০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ হলে ৫০০ টাকার কমে গোশত বিক্রি সম্ভব

 

চামড়া যৌক্তিক মূল্যে বিক্রি এবং হাট থেকে গরু কিনে বাজারে আনা পর্যন্ত চাঁদাবাজিসহ নানা হয়রানির বন্ধ হলে ৫০০ টাকার নিচে এক কেজি গরুর গোশত বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান। সোমবার রাজধানীর মিরপুরে উজ্জ্বল গোশত বিতান পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ভোক্তার ডিজি বলেন, এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় কম দামে গোশত বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন অনেকে। অতি মুনাফা না করে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে দেশের অন্য ব্যবসায়ীরাও এমন উদ্যোগ নিতে পারেন। রোজায় কোনো ব্যবসায়ীর মাধ্যমে যেন ক্রেতারা প্রতারিত না হয়, সেজন্য সারা দেশে প্রতিদিন ৫০-এর বেশি টিম কাজ করছে। অভিযানের ফলে বাজারে শসা, লেবু ও বেগুনের দাম কমছে।

এদিকে শাজাহানপুরের আলোচিত ব্যবসায়ী খলিলের দেখানো পথে হেঁটে ৫৯৫ টাকায় গরুর গোশত বিক্রি করছেন মিরপুর ১১ নম্বরের উজ্জ্বল গোশত বিতানের উজ্জ্বল। সকাল থেকেই তার দোকানে গোশত নিতে ভিড় জমিয়েছেন অনেকে।

বেলা ১১টা থেকে গোশত বিক্রি শুরু হয়। দুপুর ১২টার মধ্যে দোকানের গরুর গোশত বিক্রি শেষ হয়ে যায়। ফলে আরো একটি জবাই করা হচ্ছিল। মিরপুর ডিওএইচএস থেকে আসা মো. আলম জানান, মিরপুরে অন্য কাজে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সারি থেকে তিনিও পাঁচ কেজি গোশত সংগ্রহ করেছেন।
আলম বলেন, মিরপুরে অন্য কাজে এসেছিলাম। কাজ শেষ করে যাওয়ার পথে পাঁচ কেজি গোশত নিলাম। এখানকার গোশত আর শুধু কম দামেই মিলছে না, চোখের সামনেই গরু জবাই করে গোশত বিক্রি করছে। এজন্য গোশত নিলাম। রোজার মাসে কম দামে গোশত বিক্রি করার ফলে এ অঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ গোশত খেতে পারছে। কম দামে গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে জেনে এক কেজি কিনতে এসেছেন কালশির আমেনা খাতুন। তিনি বলেন, সাত-আটশ টাকা কেজি দরের গোশতের ধারে কাছে যেতে পারি না। এখানে কম হওয়ায় এক কেজি কিনব।

পাশেই দাঁড়ানো আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যক্তি উজ্জ্বলের পরিবারের পরিচিত মানুষ। উজ্জ্বলকে ঘিরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে কামাল বলেন, কম দামে গোশত বিক্রি করার কারণে তিনি বেশি গোশত বিক্রি করছেন, বেশি লাভও করছেন। তার সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলছেন। এটি তার সততা ও সাহসের জন্য। তার দাদা লতিফ কসাইও গোশত বিক্রি করতেন। ১০ কেজি গোশত নিয়ে সারাদিন বসে থাকতেন, বিক্রি হতো না। উজ্জ্বল প্রতিদিন ১০-১২টা করে গরু জবাই করছেন, বিক্রি হচ্ছে।

উজ্জ্বলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ৫৯৫ টাকা কেজি দরে গোশত বিক্রি শুরু করেছি। মাঝে গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় দাম একটু বাড়াতে হয়েছিল। রোজার মাসে আবারও আমি ৫৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু করেছি। এতে কিছুটা লোকসান হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। অন্য ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সারা বছর আপনারা লাভ করেছেন। পবিত্র রমজান মাসে লাভ কম হলেও কম দামে গোশত বিক্রি করুন। এতে মানুষ খুশি হবে, আল্লাহ খুশি হবেন। এতে আপনাদের সওয়াব হবে।

কম দামে গোশত বিক্রি করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়েছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমি পরোয়া করছি না। আমি বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছি। যে যাই বলুক, আমি আমার কাজ চালিয়ে যাব। ৫৯৫ টাকা কেজি দরে গরুর গোশত বিক্রি করলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩টি গরু জবাই করতে হয়। শুরুতে লোকসান না হলেও দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন কিছুটা লোকসান হচ্ছে। তবে যতদিন পারি, এভাবে কম দামে গোশত বিক্রি চালিয়ে যাব। কম দামে গরুর গোশত বিক্রি দেখে উজ্জ্বলের সামনের দোকান শাহজালাল গোস্তবিতানও ৫৯৫ দরে বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ হলে ৫০০ টাকার কমে গোশত বিক্রি সম্ভব

