- দেশজুড়ে বাড়ছে মোবাইল-অনলাইন গেমের আসক্তি
- দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভণে খুলছে চমকপ্রদ গেমিং অ্যাপ
‘এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে টাকা খরচ মানে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাওয়া। আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে এটি অনেক পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নষ্ট করছে’
– ড. মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
‘এই গেমগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে খেলোয়াড় আসক্ত হয়ে পড়ে। প্রতিবার ছোট পুরস্কার দিয়ে বড় পুরস্কারের লোভ দেখানো হয়, যা ‘জুয়া মনস্তত্ত্ব’ তৈরি করে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি মানসিক স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা দুটোই নষ্ট করে’
– অধ্যাপক ডা. মো. মহসিন আলী শাহ্, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা
এসএম দেলোয়ার হোসেন
সঙ্গীতশিল্পীর সুরেলা কণ্ঠে ভেসে ওঠে- ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম…’। আসলেই সেই দিনগুলো কই?। দেশজুড়ে এক সময় শিশু-কিশোরদের বিনোদনের মাধ্যম ছিল খেলাধুলা, বই বা গল্পের আসরে বসে সময় কাটানো। এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মোবাইল ও অনলাইন গেম। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন দেশজুড়ে বাড়ছে মোবাইল-অনলাইন গেমের আসক্তি। বিনোদনের আড়ালে অ্যাপভিত্তিক এই গেমগুলো অনেকের জন্য হয়ে উঠেছে আর্থিক ধ্বংসের ফাঁদ। দ্রুতগতির ইন্টারনেট, সস্তা স্মার্টফোন আর সহজে টাকা লেনদেনের সুযোগ এই তিনের মিলিত প্রভাবে দেশে মোবাইল ও অনলাইন গেমের নেশা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গেম কোম্পানিগুলো এমনভাবে তাদের অ্যাপ তৈরি করে, যাতে খেলোয়াড় প্রথম দিকে কিছুটা বিনামূল্যে খেলতে পারে, কিন্তু পরে ‘জিততে’ হলে বা ‘নতুন লেভেলে’ যেতে হলে টাকা খরচ করতেই হয়। ‘একটু খরচ করলেই জিতব’ এই দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সাইবার চক্ররা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন খুলছে নিত্যনতুন গেমিং ‘অ্যাপ’। আর সেই লোভেই শুরু হয় টাকা ঢালার প্রবণতা। এতে জড়িয়ে পড়ছে পাড়া-মহল্লার শিশু-কিশোর-কিশোরী ও শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এভাবেই দিনের পর দিন গেমিং অ্যাপের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষের জীবন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমানের মতে, এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে টাকা খরচ মানে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাওয়া। আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে এটি অনেক পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নষ্ট করছে। ঢাকার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মহসিন আলী শাহ্ বলছেন, এই গেমগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে খেলোয়াড় আসক্ত হয়ে পড়ে। প্রতিবার ছোট পুরস্কার দিয়ে বড় পুরস্কারের লোভ দেখানো হয়, যা ‘জুয়া মনস্তত্ত্ব’ তৈরি করে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা সবই নষ্ট করে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলছে, জুয়া নিয়ে উৎসাহ প্রদান, অনুমতি ছাড়া কোনো তারকা বা সাধারণ কোনো নাগরিকের ছবি জুয়ার প্রচারণায় ব্যবহার ও বিজ্ঞাপনেও অংশ নেয়া অপরাধ। একই সঙ্গে আইন প্রণয়নের আগে যারা জুয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের দ্রুত এ কার্যক্রম থেকে সরে আসতে বলা হয়েছে। এ জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনে জেল-জরিমানা এমনকি উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আব্দুল মতিন (ছদ্মনাম)। তিনি সবুজ বাংলাকে জানান, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইন কার্ড ও ক্যাসিনো গেম খেলতেন। শুরুতে সামান্য টাকার বাজি হলেও পরে অ্যাপে ‘ইজি পেমেন্ট’ সুবিধায় হাজার হাজার টাকা খরচ হয়। কয়েক মাসের মধ্যে বেতন তো শেষই, ধার-দেনার বোঝা দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ টাকায়। শেষমেশ চাকরি হারিয়ে এখন আত্মীয়ের কাছ থেকে লুকিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এমনই আরেকজন মিরপুরের বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন। এক সময় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন তিনি। ২০২২ সালে তিনি ‘অল-স্টার পোকার’ নামের একটি অনলাইন গেম খেলতে শুরু করেন। শুরুতে বিনামূল্যের কয়েন দিয়ে খেললেও পরে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কয়েন কেনা শুরু করেন। তিনি সবুজ বাংলাকে বলেন, প্রথমে ৫০০ টাকা দিয়ে কিনলাম। তারপর হাজার, তারপর ৫ হাজার এক সময় দেখলাম কার্ডের বিল দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ঋণ শোধ করতে গিয়ে তিনি চাকরিও হারান।
