০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
৪ বিজিপি সদস্য চমেক হাসপাতালে ভর্তি

মিয়ানমারের সেনা-বিজিপি, পুলিশসহ ২৬৪ জন বাংলাদেশে

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত সে দেশের সেনা-বিজিপি ও পুলিশসহ ২৬৪ জন বাংলাদেশে পালিয়ে এসে প্রাণ রক্ষা করেছেন। মিয়ানমার অভ্যন্তরের রাখাইন ও আরকান রাজ্যে বিদ্রোহী আরকান আর্মিরা মারমুখী হয়ে হামলা অব্যাহত রাখায় অনেকটা পিছু হটেছেন মিয়ানমার সেনা পুলিশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। ফলে বিজিপি, সেনাসহ মিয়ানমার সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। মিয়ানমারের রাখাইন ও আরকান রাজ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিদ্রোহী আরকান আর্মিরা তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে নানা কৌশলে যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এই আধিপত্য কত দিন পর্যন্ত বিদ্রোহী আরকান আর্মির কাছে থাকবে তা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে। গত দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে দুইপক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা চরম ভোগান্তিতে পড়ারও আশংকা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মিয়ানমার সামরিক জান্তা কঠোর অভিযান শুরু করলে বিদ্রােহী আরকান আর্মিরা তাদের অধিপত্য থেকে পিছু হটলে আবারো দল বেঁধে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে বলেও আশংকা করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে মিয়ানমারের চলমান উত্তেজনায় বাংলাদেশ আবারো চাপের মুখে পড়তে পারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে। বিজিবি সদস্যরা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত শত শত পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তথ্যমতে এখন পর্যন্ত বর্ডার গার্ পুলিশ (বিজিপি) সদস্য ১৮৩ জন, সেনা সদস্য ৪ জন, সিআইডি সদস্য ৪ জন, পুলিশ সদস্য ৫ জন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য ৯ জন, ইমিগ্রেশন সদস্য ২০ জন ও বেসামরিক নাগরিক ৪ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।
গতকাল সন্ধ্যায় আরো ৩৫ মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে বিজিবি সূত্রে থেকে জানা গেছে।এই ৩৫ জনের নাম, পদবীসহ বিস্তারিত তথ্যের তালিকা প্রস্তুত করছেন বিজিবি সদস্যরা।

বিজিবির নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, যারা অস্ত্রসহ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তাদের অস্ত্র জমা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে।  সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দেশের স্বার্থে সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি। রাত  – দিন সমানে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল দিয়ে অনুপ্রবেশ বন্ধ রাখার চেষ্টা করছেন।

মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ১৮৩  সদস্যের মধ্যে তুমব্রু বিওপির ৭৬ জন, ঘুমধুমের ৩৭ জন ও বালুখালী এলাকার ৭০ জন। এই নিয়ে মোট ২২৭ জন বিজিপি সদস্য কক্সবাজার বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধীনে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং বিওপিতে আরও দুই বিজিপি সদস্য রয়েছেন। অপর দিকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৪ জন সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারা হলেন- ইউ পিও (৪৮), কিয়া থান সিন (২৯),  কিন মং (২০) ও লা নি মং (৩০)। তারা ৪ জনই বিজিপির সদস্য।

গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১ টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তারা ৪ জনই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে সেখানে চাকমা সম্প্রদায়ের প্রায় চারশ জন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিছু লোক জড়ো হয়েছে। এ অবস্থায় ওই চাকমা-রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছেন তিনি।

গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে আরাকান আর্মিসহ কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী।
বিদ্রোহীদের মারমুখী আক্রমণে মিয়ানমারের বিভিন্ন জায়গায় জান্তার অনুগত সেনাদের পরাজয়ের খবর আসছে। এমনকি অনেক জায়গায় সেনাবাহিনীর ঘাঁটি ও নিয়ন্ত্রিত এলাকাও দখলে নিতে শুরু করেছেন বিদ্রোহীরা।

এই নিয়ে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রথম দফায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বিজিপির ১৪ জন সদস্য। এরপর দফায় দফায় ওই সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে  থাকেন বিজিপির ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া সদস্যরা।

