১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 73

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রের সামনে জমতে শুরু করে ভোটারদের ভিড়। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় দীর্ঘ সারিতে রূপ নেয়। নারী, পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সী ভোটারের উপস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রেই তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ প্রতিবেশীদের সঙ্গে কেন্দ্রে এসেছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে হাজারো মানুষকে। অনেক ভোটারই বলছেন, নাগরিক দায়িত্ব পালনের অনুভূতি তাদের মাঝে আলাদা এক উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এর আগেই নির্বাচন কর্মকর্তারা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, ভোটার তালিকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করেন। পোলিং কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক উপস্থিতি মিলিয়ে কেন্দ্রগুলোতে তৈরি হয়েছে নিয়ন্ত্রিত কিন্তু প্রাণবন্ত পরিবেশ।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ভোটের মাঠে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে পুলিশ (১ লাখ ৮৭ হাজার), আনসার (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮), বিজিবি (৩৭ হাজার ৪৫৩), নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র‍্যাব, কোস্টগার্ড ও বিএনসিসি সদস্যরা। সব মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি টহলে রয়েছে র‍্যাব ও বিজিবি। ভোটারদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তরুণ ভোটার বড় ফ্যাক্টর

ইসি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর তরুণ প্রজন্ম। মোট ভোটারের প্রায় ৪৫ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল তরুণ ভোটার উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা—যা নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে নির্বাচন

সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত)। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন।

মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

ভোটগ্রহণে নিয়োজিত আছেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোট পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে এসেছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জন প্রতিনিধিসহ কমনওয়েলথ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রায় ১৫০ জন সাংবাদিক মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এ পর্যন্ত ৩০০টি মামলা দায়ের ও ৫০০টির বেশি তদন্ত করা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রত্যাশা: শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন

বিশাল ভোটারসমাগম, কঠোর নিরাপত্তা বলয় এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের নির্বাচন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের পরিবেশ এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দিনশেষে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর শুরু হবে গণনা। সারা দেশের দৃষ্টি এখন ভোটের ফলাফলের দিকে।

শু/সবা

আলহাজ ময়নাল হকের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল

উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রের সামনে জমতে শুরু করে ভোটারদের ভিড়। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় দীর্ঘ সারিতে রূপ নেয়। নারী, পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সী ভোটারের উপস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রেই তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ প্রতিবেশীদের সঙ্গে কেন্দ্রে এসেছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে হাজারো মানুষকে। অনেক ভোটারই বলছেন, নাগরিক দায়িত্ব পালনের অনুভূতি তাদের মাঝে আলাদা এক উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এর আগেই নির্বাচন কর্মকর্তারা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, ভোটার তালিকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করেন। পোলিং কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক উপস্থিতি মিলিয়ে কেন্দ্রগুলোতে তৈরি হয়েছে নিয়ন্ত্রিত কিন্তু প্রাণবন্ত পরিবেশ।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ভোটের মাঠে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে পুলিশ (১ লাখ ৮৭ হাজার), আনসার (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮), বিজিবি (৩৭ হাজার ৪৫৩), নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র‍্যাব, কোস্টগার্ড ও বিএনসিসি সদস্যরা। সব মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি টহলে রয়েছে র‍্যাব ও বিজিবি। ভোটারদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তরুণ ভোটার বড় ফ্যাক্টর

ইসি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর তরুণ প্রজন্ম। মোট ভোটারের প্রায় ৪৫ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল তরুণ ভোটার উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা—যা নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে নির্বাচন

সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত)। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন।

মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

ভোটগ্রহণে নিয়োজিত আছেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোট পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে এসেছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জন প্রতিনিধিসহ কমনওয়েলথ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রায় ১৫০ জন সাংবাদিক মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এ পর্যন্ত ৩০০টি মামলা দায়ের ও ৫০০টির বেশি তদন্ত করা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রত্যাশা: শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন

বিশাল ভোটারসমাগম, কঠোর নিরাপত্তা বলয় এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের নির্বাচন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের পরিবেশ এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দিনশেষে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর শুরু হবে গণনা। সারা দেশের দৃষ্টি এখন ভোটের ফলাফলের দিকে।

শু/সবা