০৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে কিশোর গ্যাংয়ের ডাটাবেইজে কার্যকারিতা নেই জনমনে আতঙ্ক!

  • অস্ত্র হাতে উল্লাস ভিডিও ভাইরালের পর গ্রেফতার ৭
  • কাজে আসছে না ৪৫০টি সিসি ক্যামেরা
  •  আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি

রাজশাহী নগরীতে কিশোর গ্যাং এখন আতংকের নাম। নানা ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীরা। হত্যা, সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি,
মাদক বিক্রি ও মাদক গ্রহণ ছাড়াও তারা চুরি ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের তারা উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি করছে।
গ্রেফতার হলেও আইনের দুর্বলতার কারণে আদালত থেকে তারা দ্রুত ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। জামিনে বেরিয়ে তারা আবারও একই অপরাধে জড়াচ্ছে।
গত বছরের অক্টোবর মাসের দিকে মহানগরীতে পাঁচ শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যের ডাটাবেইজ তৈরি করেছিল পুলিশের সাইবার অপরাধ
নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। র‌্যাবও জেলাব্যাপী কিশোর গ্যাঙের তালিকা তৈরি করে। তবে ডাটাবেইজ তৈরী করলেও নেই কোন কার্যকারিতা নেই বলে অভিযোগ
রয়েছে সুশীল সমাজ ও অপরাধ বিজ্ঞানীদের।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি রাজশাহী মহানগীর শাহমখদুম থানার গাংপাড়া এলাকার। সেখানে
দেখা যাচ্ছে একদল কিশোর গ্যাংগের সদস্য রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়ালসহ নানা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজনার তাওে তালে বাজনার তালে তালে
তারা অস্ত্র উঁচিয়ে নাচানাচি করছে।
তবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উল্লাসের ভিডিও ভাইরালের পর ৭ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে কাদের গ্রেপ্তার করা
হয়। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে সাত কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা সকলেই গাংপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে দেশীয় বেশকিছু
অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শাহমখদুম থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, ভিডিওটি ভাইরালের পর মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালানো হয়। সাত জন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিওতে যে অস্ত্র দেখা গেছে তা উদ্ধার
করা হয়েছে। অভিযান এখনও বাকি আছে।
তিনি বলেন, এই কিশোর গ্যাং গ্রুপেরই এক ছেলের নাম আরাফাত। তাকে চারদিন আগে একই গ্রুপের অন্যরা মেরেছে। আরাফাত এখন গুরুতর আহত
অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ছেলেটাকে মারধরের কারণে তার পক্ষের কেউ ভিডিওটা ছেড়ে দিয়েছে। আরাফাতের ভাই গত সোমবার থানায়
অভিযোগ করতে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি কারো নাম জানাতে পারেননি।
তবে মামলা হয়েছে। এখন কারা আরাফাতের ওপর হামলা করেছে এবং চার মাস আগে কারা অস্ত্র হাতে উল্লাস করছিল তার সবকিছুই বেরিয়ে আসবে।
তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে, সম্প্রতি রাজশাহী নগরীতে ছিনতাই বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।
রাতের নগরে সড়কে বের হলে অনেকেই ছিনতাই আতঙ্কে ভুগছেন। আর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে ভয়াবহ মাত্রায়। ফলে
ক্রমেই শান্তির নগরীখ্যাত রাজশাহীর মানুষের মাঝে আতঙ্ক আর ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

গত রোববার রাতে চার ঘণ্টার ব্যবধানে নগরীতে দুজন চিকিৎসক খুনের ঘটনার তিনদিন পার হলেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। রোববার
দিনগত রাতে নগরীর চন্দ্রিমা থানার কৃষ্টগঞ্জ বাজার থেকে তুলে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় পল্লীচিকিৎসক এরশাদ আলী দুলালকে। পুলিশ
দুজনকে আটক করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। অন্যদিকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাজেম আলীকে রোববার দিনগত রাত
পৌনে ১২টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র বর্ণালী মোড়ে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে খুন করে। এ ঘটনার দুদিন পরও পুলিশ হত্যার রহস্যের কিনারা
করতে পারেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাতের রাজশাহী নগরীতে ছিনতাই চক্রের দৌরাত্ম্য মারাত্মকভাবে বেড়েছে। যে রাতে দুই চিকিৎসক খুন হন সেই রাতেই রাজশাহী রেলস্টেশন এলাকায় সশস্ত্র ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন দুই কলেজছাত্র কৌশিক ও অভিজিৎ।
ছিনতাইকারীদের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে তারা দুজনই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর দিনের বেলায় নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায়
ছিনতাইকারীদের আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রাজশাহী কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নিশাদ আকরাম রিংকু। ১৬ দিন
মৃত্যুর সঙ্গে পঞ্জা লড়ে গত ৩ অক্টোবর তিনি মারা যান।

