১২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এলজিইডির হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে পাল্টেছে রাঙ্গামাটির জনপদ

বর্তমান সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরর মেয়াদ কালে অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে পার্বত্য জনপদেও। বিগত এক দশকে কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে। প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন হওয়ায় পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ও পর্যটন খাতে নতুন নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। শুধুমাত্র এলজিইডির অর্থায়নে রাঙ্গামাটির আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়ক ১৮ ফুট প্রসস্থ করায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়া সড়কের গড়ে উঠেছে নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র। এই এলাকার উন্নয়নে আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন জনগনের দৌড় গোড়ায় পৌছে দিয়েছে।
আওয়ামীলীগে সরকারের ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এক দশকের অধিক হয়েছে রাঙ্গামাটি জেলায় ১ হাজার ২৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা, সেটি হয়েছে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সইয়ের পর থেকেই। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বিগত এক দশকে। আগামীতে আরও মেগাপ্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানসমূহের।

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটি কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০০৯-২৩ সাল পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে কেবল এলজিইডির অধীনেই।
এলইজিডি কর্তৃপক্ষ জানান, এরমধ্যে ২২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন খাতে ব্যয় হয়েছে ৫৮৫ কোটি টাকা। ২৫২২ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩৬টি সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১২৫ কোটি টাকা। গ্রামীণ হাট-বাজার উন্নয়নখাতে ৫টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি টাকা। কাপ্তাইয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। কাউখালী, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি ও বরকলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ বাবদ ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। অসচ্ছল ও ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্পখাতে ৫টি প্রকল্পে ৪৫ লাখ টাকা। সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০৩টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি টাকা। তিনটি উপজেলা কমপেস্নক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ১৯ কোটি ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬০টি ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা।
এছাড়া জেলার হ্রদবেষ্টিত উপজেলা বিলাইছড়িকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যে ৩৩৮ কোটি টাকার একটি মেগাপ্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ২০২১ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি পাস হয়েছে। এছাড়া আসামবস্তি-কাপ্তাই কানেক্টিং সড়কটি ১৮ ফুটে প্রশস্ত করায় জেলার একটি মুগ্ধতার সড়কে পরিণত হয়েছে এটি। এই সড়কের ফলে রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পের আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
এলজিইডি রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে পাহাড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তারমধ্যে এলজিইডির মাধ্যমেই ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। আরও অনেক কাজ চলমান।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিউশনের নামে প্রতারণার ফাঁদ

এলজিইডির হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে পাল্টেছে রাঙ্গামাটির জনপদ

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩

বর্তমান সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরর মেয়াদ কালে অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে পার্বত্য জনপদেও। বিগত এক দশকে কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে। প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন হওয়ায় পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ও পর্যটন খাতে নতুন নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। শুধুমাত্র এলজিইডির অর্থায়নে রাঙ্গামাটির আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়ক ১৮ ফুট প্রসস্থ করায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়া সড়কের গড়ে উঠেছে নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র। এই এলাকার উন্নয়নে আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন জনগনের দৌড় গোড়ায় পৌছে দিয়েছে।
আওয়ামীলীগে সরকারের ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এক দশকের অধিক হয়েছে রাঙ্গামাটি জেলায় ১ হাজার ২৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা, সেটি হয়েছে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সইয়ের পর থেকেই। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বিগত এক দশকে। আগামীতে আরও মেগাপ্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানসমূহের।

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটি কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০০৯-২৩ সাল পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে কেবল এলজিইডির অধীনেই।
এলইজিডি কর্তৃপক্ষ জানান, এরমধ্যে ২২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন খাতে ব্যয় হয়েছে ৫৮৫ কোটি টাকা। ২৫২২ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩৬টি সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১২৫ কোটি টাকা। গ্রামীণ হাট-বাজার উন্নয়নখাতে ৫টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি টাকা। কাপ্তাইয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। কাউখালী, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি ও বরকলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ বাবদ ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। অসচ্ছল ও ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্পখাতে ৫টি প্রকল্পে ৪৫ লাখ টাকা। সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০৩টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি টাকা। তিনটি উপজেলা কমপেস্নক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ১৯ কোটি ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬০টি ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা।
এছাড়া জেলার হ্রদবেষ্টিত উপজেলা বিলাইছড়িকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যে ৩৩৮ কোটি টাকার একটি মেগাপ্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ২০২১ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি পাস হয়েছে। এছাড়া আসামবস্তি-কাপ্তাই কানেক্টিং সড়কটি ১৮ ফুটে প্রশস্ত করায় জেলার একটি মুগ্ধতার সড়কে পরিণত হয়েছে এটি। এই সড়কের ফলে রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পের আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
এলজিইডি রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে পাহাড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তারমধ্যে এলজিইডির মাধ্যমেই ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। আরও অনেক কাজ চলমান।