ডেমরার কলেজ ছাত্র মনির হোসেন (ছদ্মনাম) বন্ধুদের সঙ্গে মিশে অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি সবুজ বাংলাকে বলেন, প্রতিবার অ্যাপভিত্তিক গেমে নতুন চরিত্র আনতে টাকা লাগত। বাসা থেকে দেয়া খরচের টাকা থেকে শুরু করে বন্ধুর কাছ থেকেও ধার করেছি। বর্তমানে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছি না, পরীক্ষার ফলও খারাপ হচ্ছে। অ্যাপের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে এই নেশায় আসক্তি হয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। অন্য ভালো কিছু এখন চিন্তাই করতে পারিনা।
রাজধানীর গাবতলী ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ট্রাকস্ট্যান্ডের কয়েকজন ওয়ার্কশপ শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাদের একজন ওয়ার্কশপ শ্রমিক রাসেল। তিনি সবুজ বাংলাকে বলেন, প্রথমে আমরা কয়েকজন মিলে সময় কাটানোর জন্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে গেম খেলতাম। পরে এক সময় দেখি একটা অফার আসলো যে, টাকা ইনভেস্ট করলেই লাভ পাওয়া যাবে। পরে ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করলেও এখন আমাদের প্রতিমাসে প্রায় ৭০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় অনলাইন গেমের মাধ্যমে। এতে করে আমাদের কেউ কেউ টাকা পেয়েছে তবে বেশিরভাগেই টাকা পায় না।
শ্রমিকরা আরও বলেন, অনেক গেম অ্যাপ আছে তাদের এখানে প্রথমে টাকা ইনভেস্ট করার পর যখন খেলা শুরু করি তখন আমাদের প্রতিদিন কিছু টাকা করে লাভ দিতো। এরপর যখন বেশি টাকা ইনভেস্ট করি তখন তারা ওই গেম অ্যাপটা বন্ধ করে দেয়। এভাবেই আমরা অ্যাপভিত্তিক গেম খেলে নিঃস্ব হয়ে যাই। কাজেও ঠিকমতো মন বসে না।
কুমিল্লার একটি সরকারি স্কুলের শিক্ষক আবু তালেব বলেন, আমার ক্লাসের কয়েকজন ছাত্র মোবাইল গেমের কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছে। অভিভাবকেরাও বিষয়টি বুঝতে পারেন না, কারণ তারা মনে করেন, গেম খেলা শুধু বিনোদন।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৬ মে রাজধানীর উত্তরা থেকে র্যাপিড অ্যাপের মালিক মাহেরসহ ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১১ জনই ছিল তরুণী। উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়িতে বসে ‘র্যাপিড ক্যাশ’ এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল তারা। গ্রাহককে ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার নামে ভয়ংকর ফাঁদ পেতেছিল তারা। অ্যাপটি ইনস্টল করার পরপরই গ্রাহকের মোবাইলের ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও, ফোন নম্বর, ফেসবুকসহ সব ব্যক্তিগত তথ্য চলে যেত চক্রটির কাছে। পরে তারা সেই তথ্য বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিত মোটা অঙ্কের টাকা।
পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা সবুজ বাংলাকে জানান, র্যাপিড ক্যাশ নামের ওই অ্যাপটিতে রেজিস্ট্রেশনের পর পরই ব্যবহারকারীকে ৫০০ বা ১ হাজার টাকার ক্ষুদঋণ দেওয়া হতো। আর ওই দিন থেকে টাকার ওপর প্রায় ১০০ টাকা হারে সুদ শুরু হতো। ঋণ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পরিশোধ করতে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দেয় চক্রের সদস্যরা। কোনো গ্রাহক যদি উচ্চ হারের সুদ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালেই শুরু হতো ব্ল্যাকমেইলিং। একই বছরে আগস্টে নওগাঁয় ‘এমটিএফই’ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দ্রুত আয় করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন হাজারো মানুষ। ওই অ্যাপের মালিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। আজও তার কোনো হদিস মেলেনি।
সিআইডি জানায়, হোয়াটস অ্যাপের অজ্ঞাত নম্বর থেকে ভুক্তভোগীদের ঘরে বসে অল্প সময়ে বেশি আয়ের প্রলোভন দেখাত প্রতারকরা। প্রস্তাবে রাজি হলে পাঠানো হতো টেলিগ্রামের একটি লিংক। সেখানে কিছু সাধারণ কাজ শেষ করলেই বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হতো। প্রথমে বিশ্বাস অর্জনের পর দেওয়া হতো বিনিয়োগের প্রস্তাব। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা নেওয়ার পর তা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হুন্ডি করে বিদেশে পাচার করা হতো।