এদিকে গত ৪ অক্টোবর রাতে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী মাইক্রোবাসে করে এসে কাটাখালী থানার হরিয়ান বাজারের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী শাহীন আলীর
দোকানে ঢুকে তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শাহীন আলীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এলাকাবাসী শাহীন আলীকে
উদ্ধারে এগিয়ে এলে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এ ঘটনার প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত হলেও পুলিশ কাউকে শনাক্ত
অথবা গ্রেফতার করতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা মোটরসাইকেলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পথচারী বা অটোযাত্রী দেখলেই মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে অভিযোগ করলেও পুলিশ বেপরোয়া কিশোর গ্যাং ছিনতাইকারীদের ধরছে না।

আরএমপি’র একটি সুত্র জানায়, রাজশাহী মহানগরী এলাকার বিভিন্ন সড়কে পুলিশের উদ্যোগে ৪৫০টি সিসি ক্যামেরা সক্রিয় ছিল। কিন্তু নানান কারিগরি ক্রটির কারণে এসব সিসি ক্যামেরার অনেকগুলো এখন সক্রিয় নেই। আরএমপির একজন কর্মকর্তা জানান, সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণকারী ঠিকাদাররাও সিসি ক্যামেরার তার কেটে দিচ্ছে। ফলে অনেক এলাকায় সিসি ক্যামেরা কাজ করছে না। এতে অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনে উৎসাহী হচ্ছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বিজয় বসাক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওটি পুলিশের হাতে এলে
মঙ্গলবার রাতভর তারা অভিযান চালানো হয়েছে। সেই গ্যাংয়ের সাতজনকে আটক করা হয়। সকলের বয়স ১৪ থেকে ১৬ পর্যন্ত। তাদের বাড়ি শাহমখদুম
থানার গাংপাড়া এলাকায়। তাদের অভিভাবকদের ডাকা হয়েছে। আরেক কিশোরকে মারধরের ঘটনায় তাদের আসামী করা হবে
তিনি আরও বলেন, নগরীর সিসি ক্যামেরাগুলো পুরোপুরি সক্রিয় করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সন্দেহভাজন অপরাধীদের গতিবিধি শনাক্তে সিসি
ক্যামেরা কার্যকর একটি হাতিয়ার পুলিশের। যেসব সিসি ক্যামেরা অকেজো অবস্থায় আছে সেগুলিকে শিগগির ঠিক করা হবে।

রাজশাহীতে কিশোর গ্যাংয়ের ডাটাবেইজে কার্যকারিতা নেই জনমনে আতঙ্ক!

আপডেট সময় : ১২:৫০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ নভেম্বর ২০২৩
  • অস্ত্র হাতে উল্লাস ভিডিও ভাইরালের পর গ্রেফতার ৭
  • কাজে আসছে না ৪৫০টি সিসি ক্যামেরা
  •  আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি

রাজশাহী নগরীতে কিশোর গ্যাং এখন আতংকের নাম। নানা ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীরা। হত্যা, সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি,
মাদক বিক্রি ও মাদক গ্রহণ ছাড়াও তারা চুরি ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের তারা উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি করছে।
গ্রেফতার হলেও আইনের দুর্বলতার কারণে আদালত থেকে তারা দ্রুত ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। জামিনে বেরিয়ে তারা আবারও একই অপরাধে জড়াচ্ছে।
গত বছরের অক্টোবর মাসের দিকে মহানগরীতে পাঁচ শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যের ডাটাবেইজ তৈরি করেছিল পুলিশের সাইবার অপরাধ
নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। র‌্যাবও জেলাব্যাপী কিশোর গ্যাঙের তালিকা তৈরি করে। তবে ডাটাবেইজ তৈরী করলেও নেই কোন কার্যকারিতা নেই বলে অভিযোগ
রয়েছে সুশীল সমাজ ও অপরাধ বিজ্ঞানীদের।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি রাজশাহী মহানগীর শাহমখদুম থানার গাংপাড়া এলাকার। সেখানে
দেখা যাচ্ছে একদল কিশোর গ্যাংগের সদস্য রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়ালসহ নানা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজনার তাওে তালে বাজনার তালে তালে
তারা অস্ত্র উঁচিয়ে নাচানাচি করছে।
তবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উল্লাসের ভিডিও ভাইরালের পর ৭ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে কাদের গ্রেপ্তার করা
হয়। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে সাত কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা সকলেই গাংপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে দেশীয় বেশকিছু
অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শাহমখদুম থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, ভিডিওটি ভাইরালের পর মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালানো হয়। সাত জন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিওতে যে অস্ত্র দেখা গেছে তা উদ্ধার
করা হয়েছে। অভিযান এখনও বাকি আছে।
তিনি বলেন, এই কিশোর গ্যাং গ্রুপেরই এক ছেলের নাম আরাফাত। তাকে চারদিন আগে একই গ্রুপের অন্যরা মেরেছে। আরাফাত এখন গুরুতর আহত
অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ছেলেটাকে মারধরের কারণে তার পক্ষের কেউ ভিডিওটা ছেড়ে দিয়েছে। আরাফাতের ভাই গত সোমবার থানায়
অভিযোগ করতে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি কারো নাম জানাতে পারেননি।
তবে মামলা হয়েছে। এখন কারা আরাফাতের ওপর হামলা করেছে এবং চার মাস আগে কারা অস্ত্র হাতে উল্লাস করছিল তার সবকিছুই বেরিয়ে আসবে।
তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে, সম্প্রতি রাজশাহী নগরীতে ছিনতাই বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।
রাতের নগরে সড়কে বের হলে অনেকেই ছিনতাই আতঙ্কে ভুগছেন। আর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে ভয়াবহ মাত্রায়। ফলে
ক্রমেই শান্তির নগরীখ্যাত রাজশাহীর মানুষের মাঝে আতঙ্ক আর ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

