10:11 pm, Saturday, 6 June 2026

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জাপান-ইরান ফোনালাপ

যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান–এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলাপচারিতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব দেশের জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এপ্রিলের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও মাঝেমধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় ১৫ মিনিট ফোনে কথা বলেন দুই নেতা। আলোচনায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, ইরান নমনীয় অবস্থান নিয়ে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জাপানের অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে ন্যাপথা সংকটের কারণে দেশটির প্যাকেজিং শিল্পে চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে সম্প্রতি জাপান-সংশ্লিষ্ট কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে জাপানের বৃহৎ তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান ইদেমিৎসু কোসান–এর একটি ট্যাংকার গত ২৫ মে জাপানে পৌঁছায়।

ফোনালাপে তাকাইচি দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জবাবে বলেছেন, জাপানি জাহাজ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে ইরান। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ নিষেধাজ্ঞাকে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রমে জাপানের সহায়তাও কামনা করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জাপানি প্রযুক্তি ইরানের তেল শোধনাগার, বন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও জাপানের সহযোগিতা চান তিনি।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাকাইচি ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে এটি ছিল তৃতীয় টেলিফোন সংলাপ। এর আগে সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল দুই নেতা কথা বলেছিলেন।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 × 2 =

About Author Information

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযানে আটক ৭

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জাপান-ইরান ফোনালাপ

Update Time : ০৫:৫৯:৫৮ pm, Tuesday, ২ জুন ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান–এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলাপচারিতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব দেশের জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এপ্রিলের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও মাঝেমধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় ১৫ মিনিট ফোনে কথা বলেন দুই নেতা। আলোচনায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, ইরান নমনীয় অবস্থান নিয়ে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জাপানের অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে ন্যাপথা সংকটের কারণে দেশটির প্যাকেজিং শিল্পে চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে সম্প্রতি জাপান-সংশ্লিষ্ট কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে জাপানের বৃহৎ তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান ইদেমিৎসু কোসান–এর একটি ট্যাংকার গত ২৫ মে জাপানে পৌঁছায়।

ফোনালাপে তাকাইচি দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জবাবে বলেছেন, জাপানি জাহাজ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে ইরান। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ নিষেধাজ্ঞাকে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রমে জাপানের সহায়তাও কামনা করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জাপানি প্রযুক্তি ইরানের তেল শোধনাগার, বন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও জাপানের সহযোগিতা চান তিনি।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাকাইচি ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে এটি ছিল তৃতীয় টেলিফোন সংলাপ। এর আগে সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল দুই নেতা কথা বলেছিলেন।

শু/সবা