০২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রীষ্মের তাপদাহ, বিশ্বকাপ ও কৃষিতে চাহিদা বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ সংকট: প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বিশ্বকাপ ফুটবল, কৃষিতে বিদ্যুতের বাড়তি ব্যবহার এবং কম বৃষ্টিপাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিদ্যুতের সংকট তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ খাতের অগ্রাধিকার, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, মিটার ভাড়া এবং জুন ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতকে আর্থিকভাবে টেকসই করা, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করাও সরকারের অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ, ঈদুল আজহা, গ্রীষ্মের অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলার কারণে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহারও আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও ফ্রিজ, টেলিভিশন, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের এই প্রবণতাও চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, জুন মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল শুধু ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণে বাড়েনি; বরং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিল বেড়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহার বাড়লে উচ্চতর স্ল্যাবে বিল গণনা হওয়ায় মোট বিল তুলনামূলক বেশি আসে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে করণিক ত্রুটির কারণে বিলে অসঙ্গতি দেখা গেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও প্রতিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে সরকার এখনো বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো, প্রি-পেইড ও স্মার্ট মিটার সম্প্রসারণ এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

7 + one =

About Author Information

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

গ্রীষ্মের তাপদাহ, বিশ্বকাপ ও কৃষিতে চাহিদা বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ সংকট: প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৪:৪৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বিশ্বকাপ ফুটবল, কৃষিতে বিদ্যুতের বাড়তি ব্যবহার এবং কম বৃষ্টিপাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিদ্যুতের সংকট তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ খাতের অগ্রাধিকার, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, মিটার ভাড়া এবং জুন ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতকে আর্থিকভাবে টেকসই করা, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করাও সরকারের অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ, ঈদুল আজহা, গ্রীষ্মের অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলার কারণে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহারও আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও ফ্রিজ, টেলিভিশন, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের এই প্রবণতাও চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, জুন মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল শুধু ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণে বাড়েনি; বরং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিল বেড়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহার বাড়লে উচ্চতর স্ল্যাবে বিল গণনা হওয়ায় মোট বিল তুলনামূলক বেশি আসে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে করণিক ত্রুটির কারণে বিলে অসঙ্গতি দেখা গেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও প্রতিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে সরকার এখনো বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো, প্রি-পেইড ও স্মার্ট মিটার সম্প্রসারণ এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

শু/সবা