গত রোববার রাতে চার ঘণ্টার ব্যবধানে নগরীতে দুজন চিকিৎসক খুনের ঘটনার তিনদিন পার হলেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। রোববার
দিনগত রাতে নগরীর চন্দ্রিমা থানার কৃষ্টগঞ্জ বাজার থেকে তুলে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় পল্লীচিকিৎসক এরশাদ আলী দুলালকে। পুলিশ
দুজনকে আটক করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। অন্যদিকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাজেম আলীকে রোববার দিনগত রাত
পৌনে ১২টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র বর্ণালী মোড়ে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে খুন করে। এ ঘটনার দুদিন পরও পুলিশ হত্যার রহস্যের কিনারা
করতে পারেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাতের রাজশাহী নগরীতে ছিনতাই চক্রের দৌরাত্ম্য মারাত্মকভাবে বেড়েছে। যে রাতে দুই চিকিৎসক খুন হন সেই রাতেই রাজশাহী রেলস্টেশন এলাকায় সশস্ত্র ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন দুই কলেজছাত্র কৌশিক ও অভিজিৎ।
ছিনতাইকারীদের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে তারা দুজনই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর দিনের বেলায় নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায়
ছিনতাইকারীদের আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রাজশাহী কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নিশাদ আকরাম রিংকু। ১৬ দিন
মৃত্যুর সঙ্গে পঞ্জা লড়ে গত ৩ অক্টোবর তিনি মারা যান।

এদিকে গত ৪ অক্টোবর রাতে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী মাইক্রোবাসে করে এসে কাটাখালী থানার হরিয়ান বাজারের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী শাহীন আলীর
দোকানে ঢুকে তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শাহীন আলীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এলাকাবাসী শাহীন আলীকে
উদ্ধারে এগিয়ে এলে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এ ঘটনার প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত হলেও পুলিশ কাউকে শনাক্ত
অথবা গ্রেফতার করতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা মোটরসাইকেলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পথচারী বা অটোযাত্রী দেখলেই মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে অভিযোগ করলেও পুলিশ বেপরোয়া কিশোর গ্যাং ছিনতাইকারীদের ধরছে না।

আরএমপি’র একটি সুত্র জানায়, রাজশাহী মহানগরী এলাকার বিভিন্ন সড়কে পুলিশের উদ্যোগে ৪৫০টি সিসি ক্যামেরা সক্রিয় ছিল। কিন্তু নানান কারিগরি ক্রটির কারণে এসব সিসি ক্যামেরার অনেকগুলো এখন সক্রিয় নেই। আরএমপির একজন কর্মকর্তা জানান, সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণকারী ঠিকাদাররাও সিসি ক্যামেরার তার কেটে দিচ্ছে। ফলে অনেক এলাকায় সিসি ক্যামেরা কাজ করছে না। এতে অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনে উৎসাহী হচ্ছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বিজয় বসাক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওটি পুলিশের হাতে এলে
মঙ্গলবার রাতভর তারা অভিযান চালানো হয়েছে। সেই গ্যাংয়ের সাতজনকে আটক করা হয়। সকলের বয়স ১৪ থেকে ১৬ পর্যন্ত। তাদের বাড়ি শাহমখদুম
থানার গাংপাড়া এলাকায়। তাদের অভিভাবকদের ডাকা হয়েছে। আরেক কিশোরকে মারধরের ঘটনায় তাদের আসামী করা হবে
তিনি আরও বলেন, নগরীর সিসি ক্যামেরাগুলো পুরোপুরি সক্রিয় করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সন্দেহভাজন অপরাধীদের গতিবিধি শনাক্তে সিসি
ক্যামেরা কার্যকর একটি হাতিয়ার পুলিশের। যেসব সিসি ক্যামেরা অকেজো অবস্থায় আছে সেগুলিকে শিগগির ঠিক করা হবে।