কাপ্তাইয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু : আহত ২ জন

৪ বিজিপি সদস্য চমেক হাসপাতালে ভর্তি

মিয়ানমারের সেনা-বিজিপি, পুলিশসহ ২৬৪ জন বাংলাদেশে

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত সে দেশের সেনা-বিজিপি ও পুলিশসহ ২৬৪ জন বাংলাদেশে পালিয়ে এসে প্রাণ রক্ষা করেছেন। মিয়ানমার অভ্যন্তরের রাখাইন ও আরকান রাজ্যে বিদ্রোহী আরকান আর্মিরা মারমুখী হয়ে হামলা অব্যাহত রাখায় অনেকটা পিছু হটেছেন মিয়ানমার সেনা পুলিশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। ফলে বিজিপি, সেনাসহ মিয়ানমার সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। মিয়ানমারের রাখাইন ও আরকান রাজ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিদ্রোহী আরকান আর্মিরা তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে নানা কৌশলে যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এই আধিপত্য কত দিন পর্যন্ত বিদ্রোহী আরকান আর্মির কাছে থাকবে তা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে। গত দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে দুইপক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা চরম ভোগান্তিতে পড়ারও আশংকা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মিয়ানমার সামরিক জান্তা কঠোর অভিযান শুরু করলে বিদ্রােহী আরকান আর্মিরা তাদের অধিপত্য থেকে পিছু হটলে আবারো দল বেঁধে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে বলেও আশংকা করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে মিয়ানমারের চলমান উত্তেজনায় বাংলাদেশ আবারো চাপের মুখে পড়তে পারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে। বিজিবি সদস্যরা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত শত শত পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তথ্যমতে এখন পর্যন্ত বর্ডার গার্ পুলিশ (বিজিপি) সদস্য ১৮৩ জন, সেনা সদস্য ৪ জন, সিআইডি সদস্য ৪ জন, পুলিশ সদস্য ৫ জন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য ৯ জন, ইমিগ্রেশন সদস্য ২০ জন ও বেসামরিক নাগরিক ৪ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।
গতকাল সন্ধ্যায় আরো ৩৫ মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে বিজিবি সূত্রে থেকে জানা গেছে।এই ৩৫ জনের নাম, পদবীসহ বিস্তারিত তথ্যের তালিকা প্রস্তুত করছেন বিজিবি সদস্যরা।

বিজিবির নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, যারা অস্ত্রসহ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তাদের অস্ত্র জমা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে।  সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দেশের স্বার্থে সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি। রাত  – দিন সমানে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল দিয়ে অনুপ্রবেশ বন্ধ রাখার চেষ্টা করছেন।

মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ১৮৩  সদস্যের মধ্যে তুমব্রু বিওপির ৭৬ জন, ঘুমধুমের ৩৭ জন ও বালুখালী এলাকার ৭০ জন। এই নিয়ে মোট ২২৭ জন বিজিপি সদস্য কক্সবাজার বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধীনে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং বিওপিতে আরও দুই বিজিপি সদস্য রয়েছেন। অপর দিকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৪ জন সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারা হলেন- ইউ পিও (৪৮), কিয়া থান সিন (২৯),  কিন মং (২০) ও লা নি মং (৩০)। তারা ৪ জনই বিজিপির সদস্য।

গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১ টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তারা ৪ জনই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে সেখানে চাকমা সম্প্রদায়ের প্রায় চারশ জন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিছু লোক জড়ো হয়েছে। এ অবস্থায় ওই চাকমা-রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছেন তিনি।

গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে আরাকান আর্মিসহ কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী।
বিদ্রোহীদের মারমুখী আক্রমণে মিয়ানমারের বিভিন্ন জায়গায় জান্তার অনুগত সেনাদের পরাজয়ের খবর আসছে। এমনকি অনেক জায়গায় সেনাবাহিনীর ঘাঁটি ও নিয়ন্ত্রিত এলাকাও দখলে নিতে শুরু করেছেন বিদ্রোহীরা।

এই নিয়ে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রথম দফায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বিজিপির ১৪ জন সদস্য। এরপর দফায় দফায় ওই সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে  থাকেন বিজিপির ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া সদস্যরা।