১১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেন না নদীতীরের মানুষ ঘূর্ণিঝড় “মিধিলি”র প্রভাবে ঝালকাঠিতে প্রবল বর্ষন

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩
  • 32
ঝালকাঠিতে “ঘূর্ণিঝড় মিধিলি” এর প্রভাবে প্রবল বর্ষন ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে রেন্টি গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ রাস্তায় উপরে পরে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঝালকাঠির নদীতীরের মানুষেরা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেন না।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গুরি গুরি বৃষ্টি এবং রাত থেকে মুশলধরে বিরামহীন বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ভোগান্তিতে রয়েছে শ্রমজীবি মানুষ। একটানা ১২ ঘন্টার বৃষ্টি এবং জোয়ারে বেড়েছে ঝালকাঠি সকল নদীর পানি। উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা তথ্য অফিসের মাইক ও স্থানীয় মসজিদে মাইকে ঘোষণা দিতে নির্দেশ দেয় প্রশাসন। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে নদীর তীরের মানুষ। তবে তারা আশ্রয়কেন্দ্রমুখী হচ্ছেন না। ভিটেবাড়ি ও গবাদিপশু ছেড়ে যাবেন না বলে নিজ নিজ ঘরেই রয়েছেন সেখানকার বেশির ভাগ মানুষ। তাদের দাবি সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখে অবস্থা বেগতিক হলে তখন আশ্রয় কেন্দ্র যাবেন।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে রাস্তা-ঘাটে বের হচ্ছে না কেউ। বিষখালী ও সুগন্ধা নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ায় পাকা ধানসহ ফসলের ব্যাপকক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। বন্ধ রয়েছে বিষখালী নদীর কচুয়া–বেতসগী ফেরী পারাপার। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন সুগন্ধা ও বিশখালী নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে রয়েছে।
ঘুর্নিঝড় মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার রাতে প্রস্তুতি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিধিলা মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলায় ৭টি কন্ট্রোলরুম, জেলায় ৪২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৫৯ টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছারা ৩৭ টি মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিসের ৩ টি উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রয়েছে। নগদ ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা, ৩৫০ মেট্রিক টন ত্রানের চাল বিতরণের জন্য মওজুদ আছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্বেচ্ছাসেবক টিমও পস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে সকাল থেকে ঝালকাঠিতে বিদ্যুত বন্ধ রয়েছে। ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান ঝড়ো হাওয়ায় লাইন ফল্ট করায় বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে। কোথায় ফল্ট করেছে তা খোজা হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল হক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের আজই আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বাধ্য করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কিছু গবাদিপশু নিরাপদে উঁচু স্থানে স্থানান্তর করেছি।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া মানুষদের বসতঘরের মালামাল যাতে লুণ্ঠিত না হয়, সেদিকে পুলিশ কড়া নজর রাখবে।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ মোকাবিলায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতমধ্যে জরুরি সভা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কন্ট্রোলরুম খোলা, আশ্রয় কেন্দ্র, মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া নগদ টাকা, ত্রানের চাল বিতরণের জন্য মওজুদ আছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্বেচ্ছাসেবক টিমও পস্তুত রয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

টিউশনের নামে প্রতারণার ফাঁদ

আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেন না নদীতীরের মানুষ ঘূর্ণিঝড় “মিধিলি”র প্রভাবে ঝালকাঠিতে প্রবল বর্ষন

আপডেট সময় : ১০:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩
ঝালকাঠিতে “ঘূর্ণিঝড় মিধিলি” এর প্রভাবে প্রবল বর্ষন ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে রেন্টি গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ রাস্তায় উপরে পরে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঝালকাঠির নদীতীরের মানুষেরা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেন না।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গুরি গুরি বৃষ্টি এবং রাত থেকে মুশলধরে বিরামহীন বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ভোগান্তিতে রয়েছে শ্রমজীবি মানুষ। একটানা ১২ ঘন্টার বৃষ্টি এবং জোয়ারে বেড়েছে ঝালকাঠি সকল নদীর পানি। উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা তথ্য অফিসের মাইক ও স্থানীয় মসজিদে মাইকে ঘোষণা দিতে নির্দেশ দেয় প্রশাসন। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে নদীর তীরের মানুষ। তবে তারা আশ্রয়কেন্দ্রমুখী হচ্ছেন না। ভিটেবাড়ি ও গবাদিপশু ছেড়ে যাবেন না বলে নিজ নিজ ঘরেই রয়েছেন সেখানকার বেশির ভাগ মানুষ। তাদের দাবি সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখে অবস্থা বেগতিক হলে তখন আশ্রয় কেন্দ্র যাবেন।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে রাস্তা-ঘাটে বের হচ্ছে না কেউ। বিষখালী ও সুগন্ধা নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ায় পাকা ধানসহ ফসলের ব্যাপকক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। বন্ধ রয়েছে বিষখালী নদীর কচুয়া–বেতসগী ফেরী পারাপার। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন সুগন্ধা ও বিশখালী নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে রয়েছে।
ঘুর্নিঝড় মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার রাতে প্রস্তুতি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিধিলা মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলায় ৭টি কন্ট্রোলরুম, জেলায় ৪২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৫৯ টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছারা ৩৭ টি মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিসের ৩ টি উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রয়েছে। নগদ ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা, ৩৫০ মেট্রিক টন ত্রানের চাল বিতরণের জন্য মওজুদ আছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্বেচ্ছাসেবক টিমও পস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে সকাল থেকে ঝালকাঠিতে বিদ্যুত বন্ধ রয়েছে। ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান ঝড়ো হাওয়ায় লাইন ফল্ট করায় বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে। কোথায় ফল্ট করেছে তা খোজা হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল হক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের আজই আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বাধ্য করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কিছু গবাদিপশু নিরাপদে উঁচু স্থানে স্থানান্তর করেছি।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া মানুষদের বসতঘরের মালামাল যাতে লুণ্ঠিত না হয়, সেদিকে পুলিশ কড়া নজর রাখবে।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ মোকাবিলায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতমধ্যে জরুরি সভা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কন্ট্রোলরুম খোলা, আশ্রয় কেন্দ্র, মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া নগদ টাকা, ত্রানের চাল বিতরণের জন্য মওজুদ আছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্বেচ্ছাসেবক টিমও পস্তুত রয়েছে।