০৯:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেইলি রোডে বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন নিভল ৪৩ প্রাণ

রাজধানীর বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখায় ও ধোঁয়ায় নারী ও শিশুসহ প্রাণ হারালেন ৪৩ জন। ঢামেক হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে একে একে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন হতাহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। আগুনের এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাত ৩টায় এসব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দশটার দিকে রাজধানীর ডেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের বহুতল ভবনে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ওই হোটেলে রাতের খাবার খেতে আশা একব্যক্তি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে আমি ওই হোটেলে ভাত খেতে যাই। খাওয়ার মুহূর্তেই রাত পৌনে দশটার দিকে হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে ও ধোঁয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। তখন আমি খাবার ফেলে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেই। এরপরই উৎসুক জনতার ঢল নামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ, আনসার সদস্য, র‌্যাব, বিজিবি, এনএসআই ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। টানা দুই ঘন্টার চেষ্টা চালিয়ে রাত ১১টা ৫৬ মিনিটের দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার ফাইটাররা।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমরা ৯টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাই। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তর সহ বিভিন্ন স্টেশনের মোট ১৩টা ইউনিট একে একে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সহযোগিতায় রাত ১১টা ৫৬ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তিনি আরও বলেন, আগুন লাগার পর অনেকে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। ভেতরে আটকে পড়া আতঙ্কিত অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে ভবনের উপরে উঠে চিৎকার করতে থাকে। এ-সময় ফায়ার ফাইটাররা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সহায়তায় পর্যায়ক্রমে ভেতরে আটকে পড়া ৭৫ জনকে জীবিত, ৪২ জনকে অচেতন ও ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সালেহ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দুইটার দিকে নিহত ও আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। এসময় তিনি বলেন, এমন একটি ঘটনা দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বিক বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে আমি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসি। ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদের জীবন রক্ষায় জরুরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব ওষুধপত্র রোগীদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এর আগে রাত সোয়া ১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভবনের ভেতরে একাধিক হোটেল-রেস্তোরা ও রেস্টুরেন্ট ছিল। প্রতিটি রেস্টুরেন্টে গ্যাস সিলিন্ডারে সংখ্যাও ছিল অনেক। তাই এমনিতে ভবনটি অগ্নি চুল্লির মতো হয়ে উঠেছিল। যার ফলে আগুন লাগার সাথে সাথে দাউ দাউ করে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হতাহতের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
এদিকে আগুন লাগার খবরে ভবনের আশপাশে, হাসপাতালের ভেতর ও বাহিরে এবং মর্গে অবস্থান করছেন হতাহতদের স্বজনেরা। থেমে থেমে তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।

আলহাজ ময়নাল হকের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল

বেইলি রোডে বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন নিভল ৪৩ প্রাণ

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪

রাজধানীর বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখায় ও ধোঁয়ায় নারী ও শিশুসহ প্রাণ হারালেন ৪৩ জন। ঢামেক হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে একে একে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন হতাহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। আগুনের এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাত ৩টায় এসব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দশটার দিকে রাজধানীর ডেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের বহুতল ভবনে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ওই হোটেলে রাতের খাবার খেতে আশা একব্যক্তি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে আমি ওই হোটেলে ভাত খেতে যাই। খাওয়ার মুহূর্তেই রাত পৌনে দশটার দিকে হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে ও ধোঁয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। তখন আমি খাবার ফেলে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেই। এরপরই উৎসুক জনতার ঢল নামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ, আনসার সদস্য, র‌্যাব, বিজিবি, এনএসআই ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। টানা দুই ঘন্টার চেষ্টা চালিয়ে রাত ১১টা ৫৬ মিনিটের দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার ফাইটাররা।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমরা ৯টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাই। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তর সহ বিভিন্ন স্টেশনের মোট ১৩টা ইউনিট একে একে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সহযোগিতায় রাত ১১টা ৫৬ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তিনি আরও বলেন, আগুন লাগার পর অনেকে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। ভেতরে আটকে পড়া আতঙ্কিত অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে ভবনের উপরে উঠে চিৎকার করতে থাকে। এ-সময় ফায়ার ফাইটাররা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সহায়তায় পর্যায়ক্রমে ভেতরে আটকে পড়া ৭৫ জনকে জীবিত, ৪২ জনকে অচেতন ও ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সালেহ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দুইটার দিকে নিহত ও আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। এসময় তিনি বলেন, এমন একটি ঘটনা দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বিক বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে আমি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসি। ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদের জীবন রক্ষায় জরুরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব ওষুধপত্র রোগীদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এর আগে রাত সোয়া ১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভবনের ভেতরে একাধিক হোটেল-রেস্তোরা ও রেস্টুরেন্ট ছিল। প্রতিটি রেস্টুরেন্টে গ্যাস সিলিন্ডারে সংখ্যাও ছিল অনেক। তাই এমনিতে ভবনটি অগ্নি চুল্লির মতো হয়ে উঠেছিল। যার ফলে আগুন লাগার সাথে সাথে দাউ দাউ করে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হতাহতের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
এদিকে আগুন লাগার খবরে ভবনের আশপাশে, হাসপাতালের ভেতর ও বাহিরে এবং মর্গে অবস্থান করছেন হতাহতদের স্বজনেরা। থেমে থেমে তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।