টঙ্গীর আন-নূর জামে মসজিদের খতীব মুফতি আলী হাসান তৈয়ব সবুজ বাংলাকে বলেন, বর্তমানে দেশের সর্বত্র, শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় অনলাইন গেমিংয়ে তরুণ-তরুণীদের আসক্তি বেড়েছে। টাকা খরচ করে বিভিন্ন গেম খেলছে তারা। এসব গেমের কারণে অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে। বাবা-মায়ের উদ্বেগও বাড়ছে। পাশাপাশি, কিছু গেম আসলে জুয়ার মতোই, যা তরুণদের অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন অনলাইন গেম ও বেটিং সাইটের মাধ্যমে তরুণরা টাকা খরচ করছে, অবাধ্য আচরণ করছে এবং জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। ইসলাম ধর্মে যেমন বাস্তব জীবনে জুয়া, প্রতারণা, মিথ্যা কথা বলা বা অশ্লীলতা হারাম, তেমনি অনলাইনেও এসব কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি এসবের মাধ্যমে উপার্জিত আয়ও হারাম।

ইন্টারনেটকে আল্লাহর এক বড় নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করে মুফতি আলী হাসান তৈয়ব আরও বলেন, আউটসোর্সিং, অনলাইন শিক্ষালাভ, কুরআন-হাদিস অধ্যয়ন, আন্তর্জাতিক জ্ঞান অর্জন ইত্যাদি কাজে তরুণদের মনোযোগী হতে হবে। পরিবার ও সমাজকে সজাগ থেকে সন্তানদের এ ধরনের ফেতনা থেকে রক্ষা করতে হবে। সাইবার দুনিয়ায় দুটি দিক রয়েছে, একটি ভালো অপরটি খারাপ। যেটি শিক্ষনীয় সেটি গ্রহণ করা আর যেটি খারাপ তা বর্জন করা উচিৎ।
কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. আবুল কাশেম সবুজ বাংলাকে বলেন, গেম আসক্তি এক সময় মাদকাসক্তির মতোই সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনা ও অনলাইন ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান সবুজ বাংলাকে বলেন, এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে টাকা খরচ মানে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাওয়া। আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে এটি অনেক পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নষ্ট করছে। সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
ঢাকার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মহসিন আলী শাহ্ সবুজ বাংলাকে বলেন, এই গেমগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে খেলোয়াড় আসক্ত হয়ে পড়ে। প্রতিবার ছোট পুরস্কার দিয়ে বড় পুরস্কারের লোভ দেখানো হয়, যা ‘জুয়া মনস্তত্ত্ব’ তৈরি করে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা সবই নষ্ট করে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনলাইনে জুয়া খেলা, জুয়ার অ্যাপ বা পোর্টাল তৈরি ও প্রচারণা- সবই সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া জুয়া খেলার আর্থিক লেনদেন, প্রতারণা ও জালিয়াতিও নিষিদ্ধ।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুয়া নিয়ে উৎসাহ প্রদান বা বিজ্ঞাপনেও অংশ নেয়া অপরাধ। কোনো তারকা বা নাগরিকের ছবি অনুমতি ছাড়া জুয়ার প্রচারণায় ব্যবহৃত হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইন প্রণয়নের আগে যারা জুয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের দ্রুত এ কার্যক্রম থেকে সরে আসতে বলা হয়েছে। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সদ্য জারি হওয়া সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সরকার। ইতোমধ্যে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১ হাজার ১০০ এর বেশি মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) এজেন্ট শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইনের ৩০ ধারায় ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের সুযোগও রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনদাতা ও মিডিয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান সবুজ বাংলাকে বলেন, অ্যাপের ফাঁদে নিঃস্ব হওয়ার পর ভুক্তভোগী অনেকেই সাইবার অপরাধ আইনে মামলা করছেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমাজের মান-লজ্জার ভয়ে অনেকে অভিযোগ করেন না। এরপরও সবাইবার অপরাধ দমনে আমাদের ইউনিট নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে, অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনছে।
এমআর/সবা
























