বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, সৃজনশীল অর্থনীতি ও ক্রীড়া অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, মাথাপিছু আয় বাড়াতে সরকার কোনো একক খাতের ওপর নির্ভর না করে বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করেছে। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি, প্রবাস আয়, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব কমাতে উৎপাদন, নির্মাণ, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে কাজের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। এতে পারিবারিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মাথাপিছু আয়ও ধীরে ধীরে বাড়বে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়াতে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণ সহজ করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সহজ অর্থায়ন, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের উৎসাহ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি খাতে বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধানের কাজ চলছে।
প্রবাস আয় বাড়াতে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের কিছু ইতোমধ্যেই বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং বাকি পদক্ষেপগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
শু/সবা
























