1:00 am, Tuesday, 26 May 2026

স্ত্রী-সন্তান হারানো সেই সাদ্দাম জামিন পেলেন হাইকোর্টে

স্ত্রী ও শিশু সন্তান হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।

মানবিক বিবেচনায় এই জামিন আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। তিনি বলেন, এর আগে সাদ্দামের ৬ মামলায় জামিন হয়েছিল। বাকি একটা মামলা শুনানির অপেক্ষায় ছিল। সেই মামলায় আজ জামিন হলো। কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুলও জারি করেছেন আদালত।

২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই পাওয়া যায় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ।

পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, বিষণ্নতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেছেন। প্যারোলে সাদ্দামকে মুক্তি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পরদিন ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে তাকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কারা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারাগারের সামনে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সসহ পরিবারের ছয়জন নিকট আত্মীয়কে জেলগেটের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিট অবস্থানের পর তাদের বের করে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন কারাগারের সামনে এসেছিলেন। বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের কান্নায় তখন এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এমআর/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ten − 3 =

About Author Information

M Rahman

Popular Post

দেনমোহর (মাহর) : ইসলামী বিবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার

স্ত্রী-সন্তান হারানো সেই সাদ্দাম জামিন পেলেন হাইকোর্টে

Update Time : ০৬:২৮:৩৭ pm, Monday, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

স্ত্রী ও শিশু সন্তান হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।

মানবিক বিবেচনায় এই জামিন আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। তিনি বলেন, এর আগে সাদ্দামের ৬ মামলায় জামিন হয়েছিল। বাকি একটা মামলা শুনানির অপেক্ষায় ছিল। সেই মামলায় আজ জামিন হলো। কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুলও জারি করেছেন আদালত।

২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই পাওয়া যায় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ।

পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, বিষণ্নতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেছেন। প্যারোলে সাদ্দামকে মুক্তি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পরদিন ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে তাকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কারা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারাগারের সামনে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সসহ পরিবারের ছয়জন নিকট আত্মীয়কে জেলগেটের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিট অবস্থানের পর তাদের বের করে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন কারাগারের সামনে এসেছিলেন। বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের কান্নায় তখন এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এমআর/সবা