ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি আসনে মোট ২৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একসময় জাতীয় পার্টির ঘাঁটিখ্যাত এ বিভাগে এবার তাদের অবস্থান অনেকটাই দুর্বল বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। বেশির ভাগ আসনে এবার বিএনপি-জামায়াত দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস দেখা যাচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও জাতীয় পার্টি কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা। জাতীয় পার্টি নিজেদের ঘাঁটি বা দুর্গ রক্ষায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে।
রংপুরের চিত্র:
রংপুর জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া), রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে দ্বিমুখী লড়াই হতে পারে। জেলার কিছু আসনে জাপা ও এনসিপির উপস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ত্রিমুখী করছে। রংপুর-৩ আসনে ঐতিহ্যগতভাবে শক্ত অবস্থানে থাকা জাপাও এবার বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারে।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটি কর্পোরেশনের ১-৯ নং ওয়ার্ড) আসনে জাপা প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে এখন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী দলের জেলা কমিটির সদস্য মোকাররম হোসেন সুজন, এবং জামায়াতের প্রার্থী দলের মহানগর কমিটির সেক্রেটারি রায়হান সিরাজী মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিপরীতে জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মন্ডল ও বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশনের ১০-৩৩ নং ওয়ার্ড) আসন দীর্ঘদিন জাপার দখলে ছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সারা দেশে দলটির ওপর চাপ বেড়েছে। তবে জাপা নেতারা এ আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এছাড়া জামায়াতের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, বিএনপির সামসুজ্জামান সামু ও ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়ালও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শিল্পপতি এমদাদুল হক ভরসা আলোচনায়। তবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির আখতার হোসেন শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। জাপার প্রার্থী আবু নাসের মো. মাহবুবার রহমানও অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসন দীর্ঘদিন জামায়াতপন্থী ভোটারের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। জামায়াতের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এবং বিএনপির অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর একই নামের কারণে ভোটারদের মধ্যে আলাদা আলোচনা চলছে।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে আগে মূলত আওয়ামী লীগ ও জাপার প্রভাব বেশি দেখা যেত। এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপির সাইফুল ইসলাম ও জামায়াতের মাওলানা নুরুল আমিনের মধ্যে।
পঞ্চগড়:
পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, সদর, আটোয়ারী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সারজিস আলমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
পঞ্চগড়-২ (দেবীগঞ্জ ও বোদা) আসনে বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজাদ ও জামায়াতের মো. সফিউল আলমের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ভোটাররা ধারণা করছেন।
ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জামায়াতের মাওলানা আব্দুল হাকিম ও বিএনপির ডা. আব্দুস সালাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাপার হাফিজ উদ্দীন, জামায়াতের মিজানুর রহমান ও বিএনপির জাহিদুর রহমান ত্রিমুখী লড়াইয়ে রয়েছেন।
নীলফামারী:
নীলফামারীর চার আসনে ২৭ জন প্রার্থী। একটিতে জামায়াত শক্ত অবস্থানে, একটিতে ত্রিমুখী ও দুটিতে দ্বিমুখী লড়াই হবে। নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপির শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ও জামায়ত প্রার্থী আল ফারুক আব্দুল লতিফ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে।
লালমনিরহাট:
তিনটি আসনের একটিতে বিএনপি শক্ত অবস্থানে। লালমনিরহাট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ও জামায়াতের অ্যাডভোকেট আবু তাহের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই আসনে জামায়াত, একটিতে বিএনপি শক্ত অবস্থানে। বাকি দুটি আসনে দ্বিমুখী বা ত্রিমুখী লড়াই হবে। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে বিএনপির জিয়াউল ইসলাম, জামায়াতের মাজেদুর রহমান ও জাপার ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রাম-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই। কুড়িগ্রাম-২ আসনে জামায়াত-বিএনপি, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপি-জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
দিনাজপুর:
দিনাজপুরের ছয় আসনের মধ্যে একটিতে জামায়াত শক্ত অবস্থানে। চারটিতে বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, আর একটিতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
রংপুর বিভাগের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসল প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।
শু/সবা




