আপডেট সময় : ০৭:১৭:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪

 

চামড়া যৌক্তিক মূল্যে বিক্রি এবং হাট থেকে গরু কিনে বাজারে আনা পর্যন্ত চাঁদাবাজিসহ নানা হয়রানির বন্ধ হলে ৫০০ টাকার নিচে এক কেজি গরুর গোশত বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান। সোমবার রাজধানীর মিরপুরে উজ্জ্বল গোশত বিতান পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ভোক্তার ডিজি বলেন, এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় কম দামে গোশত বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন অনেকে। অতি মুনাফা না করে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে দেশের অন্য ব্যবসায়ীরাও এমন উদ্যোগ নিতে পারেন। রোজায় কোনো ব্যবসায়ীর মাধ্যমে যেন ক্রেতারা প্রতারিত না হয়, সেজন্য সারা দেশে প্রতিদিন ৫০-এর বেশি টিম কাজ করছে। অভিযানের ফলে বাজারে শসা, লেবু ও বেগুনের দাম কমছে।

এদিকে শাজাহানপুরের আলোচিত ব্যবসায়ী খলিলের দেখানো পথে হেঁটে ৫৯৫ টাকায় গরুর গোশত বিক্রি করছেন মিরপুর ১১ নম্বরের উজ্জ্বল গোশত বিতানের উজ্জ্বল। সকাল থেকেই তার দোকানে গোশত নিতে ভিড় জমিয়েছেন অনেকে।

বেলা ১১টা থেকে গোশত বিক্রি শুরু হয়। দুপুর ১২টার মধ্যে দোকানের গরুর গোশত বিক্রি শেষ হয়ে যায়। ফলে আরো একটি জবাই করা হচ্ছিল। মিরপুর ডিওএইচএস থেকে আসা মো. আলম জানান, মিরপুরে অন্য কাজে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সারি থেকে তিনিও পাঁচ কেজি গোশত সংগ্রহ করেছেন।
আলম বলেন, মিরপুরে অন্য কাজে এসেছিলাম। কাজ শেষ করে যাওয়ার পথে পাঁচ কেজি গোশত নিলাম। এখানকার গোশত আর শুধু কম দামেই মিলছে না, চোখের সামনেই গরু জবাই করে গোশত বিক্রি করছে। এজন্য গোশত নিলাম। রোজার মাসে কম দামে গোশত বিক্রি করার ফলে এ অঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ গোশত খেতে পারছে। কম দামে গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে জেনে এক কেজি কিনতে এসেছেন কালশির আমেনা খাতুন। তিনি বলেন, সাত-আটশ টাকা কেজি দরের গোশতের ধারে কাছে যেতে পারি না। এখানে কম হওয়ায় এক কেজি কিনব।

পাশেই দাঁড়ানো আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যক্তি উজ্জ্বলের পরিবারের পরিচিত মানুষ। উজ্জ্বলকে ঘিরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে কামাল বলেন, কম দামে গোশত বিক্রি করার কারণে তিনি বেশি গোশত বিক্রি করছেন, বেশি লাভও করছেন। তার সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলছেন। এটি তার সততা ও সাহসের জন্য। তার দাদা লতিফ কসাইও গোশত বিক্রি করতেন। ১০ কেজি গোশত নিয়ে সারাদিন বসে থাকতেন, বিক্রি হতো না। উজ্জ্বল প্রতিদিন ১০-১২টা করে গরু জবাই করছেন, বিক্রি হচ্ছে।

উজ্জ্বলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ৫৯৫ টাকা কেজি দরে গোশত বিক্রি শুরু করেছি। মাঝে গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় দাম একটু বাড়াতে হয়েছিল। রোজার মাসে আবারও আমি ৫৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু করেছি। এতে কিছুটা লোকসান হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। অন্য ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সারা বছর আপনারা লাভ করেছেন। পবিত্র রমজান মাসে লাভ কম হলেও কম দামে গোশত বিক্রি করুন। এতে মানুষ খুশি হবে, আল্লাহ খুশি হবেন। এতে আপনাদের সওয়াব হবে।

কম দামে গোশত বিক্রি করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়েছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমি পরোয়া করছি না। আমি বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছি। যে যাই বলুক, আমি আমার কাজ চালিয়ে যাব। ৫৯৫ টাকা কেজি দরে গরুর গোশত বিক্রি করলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩টি গরু জবাই করতে হয়। শুরুতে লোকসান না হলেও দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন কিছুটা লোকসান হচ্ছে। তবে যতদিন পারি, এভাবে কম দামে গোশত বিক্রি চালিয়ে যাব। কম দামে গরুর গোশত বিক্রি দেখে উজ্জ্বলের সামনের দোকান শাহজালাল গোস্তবিতানও ৫৯৫ দরে বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে।