্টার্স শিক্ষার্থী (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।

’নির্মানাধীন ‍সকল কাজের দ্রুত সমাপ্তি চাই’

আমাদের এই সবুজ ক্যাম্পাস ১৬ বছরে প্রাপ্তির তালিকায় ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা সেশনজট মুক্ত হয়েছে,আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাক্তন অনেক শিক্ষার্থী এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োজিত আছে। প্রত্যাশার তুলনার আমাদের প্রাপ্তি অতি নগণ্য১৬ বছরে পদার্পণ আমরা পালন করতে চলেছি অথচ এখনও পর্যন্ত আমাদের গবেষণার জন্য ড.ওয়াজেদ মিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাজ এখন শেষ হয়নি, ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষক সংকট দূর হয়নি, ছাত্রীদের জন্য নির্মাণাধীন হল,স্বাধীনতা স্বারকের কাজ এখনও শেষ হয়নি, শহীদ মিনার,টিএসসি, অডিটোরিয়াম এখনো নির্মাণ হয়নি।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা,সাহিত্য,গবেষণা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে এসব সংকট নিরসন অতি জরুরি। দুঃখজনক হলেও সত্য শিক্ষার্থীরা এসব সংকটগুলো নিয়ে কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনা।প্রত্যাশা থাকবে এসব সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নজর দেবে।

 

রিনা মুরমু

অর্থনীতি বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।

 

’শ্রেণীকক্ষ সংকট দূর হোক ’

বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকটের অন্যতম অংশ হচ্ছে অপর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে আসলে দারায় থাকতে হয় অনেক সময় ক্লাসরুম ফাঁকা না পেলে ক্লাস ক্যানসেল করতে হয়। এই ভোগান্তিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে একাডেমিক ভবন-৩ এবং কবি হেয়াত মামুদ ভবনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয়টি অনুষদ, একটি ইনস্টটিউিট, ২২টি বিভাগ থাকলেও সেই তুলনায় শ্রেণিকক্ষ নেই। প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা অপ্রতুল। একাডেমিক ভবন-৩ এ চার ফ্লোরে মোট আটটি বিভাগ রয়েছে। সেখানে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দুটি কক্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দুটি, লোকপ্রশাসন বিভাগের দুটি, ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিস বিভাগের তিনটি, অ্যাকাউন্টটিং বিভাগের তিনটি, ফাইন্যান্স বিভাগের তিনটি, মার্কেটিং বিভাগের তিনটি এবং প্রত্যেক বিভাগের একটি করে সেমিনার কক্ষ আছে। কবি হেয়াত মামুদ ভবনে রয়েছে পাঁচটি বিভাগ। এই পাঁচ বিভাগেও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়। তাই আমি মনে করি শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসন ‍এখন সময়ের অন্যতম সেরা দাবি।

মো: মমিতুর ইসলাম

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।