মধুকৃষ্ণের ত্রয়োদশ তিথি উপলক্ষে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যস্নান উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে উপজেলার আটাপুর ও কুসুম্বা ইউনিয়নের পাথরঘাটা এলাকায় হজরত নাসির উদ্দিন (নিমাই) এর মাজার সংলগ্ন তুলসীগঙ্গা নদীর স্রোতে ‘বারুনিস্নান উৎসব’ শুরু হয়। সকাল থেকেই ঢাক-ঢোল, কাঁসি ও বাঁশির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাজার প্রাঙ্গণ।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এই পুণ্যস্নান উৎসবে অংশ নেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পাপমুক্তি এবং স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের মঙ্গল কামনায় তারা এই স্নান সম্পন্ন করেন।
মেলায় আগত ভক্ত-পূজারিরা জানান, শত বছর ধরে তুলসীগঙ্গা নদীতে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথি উপলক্ষে এই স্নানোৎসব পালিত হয়ে আসছে। অনেকেই এখানে স্নান করে দেহ ও মন পরিশুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সন্তানদের মাথার চুল উৎসর্গ করেন এবং পূজা-অর্চনা করেন। স্নান শেষে বেলপাতা, ফুল, ধান, দূর্বা, হরীতকী, কাঁচা আম, ডাব ও কলা অর্পণের মাধ্যমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। সূর্যোদয়ের আগেই পুণ্যার্থীরা স্নান ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নরসুন্দররাও (নাপিত) এ উৎসবে অংশ নিতে আসেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে, উত্তরমুখী নদীর প্রবাহে স্নান করা বিশেষ পুণ্যের কাজ। তাদের বিশ্বাস, স্নান দেহ ও আত্মার পবিত্রতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
শত বছরের এই উৎসবকে ঘিরে আটাপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা মাজার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী মেলা বসেছে। মেলায় ঢাক-ঢোল, হাসুয়া-বটি, বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র, শিশুদের খেলনা, কাঠের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী এবং দই-মিষ্টিসহ নানা পণ্যের দোকান বসেছে। এ মেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষও অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করছেন। তবে চলতি বছর রমজান মাসে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় বেচাকেনা কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে মাজারের পূর্বপাড়ে পাথরঘাটা রাধা-গোবিন্দ মন্দিরে শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠ ও লীলা-কীর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পাথরঘাটা শ্রী শ্রী লোকনাথ আশ্রমের সভাপতি অমূল্য রতন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক রঘুনাথ বর্মন জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে পুণ্যস্নান উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে শ্রী শ্রী লোকনাথ আশ্রমের নির্মাণকাজ চলছে এবং ভক্তদের অনুদানের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা আশ্রম নির্মাণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
পাথরঘাটা রাধা-গোবিন্দ মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, এবছর প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাতাকপি, পুঁইশাক ও আলু দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছে, যা সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.স.ম. সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু জানান, মেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া পুণ্যস্নান উৎসব ও মেলা পরিদর্শন করেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান।
শু/সবা























