১২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের শক্ত অবস্থান: রংপুরে জাপার ঘাঁটি এখন ধ্বংসস্তূপ

রংপুর ব্যুরো: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির রংপুরের দুর্গ বা ঘাঁটিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। জাতীয় পার্টি সারাদেশে ১৯৬টি আসনে নির্বাচন করে একটি আসনেও জয়লাভ করতে না পারায় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। ভোটের মাঠে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার ২২টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করেছে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ যে জেলার মাটিতে শায়িত, সেই রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ১টিতে জামায়াত জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। রংপুর-১ আসনে প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় জাপার প্রার্থী শূন্য হয়ে যায়। জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ ৫টি আসনের প্রার্থীরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।

নীলফামারী জেলার ৪টি আসনের সবকটিতেই জামায়াত প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। গাইবান্ধা জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং একটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়লাভ করেছে। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী তৃতীয় স্থান অধিকার করে পরাজিত হয়েছেন।

কুড়িগ্রাম জেলার ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ১টিতে জামায়াত জোটের শরিক দল এনসিপি প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। লালমনিরহাট জেলার ৩টি আসনের সবকটিতেই বিএনপি বিজয়ী হয়েছে।

বৃহত্তর রংপুর জেলার ২২টি আসন ‘জাপার ঘাঁটি’ নামে খ্যাত হলেও এবার একটি আসনেও তারা জয়লাভ করতে পারেনি। এমনকি পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। দলের অন্যান্য প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে অবস্থান করেছেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ দীর্ঘ ৯ বছর দেশ শাসনের পর ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন। ক্ষমতা হারানোর পর কারাগার থেকে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বৃহত্তর রংপুরের ২২টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। সে নির্বাচনে জাপা সারা দেশে ৩৫টি আসনে জয়লাভ করেছিল।

১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর রংপুরের ২২টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে জয়ী হয় জাপা; সারা দেশে তারা পায় ৩২টি আসন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ২২টির মধ্যে ১৩টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি; সারা দেশে পায় ১৪টি আসন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরে ১১টি এবং সারা দেশে ২৭টি আসনে জয়ী হয় জাপা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরে ৮টি এবং সারা দেশে ৩৪টি আসনে জয়লাভ করে দলটি।

একসময় জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর এখন রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন চিত্র ধারণ করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ঘাঁটিতে একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি জাতীয় পার্টি। তিস্তাপারের ভাওয়াইয়া, কারুপণ্য, হাঁড়িভাঙা আম ও শতরঞ্জি পল্লীখ্যাত রংপুর অঞ্চলে এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।

রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জামায়াত ও শরিক দল এনসিপি জয়লাভ করেছে। বিএনপি বিজয়ী হয়েছে ১৫টি আসনে।

আলহাজ ময়নাল হকের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল

জামায়াতের শক্ত অবস্থান: রংপুরে জাপার ঘাঁটি এখন ধ্বংসস্তূপ

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুর ব্যুরো: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির রংপুরের দুর্গ বা ঘাঁটিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। জাতীয় পার্টি সারাদেশে ১৯৬টি আসনে নির্বাচন করে একটি আসনেও জয়লাভ করতে না পারায় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। ভোটের মাঠে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার ২২টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করেছে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ যে জেলার মাটিতে শায়িত, সেই রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ১টিতে জামায়াত জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। রংপুর-১ আসনে প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় জাপার প্রার্থী শূন্য হয়ে যায়। জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ ৫টি আসনের প্রার্থীরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।

নীলফামারী জেলার ৪টি আসনের সবকটিতেই জামায়াত প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। গাইবান্ধা জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং একটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়লাভ করেছে। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী তৃতীয় স্থান অধিকার করে পরাজিত হয়েছেন।

কুড়িগ্রাম জেলার ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ১টিতে জামায়াত জোটের শরিক দল এনসিপি প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। লালমনিরহাট জেলার ৩টি আসনের সবকটিতেই বিএনপি বিজয়ী হয়েছে।

বৃহত্তর রংপুর জেলার ২২টি আসন ‘জাপার ঘাঁটি’ নামে খ্যাত হলেও এবার একটি আসনেও তারা জয়লাভ করতে পারেনি। এমনকি পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। দলের অন্যান্য প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে অবস্থান করেছেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ দীর্ঘ ৯ বছর দেশ শাসনের পর ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন। ক্ষমতা হারানোর পর কারাগার থেকে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বৃহত্তর রংপুরের ২২টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। সে নির্বাচনে জাপা সারা দেশে ৩৫টি আসনে জয়লাভ করেছিল।

১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর রংপুরের ২২টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে জয়ী হয় জাপা; সারা দেশে তারা পায় ৩২টি আসন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ২২টির মধ্যে ১৩টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি; সারা দেশে পায় ১৪টি আসন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরে ১১টি এবং সারা দেশে ২৭টি আসনে জয়ী হয় জাপা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরে ৮টি এবং সারা দেশে ৩৪টি আসনে জয়লাভ করে দলটি।

একসময় জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর এখন রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন চিত্র ধারণ করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ঘাঁটিতে একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি জাতীয় পার্টি। তিস্তাপারের ভাওয়াইয়া, কারুপণ্য, হাঁড়িভাঙা আম ও শতরঞ্জি পল্লীখ্যাত রংপুর অঞ্চলে এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।

রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জামায়াত ও শরিক দল এনসিপি জয়লাভ করেছে। বিএনপি বিজয়ী হয়েছে ১৫টি আসনে।