7:22 pm, Wednesday, 3 June 2026

ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলের সব কমিটি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর ভাঙনের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির পশ্চিমবঙ্গের সব কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির ভেতরে নেতৃত্ব ও বিরোধী দলের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় মাত্র ৮০টি আসন পায় তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় বিধানসভায় প্রবেশের সুযোগ হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন।

তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেয়। বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়ক পৃথক অবস্থান নেয়। তাদের দাবি, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন তাদের সঙ্গে রয়েছেন এবং তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

বুধবার ওই অংশ নতুন তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের ঘোষণা দেয়। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তারাই বিধানসভায় বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও সামনে এসেছে।

তবে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে নতুন তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠি। সেখানে বলা হয়েছে, দলটির নেত্রী হিসেবেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকবেন। ফলে নতুন গোষ্ঠীর সঙ্গে ঠিক কতজন বিধায়ক রয়েছেন এবং তারা কতটা সংগঠিত অবস্থানে আছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাননি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। নতুন গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, কিংবা কতজনকে কোন পক্ষের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে—সেসব বিষয়ে তিনি পর্যবেক্ষণের জন্য সময় নিয়েছেন।

এদিকে দলীয় সংকটের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে তাদের সব কমিটি, শাখা ও সহযোগী সংগঠন ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দলটি জানায়, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অবিলম্বে সব সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো সাংগঠনিক পদাধিকারী কার্যত নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

অন্যদিকে মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা এক বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বৈঠককেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচনী পরাজয়, বিধায়কদের বিদ্রোহ, নতুন গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ এবং সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং বিরোধী রাজনীতিতে অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

9 + 8 =

About Author Information

গুরুতর অসুস্থ ছোটপর্দার অভিনেতা আব্দুল হান্নান শেলী

ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলের সব কমিটি

Update Time : ০৬:৪০:৫৬ pm, Wednesday, ৩ জুন ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর ভাঙনের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির পশ্চিমবঙ্গের সব কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির ভেতরে নেতৃত্ব ও বিরোধী দলের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় মাত্র ৮০টি আসন পায় তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় বিধানসভায় প্রবেশের সুযোগ হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন।

তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেয়। বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়ক পৃথক অবস্থান নেয়। তাদের দাবি, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন তাদের সঙ্গে রয়েছেন এবং তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

বুধবার ওই অংশ নতুন তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের ঘোষণা দেয়। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তারাই বিধানসভায় বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও সামনে এসেছে।

তবে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে নতুন তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠি। সেখানে বলা হয়েছে, দলটির নেত্রী হিসেবেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকবেন। ফলে নতুন গোষ্ঠীর সঙ্গে ঠিক কতজন বিধায়ক রয়েছেন এবং তারা কতটা সংগঠিত অবস্থানে আছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাননি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। নতুন গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, কিংবা কতজনকে কোন পক্ষের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে—সেসব বিষয়ে তিনি পর্যবেক্ষণের জন্য সময় নিয়েছেন।

এদিকে দলীয় সংকটের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে তাদের সব কমিটি, শাখা ও সহযোগী সংগঠন ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দলটি জানায়, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অবিলম্বে সব সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো সাংগঠনিক পদাধিকারী কার্যত নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

অন্যদিকে মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা এক বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বৈঠককেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচনী পরাজয়, বিধায়কদের বিদ্রোহ, নতুন গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ এবং সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং বিরোধী রাজনীতিতে অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

শু/সবা